আমি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের আধুনিক ইসলাম সমর্থন করি আল কারনি

আন্তর্জাতিক ডেস্কআরটিএনএনরিয়াদ: সৌদি আরবের বিখ্যাত ইসলাম গবেষক, লেখক ড. আইদ আল কারনি সম্প্রতি একটি আলোচনা অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে ইসলামের কট্টর ব্যাখ্যা দেয়ার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছেন এবং আধুনিক ইসলাম প্রতিষ্ঠা করার আহ্বান জানিয়েছেন। এর পূর্বে তিনি ইসলাম ধর্মের অনেক কট্টর ব্যাখ্যা দিয়ে আলোচনায় এসেছিলেন যার ফলে দেশটিতে তাকে নিয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম হয়েছিল।আল কারনি সৌদি টেলিভিশন টক শো আল লিয়াওয়ান এ উপস্থিত হয়ে বলেন, ‘ইসলাম সম্পর্কে দেয়া আমার অযৌক্তিক ব্যাখ্যা এবং উগ্রপন্থী ফতোয়া দেয়ার জন্য আমি সৌদি আল শাওয়া সমাজের প্রতি দুঃখ প্রকাশ করছি।’আল শাওয়া আন্দোলন সৌদি আরবে মুসলিম ব্রাদারহুড় থেকে বিভক্ত হয়ে যাওয়া একটি রাজনৈতিক দল।

তারা সরকার ব্যবস্থায় ধর্ম নেতাদের আরো বেশী করে সম্পৃক্ত করা এবং পশ্চিমা সংস্কৃতির প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য সমাজ কে আরো বেশী রক্ষণশীল করার পক্ষে মতামত দিয়ে থাকে।একই সাথে তারা মুসলিম ভূমি সমূহে যুক্তরাষ্ট্রের সেনা উপস্থিতির বিরোধিতা করে থাকে।আল কারনি বলেন, ‘আমাদের ধর্ম একটি শান্তি, নিরাপদ এবং দয়ার ধর্ম। সৃষ্টিকর্তার প্রতি অশেষ ধন্যবাদ যে, আমরা এসমস্ত কিছু আমাদের ধর্মের পবিত্র বাণী এবং গবেষকদের ব্যাখ্যার মাধ্যমে এসব জানতে পেরেছি। আপনি কোনো ভাবেই আমার ২৪ থেকে ২৬ বছর বয়সের আদর্শ কে বর্তমানের আদর্শের সাথে তুলনা করতে পারবেন না।’‘বর্তমানে আমি ৪০টি দেশে ভ্রমণ করেছি এবং হাজার হাজার বই অধ্যয়ন করেছি। আমি একই সাথে অনেক বিজ্ঞ লোক, গবেষক এবং বুদ্ধিজীবীদের চিন।’আল কারনি বলেন, বর্তমানে তিনি সৌদি ক্রাউন প্রিন্স মোহাম্মদ বিন সালমানের প্রচারিত আধুনিক ইসলামের সমর্থন করেন।আল কারনি কাতারের সৌদি বিরোধী অবস্থানের ব্যাপক সমালোচনা করেনআল কারনি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে কাতারের সাথে তার সম্পর্ক থাকার বিষয়ে দুঃখ প্রকাশ করেন এবং কাতার কে সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার দায়ে অভিযুক্ত করেন।৫৯ বছর বয়সী আল কারনি কে প্রায়শ: কাতার ভিত্তিক টেলিভিশন চ্যানেল আল-জাজিরার ধর্মীয় অনুষ্ঠানে দেখা যায়।চলতি সপ্তাহে সৌদি টেলিভিশন চ্যানেল রতানা খালিজা কে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এই ধর্ম বিশ্লেষক আল জাজিরার সমালোচনা করে একে কাতার ছাড়া অন্যান্য স্থানে কথা বলার স্বাধীনতা রক্ষার সাথে সংশ্লিষ্ট বলে অভিযুক্ত করেন।আল কারনি একই সাথে বলেন যে, কাতার সৌদি আরবের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত এমনটি জানার পরে তিনি দেশটির সাথে তার সম্পর্ক ছেদ করেছেন।প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের জুন মাসে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন এবং মিশর যৌথ ভাবে কাতারের সাথে কূটনৈতিক এবং সকল ধরনের যোগাযোগ ব্যবস্থা ছিন্ন করে।সূত্র: গাল্ফনিউজ ডট কম।।