মাংস খেয়ে দাঁতের ক্ষতি ?

কোরবানির ঈদে নিঃসন্দেহে সবচাইতে বেশি খাওয়া হয় গরু এবং খাসির মাংসের মতো রেড মিটগুলো। এসব রেড মিট খাওয়াতে উচ্চ রক্তচাপ, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, বদহজম, অ্যালার্জি ইত্যাদি সমস্যার পাশাপাশি আরেকটি সমস্যা বাড়ে, আর তা হলো দাঁতের সমস্যা। কোরবানির ঈদে মাংস খেয়েও দাঁত সুস্থ রাখতে কী কী করতে পারেন?১) টুথপিক বা কাঠি এই ঈদে মাংস খাওয়ার পর অনেকেরই দাঁতের ফাঁকে মাংস ঢুকে যায় আর তা বের করার জন্য অনেকেই ব্যবহার করেন টুথপিক বা কাঠি। যা কখনোই ব্যবহার করা উচিৎ নয় বলে জানান ডাঃ গোলাম হাসিব। কারণ কাঠি ব্যবহার করলে দুই দাঁতের মাঝে ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়, যার কারণে পরবর্তীতে সেখানে আরও বেশি খাবার জমা হয়। কাঠি বা টুথপিক ব্যবহারে দাঁতের মাঝে থাকা মাড়িতে ক্ষত হতে পারে, রক্তক্ষরণ হতে পারে, মাড়িতে ব্যথা হতে পারে, সবচেয়ে বড় কথা দুই দাঁতের মাঝখানের মাড়ি টুথপিক বা কাঠির চাপে দেবে যেতে পারে। এসব কারণে অবশ্যই সকলের উচিৎ দাঁতে আটকে থাকা খাবার বের করতে ডেন্টাল ফ্লস বা সুতো ব্যবহার করা । ২) হাড় চিবিয়ে খাওয়া হাঁস-মুরগীর মাংস খেতে গিয়ে অনেকেই হাড় চিবিয়ে থাকেন। কিন্তু সেই একই কাজ গরু বা খাসির হাড়ের ক্ষেত্রে ভুলেও করতে যাবেন না। এসব হাড় অতিরিক্ত শক্ত হয়ে থাকে। এগুলো চিবিয়ে খেতে গেলে দাঁতে ফ্র্যাকচার হতে পারে (ভেঙ্গে যেতে পারে বা চিড় ধরতে পারে) যার দরুন দাঁতে ব্যথা বা শিরশির করতে পারে। এমনকি দাঁতের শিকড়ে ইন্টারনাল ব্লিডিং হতে পারে, যার থেকে দাঁতে পচন ধরতে পারে। সুতরাং দাঁতের যত্নে গরু-খাসির অতিরিক্ত শক্ত হাড় চিবিয়ে খাওয়া থেকে বিরত থাকুন।৩) মুখের দুর্গন্ধ ঈদের সময়ে কারো কারো মুখে দুর্গন্ধ সৃষ্টি হতে পারে। আপনি যদি খেয়াল করেন যে আপনার মুখে দুর্গন্ধ হচ্ছে, তাহলে সম্ভবত দাঁতের ফাঁকে ফাঁকে মাংস বা অন্য কোনো খাবারের ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা আটকে রয়েছে, এছাড়াও আরো অনেক কারণ থাকতে পারে। দাঁত ভালোভাবে পরিষ্কার করুন এবং মুখের দুর্গন্ধ দূর করতে মাউথওয়াশ ব্যবহার করুন। এক্ষেত্রে ডেন্টাল ফ্লস সঠিক উপায়ে ব্যবহার করতে হবে। ওপর-নিচ বরাবর ফ্লস ব্যবহার করুন, ডান-বাম বরাবর না। কারণ ডানে-বামে নাড়াচাড়া করলে মাড়ি কেটে যেতে পারে।এসব টিপস অনুসরণ করলে নিরাপদ থাকবে আপনার দাঁত। এর পাশাপাশি অবশ্যই দিনে ২ বার দাঁত পরিষ্কার রাখুন এবং প্রতিবার খাবার আগে ও পরে কুলি করে ফেলুন। পানি পান করুন বেশি করে, এতে মুখ পরিষ্কার থাকবে, মাংস হজমও হবে সহজে। আর প্রতি ৬ মাস পর পর দাঁতের ডাক্তারের কাছে চেকআপ করাতে ভুলবেন না।