বিয়ে করতে অস্বীকার প্রেমিকের, ডাক্তারি ছাত্রীর ‘আত্মহত্যা’!

সম্পর্ক ছিল তিন বছরের। কিন্তু, বেশ কিছুদিন ধরেই সেই সম্পর্কে টানাপড়েন চলছিল। বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়েও কিছুদিন আগে বেঁকে বসেছিল প্রেমিক। মঙ্গলবার বিষ খেয়ে আত্মহত্যা করল প্রেমিকা। অভিযোগ, দীর্ঘদিনের মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই আত্মহত্যা করেছেন ওই তরুণী। তার বয়স হয়েছিল ২৬ বছর। ঘটনাটি ঘটেছে পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায়।পুলিশ জানিয়েছে, হাওড়ার লিলুয়ার বি রোডের বাসিন্দা ওই তরুণীর নাম সঞ্চিতা চট্টোপাধ্যায়। বেলগাছিয়া নিতাইচরণ হোমিওপ্যাথিক মেডিক্যাল কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ছিল সে। গত তিন বছর ধরেই এনআরএস-এর এক ছাত্রের সঙ্গে প্রেমের সম্পর্ক ছিল সঞ্চিতার। ছেলেটির বাড়ি উত্তর ২৪ পরগনার কাঁচড়াপাড়ায়। মেয়ের সম্পর্কের কথা জানত সঞ্চিতার পরিবারও। পুলিশের কাছে ওই পরিবার জানিয়েছে, বেশ কিছুদিন ধরেই প্রেমিকের সঙ্গে অশান্তি চলছিল সঞ্চিতার। কোনো কারণে ছেলেটি সঞ্চিতাকে বিয়ে করতে অস্বীকার করছিল। এ নিয়ে মানসিকভাবে ভেঙেও পড়েছিলেন সঞ্চিতা।পরিবার সূত্রে জানা যায়, সোমবার রাতে প্রতিদিনের মতোই কলেজ থেকে বাড়ি ফিরে নিজের ঘরে পড়তে বসেছিলেন তিনি। ফোনে কথা বলছিলেন প্রেমিকের সঙ্গে। এই সময়েই অশান্তি চরমে পৌঁছলে ফোনে কথা বলতে বলতেই বিষ খান তিনি। টলমল পায়ে কোনো রকমে ঘরের বাইরে বেরিয়ে এসে বাবা-মায়ের সামনেই ঢলে পড়েন মাটিতে। সঙ্গে সঙ্গেই তাঁকে হাওড়া জেলা হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে কলকাতার এসএসকেএম-এ স্থানান্তরিত করা হয় সঞ্চিতাকে। কিন্তু গাড়ির মধ্যে মাঝ রাস্তাতেই মৃত্যু হয় সঞ্চিতার। এর পরেই লিলুয়া থানায় অভিযোগ দায়ের করে সঞ্চিতার পরিবার।পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সঞ্চিতার বাবা উত্তম চট্টোপাধ্যায় পেশায় পুরোহিত। সঞ্চিতা ছাড়াও আরো এক মেয়ে এবং এক ছেলে রয়েছে উত্তম বাবুর। সঞ্চিতার ভাই একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করেন। মূলত তাঁর আয়ের টাকাতেই সংসার চলে সঞ্চিতাদের। ছোট থেকেই পড়াশোনায় ভালো ছিলেন সঞ্চিতা। অভাবের সংসারেও কষ্ট করে হোমিওপ্যাথি নিয়ে ভর্তি হয়েছিলেন তিনি। কিন্তু সেই স্বপ্ন অধরাই থেকে গেল। আনন্দবাজার