মিয়ানমার থেকে সরাসরি জাহাজ পৌঁছছে চট্টগ্রামে

মিয়ানমার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের দূরত্ব একেবারে কাছে হলেও এত দিন দ্রুত পণ্য আনার সুযোগ ছিল না। কনটেইনারে পণ্য আসত দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে সিঙ্গাপুর বন্দর হয়ে। এতে সময়ও ব্যয় দুটিই বেশি লাগত। এখন সরাসরি জাহাজ সার্ভিস চালু করেছে বিদেশি শিপিং কম্পানি ওরিয়েন্ট এক্সপ্রেস লাইন (ওইএল)। জুলাই মাস থেকে কম্পানিটি দুটি জাহাজে সপ্তাহে তিন দিন জাহাজে পণ্য পরিবহন করছে। মূলত মিয়ানমার থেকে সরকারি চাল পরিবহন করতে গিয়ে বেশ সাড়া পায় ওইএল। এরপর নিয়মিত সার্ভিস রূপ দেওয়ার উদ্যোগ নিচ্ছে। যদিও তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে চালুর ঘোষণা দেয়নি।জানতে চাইলে ওইএল বাংলাদেশের স্থানীয় এজেন্ট জিবিএক্স লজিস্টিকসের হেড অব অপারেশন মুহাম্মদ মুনতাসির রুবাইয়াত বলেন, ‘মিয়ানমার থেকে সরকারি চাল পরিবহন করতে এই সার্ভিস চালু করেছি। কোনো প্রচারণা ছাড়াই বেসরকারি কিছু আমদানিকারক আমাদের সার্ভিসে জাহাজে চাল আনার সুযোগ নিচ্ছে, আর চট্টগ্রাম বন্দর ছেড়ে যাওয়ার সময় রপ্তানি পণ্য বিশেষ করে ওষুধ, টিস্যু পেপার ও কোমল পানীয় ও জুস নিয়ে যাচ্ছে। ’ চট্টগ্রাম-মিয়ানমার রুট যথেষ্ট সম্ভাবনাময় উল্লেখ করে তিনি বলেন, এত দিনে মিয়ানমার থেকে যে পণ্য সিঙ্গাপুর হয়ে আসত সেটি সরাসরি চট্টগ্রাম পৌঁছছে মাত্র দুই দিনে। আর প্রতি কনটেইনার পণ্য পরিবহনে মাসুল মাত্র ৪০০ ইউএস ডলার। ডিসেম্বর পর্যন্ত পর্যবেক্ষণের পর এটিকে নিয়মিত সার্ভিস হিসেবে চালু করার উদ্যোগ নেবে।জানা গেছে, চট্টগ্রাম বন্দর থেকে মিয়ানমারের ইয়াঙ্গুন সমুদ্রবন্দরের সমুদ্রপথের দূরত্ব ৮৩১ নটিক্যাল মাইল। এই দূরত্ব পাড়ি দিয়ে এই কনটেইনার জাহাজ মাত্র দুই দিনে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছে যাচ্ছে। অথচ এত দিন মিয়ানমারের পণ্য প্রথমে ১৩৪২ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে সিঙ্গাপুর যেত। সেখানে আরেকটি জাহাজে তুলে সেখান থেকে ১৮৬৬ নটিক্যাল মাইল পাড়ি দিয়ে চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছত। এতে অন্তত ট্রান্সশিপমেন্টসহ সময় লাগত কমপক্ষে ৯ দিন।শিপিং লাইন সূত্রে জানা গেছে, ওইএল কম্পানি দুটি জাহাজ ‘বিএলপিএল ট্রাস্ট’ ও ‘ওইএল মালয়েশিয়া’ নামে এই রুটে পণ্য পরিবহন করছে। সরকারি চাল নিয়ে আসায় চট্টগ্রাম বন্দরে এই জাহাজ অগ্রাধিকারভিত্তিতে জেটিতে বার্থিং পাচ্ছে। আবার চট্টগ্রাম থেকে রপ্তানি পণ্য নিচ্ছে। এ পর্যন্ত আটটি জাহাজে করে গ্লোব ফার্মাসিউটিক্যালসের ওষুধ, প্রাণ গ্রুপের ফ্রুট ড্রিংকস, টিস্যু পেপার ও স্টিল কয়েল রপ্তানি হয়েছে।অনেক আমদানিকারক মিয়ানমার থেকে খোলা জাহাজে চাল আমদানি করলেও ওইএল সার্ভিসের জাহাজে চাল এনেছেন ভোগ্য পণ্যের বড় আমদানিকারক বিএসএম গ্রুপ। বিএসএম গ্রুপের কর্ণধার আবুল বশর চৌধুরী বলেন, ‘এই সার্ভিসে খুব দ্রুত পৌঁছে যায়, বৃষ্টির সময়ে কোয়ালিটিও অটুট থাকে। তবে পরিবহন ভাড়া কমেনি। আর চট্টগ্রাম বন্দরে জাহাজ থেকে বেসরকারি অফডকে নিয়ে চাল খালাস করে গুদামে নেওয়াটা একটু সময়সাপেক্ষ। ’উল্লেখ্য, ২০১৫ সালের জুন মাসে মিয়ানমারের পণ্য চট্টগ্রাম বন্দর হয়ে ভারতের চেন্নাই, কোচিন ও নভোসেবা বন্দরে নিতে একটি সার্ভিস চালু মিনশেং লাইন নামের বিদেশি কম্পানি। সেটি ছিল ট্রান্সশিপমেন্ট পণ্য। এই পণ্য পরিবহনে যথেষ্ট সাড়া পেলেও অভ্যন্তরীণ জটিলতার কারণে সেটি মাঝপথে বন্ধ হয়ে যায়।ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিয়ানমার থেকে প্রচুর পণ্য দেশে আসে। এর মধ্যে অনেক পণ্য টেকনাফ স্থলবন্দর হয়ে সড়কপথে ট্রাকে করে চট্টগ্রাম পৌঁছে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ অনেক বেশি হয়। আর কিছু আমদানিকারক খোলা জাহাজ ভাড়া করে সরাসরি চট্টগ্রাম বন্দরে নিয়ে আসে। পুরো জাহাজ ভাড়া করতে হয় বলে ছোট আমদানিকারকের পক্ষে সেই সুযোগ নেওয়া সম্ভব হয় না।