মেয়ের মৃত্যুর বেদনা ভুলে খেলবেন আসিফ

image_titleএকদিকে আনন্দ, অন্যদিকে বেদনা। পাকিস্তান ব্যাটসম্যান আসিফ আলি বিশ্বকাপ দলে শুরুতে জায়গা পাননি। কিন্তু ব্রিস্টলে অনুষ্ঠিত ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে তৃতীয় একদিনের খেলায় ৫২ রান করার পর থেকে তাকে দলে নেয়ার ব্যাপারে আলোচনা শুরু হয়েছিল। অবশেষে আসিফ পাকিস্তানের হয়ে বিশ্বকাপ খেলবেন।

এই আনন্দের সংবাদের মাঝেই খবর পেয়েছেন যে তার ১৯ মাসের কন্যা নূর ফাতিমা মারা গেছে। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়েছিল। তাকে মার্কিন মুলুকে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল। সেখানেই মারা গেছে ছোট্ট ফাতিমা। ইংল্যান্ড থেকেই আসিফ উড়ে যাচ্ছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে। তারপর আবার তিনি এ মাসের শেষেই বিশ্বকাপ খেলতে বিলেতে ফিরে আসবেন। ১৬টি একদিনের ম্যাচে আসিফের সংগ্রহ ৩৪২ রান। গড় ৩১.‌০৯।আমেরিকা রওনা হওয়ার আগে আসিফ বলে গিয়েছিলেন, ‘‌আপনারা সবাই আমার মেয়ের জন্য দোয়া করুন। আমার প্রিন্সেস যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠে।’ শেষ পর্যন্ত অবশ্য ১৯ মাস বয়সী ফাতিমাকে বাঁচানো যায়নি। আসিফকে তার কন্যার এই রোগের কথা প্রথম জানান ইসলামাবাদ ইউনাইটেডের কোচ ডিন জোন্স। এবার দ্রুত আসিফ ফিরে আসছেন ইংল্যান্ডে। পাকিস্তানি নির্বাচক ইনজামাম–উল–হক জানান, ‘‌আমাদের দরকার ছিল একজন আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যানের। এ কারণেই আসিফকে নেয়া হলো।’‌ফেরানো হলো মোহাম্মদ আমির এবং ওয়াহাব রিয়াজকেও।

ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাকিস্তানি বোলাররা মার খাওয়ার কারণেই পাকিস্তান শিবির এই দু’‌জন অভিজ্ঞ বোলারকে ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিলো। ইনজামাম জানিয়েছেন, দল ঘোষণার আগে তারা অধিনায়ক ও কোচের সঙ্গে কথা বলেই ১৫ জনের দল ঘোষণা করেছেন। ঘোষিত দল— ফাখার জামান, ইমাম–উল–হক, বাবর আজম, হ্যারিস সোহেল, আসিফ আলি, শোয়েব মালিক, মোহাম্মদ হাফিজ, সরফরাজ আহমেদ (‌অধিনায়ক)‌, ইমাদ ওয়াসিম, শাদাব খান, ওয়াহাব রিয়াজ, মোহাম্মদ আমির, হাসান আলি, শাহিনশাহ আফ্রিদি এবং মহম্মদ হাসনেন।২০১৭–র জুনে শেষ একদিনের ম্যাচ খেলা ওয়াহাব রিয়াজকে কেন বিশ্বকাপে নেয়া হলো, তার কারণ জানিয়েছেন ইনজামাম, ‘ওয়াহাব ‌রিয়াজ অভিজ্ঞ। পুরনো ও নতুন বলে স্বচ্ছন্দ। ডেথ ওভারে রিভার্স সুইং করতে পারে। ওর মতো অভিজ্ঞ একজনকে পেয়ে দল উপকৃত হবে।’‌ পাকিস্তান কোচ মিকি আর্থার মনে করেন, ০–৪ ব্যবধানে ইংল্যান্ডের কাছে গা–ঘামানোর ম্যাচগুলো হারলেও বিশ্বকাপ শুরু হওয়ার সময় তাঁর দল ভাল খেলবে। গা–ঘামানো সিরিজের ব্যর্থতা ভুলে গিয়ে পাকিস্তান যে ঘুরে দাঁড়াবে, এ ব্যাপারে তার কোনো সন্দেহ নেই। ট্রেন্টব্রিজে ১১৫ রান করার পর হেডিংলিতে বাবর আজম ৮০ রান করায় শিবিরের চেহারাটা বদলে গেছে। এমনকি অধিনায়ক সরফরাজ ৯৭ রান করায় শিবিরে চাঙ্গা ভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।এরপর আর্থার বলেছেন, ‘‌আমাদের ব্যাটসম্যানরা এখন অন্য উচ্চতায় নিজেদের নিয়ে গেছে। সমালোচকরাও বলছেন যে আমরা নাকি ২৮০ রান করতে পারি সব ম্যাচে। এমন পর্যবেক্ষণে গোটা শিবিরে বইছে আত্মবিশ্বাসের হাওয়া। আমরা এমন একটা দলের কাছে হারলাম, যারা কিনা কাপ জেতার ব্যাপারে এক নম্বর হিসেবে চিহ্নিত হয়ে গেছে। সেই দলের সঙ্গে লড়াই করে হেরে গেছি আমরা ঠিকই, তবে, আমরা ঝাঁকুনিটা খেয়ে নিজেদের অবস্থান সম্পর্কে ওয়াকিবহাল হয়ে গেছি।এছাড়া চিকেন পক্স থেকে সুস্থ হয়ে উঠেছে আমির। ফলে, সব মিলিয়ে দলে একটা তেজি ভাব এসেছে। সব চেয়ে বড় কথা, চেষ্টার কোনও ত্রুটি রাখছে না ক্রিকেটাররা। ফিল্ডিংয়ে গাফিলতি হয়েছে। ক্রিকেটাররা নিজেরাই খুশি নয়। তাই ওরা বাড়তি পরিশ্রম করতে শুরু করেছে। এ সব দেখেশুনে কোচ হিসেবে আমিও আশাবাদী যে, বিশ্বকাপে আমাদের যাত্রা শুভ হবে।’‌‌‌‌।