সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই ভীতিকর সেলেনা গোমেজ

image_titleমেঘকালো চুলগুলো সোজা সিঁথি দিয়ে খোঁপা করে বাঁধা। কানে হীরার দুল। গাঢ় নীল রঙা স্যুট ও ঢোলা ট্রাউজারে সোনালি আঁচড়। সব মিলিয়ে সেলেনা গোমেজের মধ্যে অদ্ভুত শ্যামাঙ্গিনী সৌন্দর্য।

তার দু’পাশে হলিউড তারকা টিল্ডা সুইনটন, বিল মারে ও ক্লোয়ি সেভিনি বসা। কিন্তু আমেরিকার এই গায়িকা-অভিনেত্রীর দিকেই বারবার চোখ গেলো। বিল মারের রসিকতায় পুরো কক্ষে যখন পড়ে গেছে হাসির রোল তিনি তখন মুখ চেপে হাসলেন। বুধবার (১৫ মে) সকাল ১১টায় পালে দে ফেস্তিভাল ভবনের তৃতীয় তলার সংবাদ সম্মেলন কক্ষে আসেন সেলেনা গোমেজ। মার্কিন নির্মাতা জিম জারমাশের ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’তে অভিনয়ের সুবাদে প্রথমবার কানসৈকতে পা পড়েছে ২৬ বছর বয়সী এই তরুণীর। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ইনস্টাগ্রামে এখন সেলেনার ১৫ কোটি ফলোয়ার। এই প্ল্যাটফর্মের মতো ফেসবুক আর টুইটারেও তার মতো পৃথিবীর আর কোনও নারী তারকার এত ভক্ত নেই। প্রথম ব্যক্তি হিসেবে ইনস্টাগ্রামে ১০ কোটি ফলোয়ারের মাইলফলক গড়েন তিনি। তবে মোবাইল ফোনে ডুবে থাকার বিরোধী তিনি। সংবাদ সম্মেলনে এ নিয়ে পরিতাপের কথা শোনা গেলো তার কণ্ঠে, ‘আমি মনে করি, আমাদের এই পৃথিবী অনেক পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। নতুন প্রজন্মের উদ্দেশে বলতে চাই, সোশ্যাল মিডিয়া সত্যিই ভীতিকর হয়ে দাঁড়িয়েছে। এখানে তরুণ-তরুণীরা যেভাবে নিজেদের উপস্থাপন করছে তা দেখলে আতঙ্কিত হয়ে পড়ি। তারা সংবাদ সম্পর্কে সচেতন নয়। এটা নিঃসন্দেহে বিপজ্জনক। আমার তো মনে হয় না, সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে মানুষ কখনও সঠিক তথ্য পায়।’ইনস্টাগ্রামে কিছু পোস্ট করার আগে যাচাই-বাছাই করা শিখেছেন বলে জানান সেলেনা।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বললেন, ‘প্রযুক্তির এই জোয়ারের সময় নিজের কিছু নিরাপদ রাখা অসম্ভব মনে হয় আমার কাছে। তবে সোশ্যাল মিডিয়া আমার জন্য ইতিবাচক। ইচ্ছে করেই অযাচিত ছবি খুব একটা দেই না এখন। তবুও এই প্ল্যাটফর্মকে ভয় লাগে। তরুণীরা এখন নিগ্রহের শিকার হলেও সোচ্চার কণ্ঠস্বর দেখাতে পারে না। যদিও সোশ্যাল মিডিয়াতে ইতিবাচক মুহূর্ত কাটানো যায়। এজন্য সজাগ থাকা ও কম ব্যবহার করা উচিত।’ সংবাদ সম্মেলন শেষে বাংলা ট্রিবিউনের নোটপ্যাডে হাসিমুখে অটোগ্রাফ দিলেন সেলেনা। এর আগে ফটোকলে আলোকচিত্রীদের দেয়ালের সামনে স্বাচ্ছন্দ্যময় দেখা গেছে তাকে।প্রতিযোগিতা বিভাগে নির্বাচিত ছবিটি গতকাল (১৪ মে) উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়ের ও সাল দুবুসি থিয়েটারে দেখানো হয়। রাত সাড়ে ৯টায় সাল বাজিনে ছিল এর আরেকটি প্রদর্শনী। এর গল্পের প্রেক্ষাপট সেন্টারভিল নামের ছোট্ট একটি শান্ত শহর। হঠাৎ মৃতরা জীবন্ত লাশ হয়ে ওঠায় বাসিন্দাদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। জর্জ রোমেরোর ‘নাইট অব দ্য লিভিং ডেড’ (১৯৬৮) ছবিতে প্রভাবিত হয়ে ‘দ্য ডেড ডোন্ট ডাই’ বানিয়েছেন বলে জানান জিম জারমাশ। বুধবার (১৫ মে) সকাল ৯টায় গ্র্যান্ড থিয়েটার লুমিয়েরে আবারও এর প্রদর্শনী হয়েছে। * ফ্রান্সের সময়ের সঙ্গে বাংলাদেশের পাঠকদের চার ঘণ্টা যোগ করে নিতে হবে।