ভেনেজুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে চীন

image_titleরাজনৈতিক সংকটে জর্জরিত লাতিন আমেরিকার দেশ ভেনেজেুয়েলায় মানবিক সহায়তা পাঠিয়েছে চীন। সোমবার চিকিৎসা সামগ্রীবাহী দ্বিতীয় বিমানটি ভেনিজুয়েলায় অবতরণ করেছে। ভেনেজুয়েলা সরকার এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, ৭১ টন ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে একটি বোয়িং ৭৪৭ বিমান রাজধানী কারাকাসে অবতরণ করেছে।এতে অন্ত:সত্ত্বা নারীদের জন্যও ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী পাঠানো হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো সরকার ও চীনের মধ্যে একটি ‘মানবিক-কারিগরি’ সহযোগিতা চুক্তির অংশ হিসেবে এ সাহায্য পাঠানো হয়েছে।

নির্বাচনি কারচুপির অভিযোগ আর অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে এ বছরের শুরুতে ভেনেজুয়েলায় বিক্ষোভ শুরু হয়। বিক্ষোভের সুযোগে ২৩ জানুয়ারি নিজেকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেন বিরোধীদলীয় নেতা জুয়ান গুইদো। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্তত ৫০টি দেশ তাকে স্বীকৃতি দিয়েছে। খাদ্য-ওষুধের প্রবল সংকটে থাকা ভেনেজুয়েলাবাসী আশ্রয় নিচ্ছে প্রতিবেশী কলম্বিয়া, ব্রাজিলের মতো দেশে। যুক্তরাষ্ট্রসহ তার পশ্চিমা মিত্ররা মনে করে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ গোয়াইদোর মাধ্যমে ভেনেজুয়েলায় বিতরণ করা সম্ভব হলে তা মাদুরোর ভাবমূর্তিকে দেশবাসীর সামনে ম্লান করে দিতে সক্ষম হবে। আর মাদুরোর দাবি, ত্রাণ দেওয়ার মাধ্যমে সামরিক আগ্রাসন চালানোর চেষ্টা যুক্তরাষ্ট্রের।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী কার্লোস আলভারাদো বলেন, ‘দ্বিতীয় চালানটি পৌঁছানোর ফলে এখন আমাদের দেশে ১৬৬ টন ঔষধ ও চিকিৎসা সামগ্রী রয়েছে। রাশিয়া ফেডারেশন, রেড ক্রস ও রেড ক্রিসেন্টের কাছ থেকে ইতোমধ্যেই আমরা চিকিৎসা সামগ্রী পেয়েছি। ’
এর আগে ২৯ মার্চ চীন থেকে ৬৫ টনের একটি মানবিক সহায়তাবাহী বিমান অবতরণ করে। পাঁচ বছরের অর্থনৈতিক অবরোধের কারণে ভেনিজুয়েলায় খাবার ও ঔষধের মতো নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
জাতিসংঘ জানিয়েছে, দেশটির তিন কোটি জনগণের প্রায় এক চতুর্থাংশেরই জরুরি ভিত্তিতে মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।  ভেনিজুয়েলায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত লি বারোরং বলেন, অবরোধের ফলে দেশটির যা ক্ষতি হয়েছে এই ঔষধ সহায়তাবাহী চালানের ফলে তা কিছুটা লাঘব হবে বলে তিনি আশা করছেন।