তিন ফিফটিতে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ

image_titleতিন ফিফটিতে আয়ারল্যান্ডকে উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ  আবু জায়েদ রাহি পাঁচ উইকেট নিলেও পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ব্যাটে লড়াইয়ের পূঁজিই পেয়েছিল আয়ারল্যান্ড। তবে সেটা যে এই ব্যাটিং উইকেটে বেশ মামুলি তা দেখিয়ে দিল বাংলাদেশের টপ অর্ডার। প্রথম তিন ব্যাটসম্যানের ফিফটিতে আইরিশদের দেওয়া ২৯৩ রানের লক্ষ্য বাংলাদেশ পেরিয়েছে ৪২ বল হাতে রেখে। জিতেছে ৬ উইকেটে।

আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করায় আপাত গুরুত্বহীন ম্যাচেও দাপট দেখিয়েছে মাশরাফি মর্তুজার দল।
দলকে জেতাতে ৬৭ বলে সর্বোচ্চ ৭৬ রান করেন লিটন দাশ। ৫৩ বলে ৫৭ রান করেন তামিম ইকবাল। ওপেনিং জুটিতেই এই দুজন তুলেন ১১৭ রান। তিনে নেমে সাকিব খেলছিলেন চনমনে। কিন্তু ৫১ বলে ৫০ করার পর পীঠের চোটে মাঠ ছাড়তে হয় তাকে।  পিঠের চোটে মাঠ ছাড়লেন সাকিব
ফিফটি করেই পীঠের চোটে মাঠ থেকে বেরিয়ে গেছেন সাকিব আল হাসান। তবে বাংলাদেশ আছে জয়ের পথে। ৩৯ ওভারে ৩ উইকেটে ২৭১ রান তুলে এগুচ্ছে অনায়াস জয়ের দিকে। সাকিবের সঙ্গে অর্ধশতকের জুটির পর মুশফিকের বিদায়
৩৩ বলে ৩৫ রান করে র‍্যাঙ্কিনের বলে ফিরে গেছেন মুশফিকের রহিম। তৃতীয় উইকেটে সাকিব আল হাসানের সঙ্গে ভেঙেছে তার ৬৪ রানের জুটি। ২২৪ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়েছে বাংলাদেশ। তবে ফিফটি দিকে এগুতে থাকা সাকিব দলকে নিয়ে যাচ্ছেন জয়ের দিকে। সেঞ্চুরির সুযোগ হাতছাড়া লিটনের  উইকেট ব্যাট করার জন্য খুব সহজ। নিজেও খেলছিলেন স্বচ্ছন্দে। অনায়াসে তুলে নিতে পারতেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় সেঞ্চুরি।

কিন্তু ব্যারি ম্যাককার্থির স্লোয়ারে বোল্ড হয়ে থেমেছে লিটনের ৭৬ রানের ইনিংস। ৬৭ বলের ইনিংসে ৯ চার আর ১ ছক্কা মেরেছেন সৌম্যের বিশ্রামে সুযোগ পাওয়া এই ওপেনার। ফিফটির পর বিদায় তামিমের, ফিফটি তুলে চালিয়ে যাচ্ছেন লিটন 
অনায়াসে ব্যাট চালিয়ে যাচ্ছিলেন তামিম ইকবাল। কিন্তু বয়েড র‍্যাঙ্কিনের নীরিহ এক বলে কাটা পড়েছেন তিনি। একটু উপরে উঠা বলা লাফিয়ে নামাতে গিয়ে টেনে এনেছেন স্টাম্পে। ৫৩ বলে ৫৭ করে শেষ হয়েছে তামিমের ইনিংস। ১১৭ রানে প্রথম উইকেট হারায় বাংলাদেশ। তবে ৪৭ বলে ৫২ রান করে ব্যাট করছেন আরেক ওপেনার লিটন দাশ। তামিম-লিটনের দারুণ শুরু
বড় লক্ষ্যে নেমে ভালো শুরু করেছেন বাংলাদেশের দুই ওপেনার তামিম ইকবাল ও লিটন দাশ। ২৯৩ রানের লক্ষ্যে নেমে দেখেশুনে ব্যাট করে রান তুলছেন তারা। ১৬ ওভার শেষে দলের রান বিনা উইকেটে ১১২ । ৪৬ বলে ফিফটি তুলে চালিয়ে যাচ্ছেন তামিম। ৪৭ বলে ফিফটি করে তাল মেলাচ্ছেন লিটন। 
আবু জায়েদের পাঁচ উইকেটের পরও বড় লক্ষ্য বাংলাদেশের  দারুণ বল করে আবু জায়েদ রাহি পেলেন পাঁচ উইকেট। তবু পল স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি আর উইলিয়াম পোর্টারফিল্ডের ৯৪ রানে ভর করে তিনশর কাছে যেতে পেরেছে আইরিশরা। ৫০ ওভার ব্যাট করে ৮ উইকেটে আয়ারল্যান্ডের রান ২৯২। আগেই ফাইনাল নিশ্চিত করা বাংলাদেশকে অপরাজিত থাকতে তাই করতে হবে ২৯৩ রান। আয়ারল্যান্ডের ৮ উইকেটের পাঁচটাই নিয়েছেন আবু জায়েদ। মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন নিয়েছেন ২ উইকেট, বাকি উইকেট গেছে রুবেল হোসেনের ঝুলিতে।  দলকে লড়াইয়ের পূঁজি পাইয়ে দিতে ১৪১ বলে ১৩০ রান করেন স্টার্লিং। আবু জায়েদের পাঁচ উইকেট 
আগের ম্যাচেই অভিষেকে থেকেছিলেন উইকেটশূন্য, ছিলেন বিবর্ণ। আবু জায়েদ রাহি আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অনেকটা শেষ সুযোগই পেয়েছিলেন বলা চলে। সেই সুযোগ কি দারুণভাবেই না কাজে লাগালেন এই পেসার। গ্যারি উইলসনকে আউট করে তুললেন পাঁচ উইকেট। ওয়ানডে তো বটেই লিস্ট-এ ক্যারিয়ারেও এর আগে কখনো পাঁচ উইকেট পাওয়া হয়নি জায়েদের। ৯ ওভার বল করে ৫৮ রান দিয়ে পাঁচ উইকেট নেন তিনি। ২৮৭ রানে ৬ষ্ঠ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। স্টার্লিংকে ফিরিয়ে আবু জায়েদের চার উইকেট 
নিজের প্রথম স্পেলে জুতসই বল করে এক উইকেট নিয়েছিলেন আবু জায়েদ রাহি। পরের স্পেলে ফিরেই সেঞ্চুরির পথে থাকা আইরিশ অধিনায়ক পোর্টারফিল্ডকে ফেরান তিনি। জায়েদের অনেক বাইরের বল তুলে মারতে গিয়ে এক্সট্রা কাভারে ক্যাচ দিয়ে ফেরত যান ৯৪ রান করা পোর্টারফিল্ড। জায়েদের পরের ওভারে লং অনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন বিপদজনক কেভিন ও'ব্রায়েন। সবচেয়ে গলার কাঁটা হয়ে যিনি ছিলেন সেই স্টার্লিংকেও ওই ওভারে আউট করেন জায়েদ। জায়েদের স্লোয়ার পেটাতে গিয়ে ডিপ মিড উইকেটে ক্যাচ তুলে দিয়ে আউট হন ১৪১  বলে ১৩০ রান করা স্টার্লিং। ২৬৪ রানে ৫ উইকেট হারায় আয়ারল্যান্ড। যার চারটাই পেয়েছেন আবু জায়েদ। দুবার জীবন পাওয়া স্টার্লিংয়ের সেঞ্চুরি  ফিফটির পর টানা দুই বলে দুই ক্যাচ উঠিয়েছিলেন পল স্টার্লিং। সাব্বির রহমান আর সাইফুদ্দিনের হাত ফসকে বেরিয়ে যায় তা। সেই স্টার্লিং পরে নিজেকে সামলে ধরেছেন দলের হার। পেয়ে গেছেন ওয়ানডে ক্যারিয়ারে নিজের অষ্টম সেঞ্চুরি। ১২৭ বলে ৬ চার আর ২ ছক্কায় তিন অঙ্কে পৌঁছান আইরিশ ওপেনার। তৃতীয় উইকেট জুটিতে পোর্টারফিল্ডের সঙ্গে জুটিতেও এসে গেছে ১৪৩ রান। ৪২ ওভার শেষে ২ উইকেটে ২০৩ রান তুলে ফেলেছে আইরিশরা। পোর্টারফিল্ড আছেন সত্তর পেরিয়ে, স্টার্লিং-পোটারফিল্ডের ব্যাটে এগুচ্ছে আয়ারল্যান্ড
৫৯ রানে দুই উইকেট হারানোর পর জুটি বেধে দলকে এগিয়ে নিচ্ছেন পল স্টার্লিং আর অধিনায়ক উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড। তবে স্টার্লিং পেয়েছেন দুবার জীবন। একবার মোসাদ্দেক হোসেনের বলে তার লঙ অফে তার ক্যাচ ছেড়ে দেন সাব্বির রহমান। পরে সাকিব আল হাসানের বলে পয়েন্টে স্টার্লিংয়ের একদম সহজ ক্যাচ ফেলেন সাইফুদ্দিন। ৫৭ রানেই দুবার জীবণ পাওয়া স্টার্লিং ব্যাট করছেন ৮৭ রান নিয়ে, পোর্টারফিল্ড অপরাজিত আছেন ষাট পেরিয়ে। জুটিতে এসে গেছে শতরান। ৩৮ ওভার শেষে আইরিশদের রান ২ উইকেটে ১৮০।  বালবার্নিকে ফিরিয়ে আবু জায়েদের প্রথম উইকেট 
আগের ম্যাচেই অভিষেক উইকেট শূন্য ছিলেন আবু জায়েদ রাহি। বল হাতেও ছিলেন বিবর্ণ। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে আজ আরেকটু সুযোগ পেয়ে শুরুটা করেন দারুণ। ইনস্যুয়িং, আউটস্যুয়িংয়ে বেশ কবার ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করলেও উইকেট মিলছিল না। অবশেষে আন্ডি বালবার্নিকে উইকেটের পেছনে মুশফিকের ক্যাচ বানান তিনি। ৫৯ রানে দ্বিতীয় উইকেট হারায় আইরিশরা। রুবেলের প্রথম আঘাত 
এই মাঠেই টুর্নামেন্টের প্রথম ম্যাচে আইরিশদের বিপক্ষে ৩৮১ রান করেছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ব্যাটিং বান্ধব উইকেটে তাই আগে ব্যাট করতে চেয়েছিলেন মাশরাফি। কিন্তু সেটা না হলেও শুরুটা একদম খারাপ হলো না। এক পাশে আবু জায়েদ রাহিদ দারুণ আঁটোসাটো শুরুর পর উইকেট এনে দিলেন রুবেল হোসেন। কিছুটা এলোমেলো বল করতে থাকা রুবেলের উপর চড়াও হয়ে খেলছিলেন পল স্টার্লিং, কিন্তু আরেক ওপেনার জেমস ম্যাককুলাম তেমনটা পারলেন না। দলের ২৩ রানে রুবেলের বলে স্লিপে লিটনের হাতে জমা পড়েন তিনি। ১০ বলে ৫ রানে শেষ হয় তার ইনিংস। অনেক বদল নিয়ে ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশ ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনাল নিশ্চিত হয়েছে আগেই। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ ম্যাচটা তাই অনেকটা গুরুত্বহীন। এমন ম্যাচে তাই একাদশে চার চারটি পরিবর্তন নিয়ে নেমেছে বাংলাদেশ।
এই নিয়ে টানা তৃতীয় ম্যাচে টস হেরেছেন মাশরাফি মর্তুজা। টস জিতে আইরিশ অধিনায়ক অনুমিতভাবেই ব্যাট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। 
প্রথম দুই ম্যাচে ফিফটি করে বিশ্বকাপে তামিম ইকবালের সঙ্গী হওয়ার দৌঁড়ে এগিয়ে থাকা সৌম্য সরকারকে দেওয়া হয়েছে বিশ্রাম। তার জায়গায় সুযোগ পেয়েছেন লিটন দাশ। বিশ্রাম পেয়েছেন মেহেদী হাসান মিরাজ, তার জায়গা নিয়েছেন মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত।
অনুমিতভাবেই বিশ্রাম দেওয়া হয়েছে মোস্তাফিজুর রহমানকে। তাই একাদশে ফিরেছেন রুবেল হোসেন। একাদশে ফিরেছেন মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনও। তাকে আনতে বিশ্রামে পাঠানো হয়েছে মোহাম্মদ মিঠুনকে।
বাংলাদেশ একাদশ: তামিম ইকবাল, লিটন দাশ, সাকিব আল হাসান, মুশফিকুর রহিম,  মাহমুদউল্লাহ, সাব্বির রহমান, মোসাদ্দেক হোসেন, মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন, মাশরাফি মর্তুজা, রুবেল হোসেন, আবু জায়েদ।
আয়ারল্যান্ড একাদশ:পল স্টার্লিং, জেমস ম্যাককুলাম, অ্যান্ডি বালবার্নি, উইলিয়াম পোর্টারফিল্ড, কেভিন ও'ব্রায়েন, মার্ক অ্যাডিয়ার, গ্যারি উইলিসন, জর্জ ডকরেল, বয়েড র‍্যঙ্কিন, ব্যারি ম্যাকার্থি, জস লিটল।