দূত সম্মেলনের উদ্যোগ

আগামী ৭ নভেম্বর থেকে ৯ নভেম্বর পর্যন্ত এই সম্মেলন হবে বলে মঙ্গলবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে এই মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় কমিটিকে জানানো হয়েছে।সংসদ ভবনে বৈঠকের পর সংসদীয় কমিটির সদস্য মুহাম্মদ ফারুক খান সাংবাদিকদের বলেন, এই কমিটির আগের বৈঠকেই এ ধরনের সম্মেলন আয়োজনের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে তাগিদ দেওয়া হয়েছিল।বিভিন্ন দেশে বাংলাদেশের কূটনীতিকদের এই সম্মেলনে উপস্থিত থাকতে ইতিমধ্যে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।অন্যান্য দেশের কাছে রোহিঙ্গাদের বিষয়ে বাংলাদেশের অবস্থান তুলে ধরতে দিক-নির্দেশনা দেওয়া হবে বলে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা সংসদীয় কমিটিকে জানিয়েছেন।মিয়ানমারের সাম্প্রতিক সহিংসতার পর ৩ লাখের বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে ঢুকেছে। আগের ও এখনকার মিলিয়ে বাংলাদেশে শরণার্থীর সংখ্যা ৭ লাখ ছাড়িয়েছে।এই রোহিঙ্গাদের ফেরত নিতে মিয়ানমারকে আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টির জন্য সোমবারই সংসদে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়।ফারুক খান বলেন, “রোহিঙ্গা সমস্যার পাশাপাশি বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক, ব্যবসা-বাণিজ্য, প্রবাসী শ্রমিকদের কল্যাণসহ সামগ্রিক বিষয়ে বর্তমান সরকারের নীতি ও অবস্থান, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে দূতাবাসগুলোর ভূমিকা পর্যালোচনা হবে এই সম্মেলনে।“এসব ক্ষেত্রে কোথাও কোনও দুর্বলতা থাকলে তা চিহ্নিত করা হবে এবং প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা দেওয়া হবে।”বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশের কূটনৈতিক মিশনগুলোর ‘কিছু দুর্বলতা’ নিয়ে অনেক আগে থেকেই আলোচনা চলছিল বলে জানান তিনি।২০১২-১৩ সালে এই ধরনের সম্মেলনের চিন্তা করা হলেও তা বাস্তবে রূপ নেয়নি। প্রতিবেশী দেশ ভারত ও পাকিস্তানে কূটনীতিকদের নিয়ে প্রয়াই এধরনের সম্মেলন হয়।ফারুক খান বলেন, “প্রথমবারের মতো অনুষ্ঠিত এই সম্মেলনকে ঘিরে মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি সম্পর্কেও কমিটিকে অবহিত করা হয়েছে।”তিনদিনের এই সম্মেলনে ১০টি অধিবেশন থাকবে।সম্মেলনের স্থান নির্ধারণ এখনও চূড়ান্ত হয়নি। একাধিক স্থান নিয়ে আলোচনা হচ্ছে।আসন্ন জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের আলোচনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বক্তব্যসহ পুরো কর্মসূচি নিয়ে সংসদীয় কমিটির বৈঠকে আলোচনা হয়।পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশ সরকারের অবস্থান জোরালোভাবে তুলে ধরাসহ নারীর ক্ষমতায়ন, জাতিসংঘের শান্তি রক্ষা মিশনে বাংলাদেশের অবদান ও জলবায়ু পরিবতর্নের প্রভাবে বাংলাদেশের ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়গুলো প্রাধান্য পাবে।সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, কমিটি ১৯৭১ গণহত্যা বিষয়ে তথ্যসূত্র উল্লেখপূর্বক সংক্ষিপ্ত পুস্তিকা ও ডকুমেন্টারি প্রস্তুত করে বিদেশের প্রতিটি বাংলাদেশ মিশনে পাঠানোর সুপারিশ করা হয়।কমিটির সভাপতি দীপু মনির সভাপতিত্বে বৈঠকে ফারুক খান ছাড়াও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলম, গোলাম ফারুক খন্দকার প্রিন্স, সোহরাব উদ্দিন, কাজী নাবিল আহমেদ, রাজী মোহাম্মদ ফখরুল, সেলিম উদ্দিন ও মাহজাবিন খালেদ অংশ নেন।