আপনাদের অবহেলায় ঢাকা বসবাসযোগ্য হচ্ছে না

image_titleঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তাদের (সিইও) উদ্দেশে হাইকোর্ট বলেছে, ঢাকা শহরকে বসবাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে আপনাদের অবহেলা রয়েছে। কিছু দিন পরপর ভালো সড়ক বিভাজকগুলো ভেঙে নতুন করে তৈরি করছেন। এত ভাঙাভাঙি কেন? আদালত বলে, নগরবাসীর কাছ থেকে প্রচুর টাকা কর নেন, কিন্তু সেই তুলনায় পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা আপনারা তাদের দিচ্ছেন না। বায়ু দূষণ সংক্রান্ত মামলার শুনানিতে বিচারপতি এফ আর এম নাজমুল আহাসান ও বিচারপতি কে এম কামরুল কাদেরের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের ডিভিশন বেঞ্চ গতকাল বুধবার এ মন্তব্য করেন।

এদিকে, তলব আদেশে গতকাল হাইকোর্টে হাজির হন দক্ষিণ সিটির সিইও মোস্তাফিজুর রহমান এবং উত্তরের আব্দুল হাই। তাদের উদ্দেশে হাইকোর্ট বলে, আপনারা প্রজাতন্ত্রের কর্মকর্তা। আপনার, আমার ও সকলের বেতন হয় জনগণের করের টাকায়। সরকারি রীতি-নীতি ও আইন মেনে না চললে আপনাদের জবাবদিহি করতে হবে। জবাবদিহির ঊর্ধ্বে কেউ নন। আদালত আরো বলে, একটু বৃষ্টি হলেই ঢাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। দেশ স্বাধীনের পর ৫০ বছর হতে চলল, তারপরেও যদি সবকিছু সঠিকভাবে না চলে, শহরটিকে বসবাসযোগ্য করা না যায়— তাহলে কেমনে হবে। শুধু ধুলার দূষণ রোধে পানি ছিটালেই হবে না, শহরের সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনাটাও জরুরি।‘মশা নিধনে এখনই পদক্ষেপ নিন’হাইকোর্ট বলে, মশা নিধনে এখনই আপনাদের পদক্ষেপ নেওয়া উচিত। যদি সেটা করতে ব্যর্থ হন তাহলে ডেঙ্গু, চিকনগুনিয়া আক্রান্ত হবে নগরবাসী। ভবিষ্যত্ প্রজন্মের জন্য এই ঢাকাকে বসবাসযোগ্য করতে হবে। উত্তর সিটির সিইওর উদ্দেশে আদালত বলে, আপনি তো পশ এরিয়ার দায়িত্বে। সেখানে বিদেশি দূতাবাসগুলো আছে। এই এলাকার সড়কগুলো যেন আবর্জনামুক্ত থাকে সেটা আপনাকে খেয়াল রাখতে হবে। আদালত বলে, প্রয়াত মেয়র আনিসুল হক অনেক ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন। আমরা আশা করছি, বর্তমান মেয়র সেগুলো এগিয়ে নেবেন।

এক মাস সময় পেলেন দুই সিইও।