জাজের নায়িকা সমাচার

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়ার হাত ধরে ঢাকাই চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়েছিল অনেক নায়িকার। এই তালিকাটা করলে বেশ কয়েকজন নায়িকার নাম আসবে যারা বর্তমানে পর্দা কাঁপাচ্ছেন। মাহিয়া মাহি, নুসরাত ফারিয়া, জলি ছাড়াও এই তালিকায় বেশ কয়েকজনের নাম আসবে। এই সব হিসেব কষে নায়িকাদের টুকটাক খবর নেওয়া হলো…মাহিয়া মাহী ২০১২ সালে ‘ভালবাসার রং’ সিনেমার মাধ্যমে জাজ মাল্টিমিডিয়ার যাত্রা শুরু। মাহির শুরুটাও সে ছবির মাধ্যমে। এরপর টানা জাজের সিনেমায় অভিনয় করেন মাহি। ‘ভালবাসার রং’ সিনেমাটি মুক্তির পরের বছর ২০১৩ সালে তাঁর চারটি চলচ্চিত্র মুক্তি পায়। অন্যরকম ‘ভালবাসা’, ‘পোড়ামন’, ‘ভালবাসা আজকাল’, এবং ‘তবুও ভালবাসা’ ছবিগুলো ব্যবসাসফল হয়। ২০১৪ সালে ‘অগ্নি’ এবং ‘দেশা- দ্য লিডার’ চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছেন। যৌথ প্রযোজনার ছবি ‘রোমিও ভার্সেস জুলিয়েট‘ও ভালো ব্যবসা করে।একটা সময়ে জাজের সঙ্গে নানা জটিলতার সূত্রে সম্পর্কের ইতি হয় মাহির। এখন পর্যন্ত জাজের সেরা আবিষ্কার বলা চলে মাহিকে। জাজ ও মাহির জনপ্রিয়তা যেন একই সরলরেখায় চলেছে একটা সময়। জাজ থেকে বের হওয়ার পর মাহি আর ঘুরে দাড়াতে পারেনি। তবে তাঁর চেষ্টায় ত্রুটি নেই। মাঝে বিয়ে নিয়ে বেশ ঝামেলা পোহাতে হয়। আব্দুল আজিজের সঙ্গে প্রেমের গুঞ্জন থেকে শুরু করে নানা রকম রটনা রটে।নুসরাত ফারিয়াউপস্থাপনা ও মডেলিংয়ে যখন ভালো অবস্থান গড়ছিলেন তখনই সিনেমায় নাম লেখালেন। মাহির চলে যাওয়ার পর জাজ নতুন কাউকে খুঁজছিল। ২০১৫ সালে সে হিসাবে দুই নতুন মুখকে পরিচয় করিয়ে দেয় এ প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান। যৌথ প্রযোজনার ‘আশিকী’ সিনেমার মাধ্যমে ফারিয়ার অভিষেক। এখন পর্যন্ত এ ব্যানারের অধিনেই ফারিয়ার পাঁচটি সিনেমা মুক্তি পেয়েছে। অচিরেই যে ফারিয়া এ ব্যানার থেকে সরে যাচ্ছে না। তা আঁচ করা যায়। ফারিয়া বর্তমানে জিৎ এর সঙ্গে নতুন একটি সিনেমার শুটিংয়ে ব্যস্ত। নায়ক প্রধান সিনেমায় অভিনয় করে ফারিয়া খুব বেশি প্রশংসা কুড়াতে এখন পর্যন্ত সক্ষম হয়নি।জলিফারিয়ার চেয়ে অনেকটাই পিছিয়ে আছে জলি। যদিও তাঁদের শুরুটা হয়েছিল একই সময়। এখন পর্যন্ত এই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের হয়ে ‘অঙ্গার’, ‘নিয়তি,‘মেয়েটি এখন কোথায় যাবে’ নামে মুক্তি পাওয়া তিনিটি ছবিতে অভিনয় করেছে। জলি অভিনীত সব সিনেমাই ফ্লপের তালিকায়। তাই তিনি আছেনও অবহেলিত। জাজের তুলনামূলক কম বাজেটের সিনেমায় তাঁকে দেখা গেছে। জাজও তাঁকে নিয়ে ভরসা হারিয়ে ফেলেছে। তাইতো হাত ছেড়ে দিয়েছে বলা চলে। জাজের বাইরে গিয়ে ‘ডেঞ্জার জোন’ নামে একটি সিনেমায় অভিনয় করছেন।ফারিন খানফারিয়া ও জলির পর নতুন নায়িকা ফারিনকে নিয়ে আসে জাজ। মডেলিংয়ের অভিজ্ঞতা ছিল। ‘ধ্যাততেরিকি’ সিনেমা দিয়ে অভিষেক। এখন পর্যন্ত এই একটি সিনেমাতেই অভিনয় করেছেন। তার নতুন কোনো খোঁজ নেই। প্রথম ছবিতে আহামরি কোনো চরিত্র ছিল না তার।পূজা চেরিপূজা চেরি কিছুদিন আগেও শিশুশিল্পী হয়ে অভিনয় করেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রে, নাটক আর চলচ্চিত্রে। এবার তিনি চলচ্চিত্রে অভিনয় করছেন; তবে শিশুশিল্পী নয়, ছবিতে তিনিই নায়িকা। ছবির নাম ‘নূর জাহান’। বাংলাদেশ থেকে প্রযোজনা করছে জাজ মাল্টিমিডিয়া আর ভারত থেকে রাজ চক্রবর্তী প্রোডাকশন। এর আগে জাজ থেকে ঘোষণা এসেছিল ‘পোড়ামন ২’, ‘পোড়ামন’ ছবির সিক্যুয়াল এর নায়িকা হবেন তিনি। তবে সে সিনেমার শুটিং এখনো শুরু হয়নি। পূজাকে নিয়ে অনেকেই আশাবাদ ব্যক্ত করেছে। সময়ই বলে দিবে , অগ্নি সিনেমায় মাহির ছোটবেলার চরিত্রে অভিনয় করা পূজা বড় হয়ে নিজের জায়গা পোক্ত করতে পারবে কিনা?এছাড়াও জাজের হয়ে কাজ করেছিলেন পরীমনি। তবে ‘রক্ত ‘ ছাড়া তাঁকে আর কোনো সিনেমায় দেখা যায়নি। তবে জাজের বিরুদ্ধে যৌথ প্রযোজনা নিয়ে প্রতিবাদ করাতে প্রথম লাইনে দেখা গেছে। জাজের ঘরে বর্তমানে নিয়মিত হচ্ছে বিদ্যা সিনহা সাহা মীম ও পিয়া বিপাশারাও। শোনা যাচ্ছে তানজিন তিশাও জাজের ছবিতে অভিনয় করবেন। জাজের কর্নধর আব্দুল আজিজের সঙ্গে তাকে দেখা গেছে।নায়িকাদের নিয়ে জাজের কর্নধর আব্দুল আজিজ বলেন, ‘একজন নায়িকা বা নায়ককে হতে হবে কমপ্যাক্ট। তার মধ্যে সবগুণ থাকতে হবে। তাহলেই সে স্টারের তকমা পাবে। নিজেকে সেভাবেই গড়ে তুলতে হবে। এই যেমন মাহিকে আমরা নতুন নিয়ে আসলাম। মাহির অনেক বিজ্ঞাপনের অফার ছিল। কিন্তু আমাদের ঘরে থাকা অবস্থায় তা করতে দেইনি। এখন হয়তো মাহি অনেক কাজ করছে। বড় পর্দা থেকে কিন্তু সে এই মুহূর্তে হারিয়ে যাচ্ছে। যাকে ফ্রিতে দেখা যায় দর্শক কেন টাকা দিয়ে তাঁকে সিনেমায় দেখবে। ফারিয়াকে বড় পর্দায় আনার আগে কমপক্ষে ছয়মাস টিভিতে কাজ করতে দেইনি। যেন টিভির দর্শক তার মুখ ভুলে যায়। আমরা নতুন যাদের নিয়ে আসছি তাঁদের পিছনে অর্থ পরিশ্রম ব্যয় করি। তারপর তাঁকে সিনেমায় নিয়ে আসি। সেক্ষেত্রে কিছু চুক্তি থাকে। এই সময়ের মধ্যে অন্য কোথাও কাজ করতে পারবে না। কারণ আমরা কষ্ট করে সিনেমার উপযোগী একজন তৈরি করব। সে হুট করে একটা মানহীন কাজ করে আমাদের মানটা নষ্ট করবে এটা তো হতে পারে না। আমাদের এখানে দু ধারা শিল্পী কাজ করেন। কিছু আছে যাদের সঙ্গে কথাই থাকে সে অন্য কোথাও কাজ করতে পারবে। আমরা যে প্রজেক্টের জন্য পছন্দ করব। শুধু ওটার জন্যই চুক্তি থাকবে। আসলে একটা বিষয় সবার খেয়াল করা উচিত। লোভ সামলাতে হবে। লোভে পড়ে একটা মানহীন কাজ করে ফেললে নিজের ক্যারিয়ার নিজে নষ্ট করবে।‘