কলুষতাকে বলি দেওয়া ও ত্যাগের শিক্ষার ঈদ

ত্যাগের আহ্বান নিয়ে এসেছে ঈদুল আজহা,যে উৎসবে পশু কোরবানির মধ্য দিয়ে নিজের ভেতরের কলুষতাকে বলি দেওয়া ইসলামের শিক্ষা।ঈদে দেশবাসীকে শুভেচ্ছা জানিয়ে কোরবানির ত‌্যাগের শিক্ষা ব‌্যক্তি ও সমাজ জীবনে কাজে লাগানোর আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মো.আবদুল হামিদ। গত বছর ঈদুল ফিতরে শোলাকিয়ায় হামলার প্রেক্ষাপটে ধর্মের অপব‌্যাখ‌্যাকারীদের বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।কোরবানির ত‌্যাগের মর্ম অন্তরে ধারণ করে দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।আত্মোৎসর্গের মনোভাব নিয়ে দেশবাসী ঈদুল আজহা পালন করবে বলে প্রত্যাশা করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ।বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া সবার প্রতি হিংসা-বিদ্বেষ ভোলার আহ্বান জানিয়েছেন।শনিবার বাংলাদেশে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। তবে সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে শুক্রবারই বিচ্ছিন্নভাবে কয়েকশ গ্রামে ঈদ উদযাপিত হয়।মুসলমানদের এই ধর্মীয় উৎসব বাংলাদেশে পরিচিত কোরবানির ঈদ নামে। এবার, চাকরিজীবীরা বাড়তি কোনো ছুটি পাননি।এবার সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে ঈদের ছুটি মিলে যাওয়ায় অনেকেই আশা করছিলেন, হয়ত সরকারের পক্ষ থেকে শেষ মুহূর্তে নির্বাহী আদেশে ঈদের ছুটি বাড়ানো হবে। তবে তাদের আশা পূরণ হয়নি।রাজধানীতে থাকা লাখ লাখ মানুষ গত কয়েকদিনে চলে গেছেন গ্রামে আত্মীয়-স্বজনদের সঙ্গে ঈদ করতে। ফলে ঢাকা এখন অনেকটাই ফাঁকা।এবার ঈদযাত্রায় বরাবরের মতো ভোগান্তি থাকলেও বড় কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি। ট্রেন ও লঞ্চ চলাচল নিয়ে মানুষের সন্তুষ্টি দেখা গেলেও সড়ক পথে যানজট নিয়ে অভিযোগ ছিল অনেকের।বরাবরের মতো এবারও দেশের প্রধান ঈদ জামাত হবে ঢাকার জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে, সকাল ৮টায়। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিপরিষদের সদস‌্যসহ গুরুত্বপূর্ণ ব‌্যক্তিরা সেখানে ঈদের নামাজ পড়বেন।জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমে হবে সকাল ৭টা থেকে ১১টা পর্যন্ত পাঁচটি জামাত হবে।জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সকাল সাড়ে ৭টায় ঈদের জামাত হবে।ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে সকাল ৮টা ও ৯টায় দুটি জামাত হবে।ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকায় ২২৮টি জায়গায় এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১৮০টি স্থানে ঈদ জামাত হবে।প্রতিবারের মতো এবারও দেশের বৃহত্তম ঈদ জামাত হবে কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়া ঈদগাহ ময়দানে। জঙ্গি হামলার পর নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে প্রস্তুতিও সম্পন্ন হয়েছে।ঈদের দিন সকালে নামাজের পর সবাই ব‌্যস্ত হয়ে যাবেন পশু কোরবানি করতে। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির বর্জ্য পরিষ্কারের ঘোষণা দিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কার্পোরেশনের মেয়র সাঈদ খোকন।ঈদের সারা দিনই বৃষ্টি হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।এবার শুরুতে রাজধানীর পশুর হাটগুলোতে গরুর দাম বেশি বলে ক্রেতাদের অভিযোগ থাকলেও ঈদের আগের দিন ব্যবসা হয়েছে জমজমাট।যত্রতত্র কোরবানির পশু জবাইয়ের কারণে পরিবেশ দূষণ এড়াতে রাজধানীতে ১ হাজার ১৭৪টি স্থান নির্ধারণ করে দিয়েছে দুই সিটি করপোরেশন। এর মধ্যে দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ৬২৫টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশনে ৫৪৯টি স্থান।ঈদের বাণীতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির পরিবেশ ধরে রাখতে দেশবাসীর প্রতি আহ্বান জানান।তিনি বলেন,“কোরবানির মর্ম অনুবাধন করে সমাজে শান্তি ও কল্যাণের পথ রচনা করতে আমাদের সংযম ও ত্যাগের মানসিকতায় উজ্জীবিত হতে হবে। প্রসারিত করতে হবে আমাদের কর্ম ও চিন্তায়।”“ধর্মের অপব্যাখ্যা করে স্বার্থান্বেষী মহল যাতে সমাজে অশান্তি ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে না পারে সে ব্যাপারে সকলকে সজাগ থাকতে হবে,” বলেন আবদুল হামিদ।প্রধানমন্ত্রী তার বাণীতে দেশবাসীকে ঈদের শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেছেন, “আসুন, আমরা সকলে পবিত্র ঈদুল আযহার মর্মবাণী অন্তরে ধারণ করে নিজ নিজ অবস্থান থেকে জনকল্যাণমুখী কাজে অংশ নিয়ে বৈষম্যহীন সুখী, সমৃদ্ধ ও শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ে তুলি।”বিরোধীদলীয় নেতা রওশন এরশাদ বলেছেন,“ পশু কোরবানির ভেতর দিয়ে মানুষের ভেতরের পশুশক্তি, ক্রোধ, লোভ, মোহ, পরনিন্দা, পরশ্রীকাতরতাসহ প্রভৃতি রিপুকেই কোরবানি দিতে হয়।”লন্ডনে অবস্থানরত খালেদা জিয়া এক শুভেচ্ছা বার্তায় খালেদা জিয়া বলেছেন,“কোরবানির যে মূল শিক্ষা তা ব্যক্তি জীবনে প্রতিফলিত করে মানব কল্যানে ব্রতী হওয়ার মাধ্যমে আল্লাহর সন্তুষ্টি ও নৈকট্য লাভ সম্ভব। বিশ্বাসী হিসেবে সে চেষ্টায় নিমগ্ন থাকা প্রতিটি মুসলমানের কর্তব্য।”ঈদের আয়োজনে বন্যা উপদ্রুত অসহায় মানুষ যেন অংশগ্রহণ করতে পারে সেই উদ্যোগ গ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন খালেদা জিয়া।বরাবরের মতো এবারও ঈদের দিন সকালে বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন। প্রধানমন্ত্রী শুভেচ্ছা বিনিময় করবেন গণভবনে।ঈদ উপলক্ষে সরকারি ও বেসরকারি গুরুত্বপূর্ণ ভবনগুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হবে। বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ইতোমধ্যে সাজানো হয়েছে মনোরম সাজে। রাতে থাকছে আলোকসজ্জার ব্যবস্থা।দেশের বিভিন্ন হাসপাতাল,কারাগার,সরকারি শিশু সদন,ছোটমনি নিবাস,সামাজিক প্রতিবন্ধী কেন্দ্র,আশ্রয়কেন্দ্র, ভবঘুরে কল্যাণ কেন্দ্র ও দুস্থ কল্যাণ কেন্দ্রগুলোতে বিশেষ খাবার পরিবেশন করা হবে।ঈদ উপলক্ষ সরকারি-বেসরকারি টেলিভিশন চ্যালেনগুলো কয়েকদিন ধরে প্রচার করছে বিশেষ অনুষ্ঠান। সংবাদপত্রগুলোও এ উপলক্ষে বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে।ঈদের উৎসবের জন‌্য রাজধানীসহ দেশের বিনোদন কেন্দ্রগুলো নতুন করে সেজেছে।