৬ বড় প্রকল্পে ১৮০ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান

মেট্রোরেল ও মাতারবাড়ি বিদ্যুৎ কেন্দ্রসহ অবকাঠামো খাতের ছয়টি বড় প্রকল্পে সহজ শর্তে ও কম সুদে ১৮০ কোটি ডলার ঋণ দেবে জাপান।অর্থনৈতিক সর্ম্পক বিভাগের (ইআরডি) কর্মকর্তরা জানান, বিভিন্ন প্যাকেজের আওতায় বাংলাদেশকে একসঙ্গে দেওয়া এই সহায়তা হবে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকার এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ সাহায্য।বৃহস্পতিবার রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এনইসি সম্মেলন কক্ষে এ বিষয়ে দু দেশের মধ্যে ঋণ চুক্তি সই হয়। নিজ নিজ পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম, বাংলাদেশ জাইকা অফিসের চিফ রিপ্রেজেনটেটিভ টাকাটোসি নিশিকাথা।এর আগে দু'দেশের মধ্যে নোট বিনিময় হয়। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত জাপানের রাষ্ট্রদূত হিরোসা ইজমি।ইআরডি সূত্রে জানা যায়, সহজ শর্তে এ ঋণ দিচ্ছে জাপানের সরকারি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। সুদ হার হবে অবকাঠামো খাতের জন্য ১ শতাংশ। তবে স্বাস্থ্য ও সেবা খাতের জন্য সুদ হার যথাক্রমে দশমিক ৯ শতাংশ ও দশমিক এক শতাংশ। দশ বছর গ্রেস পিরিয়ডসহ ৩০ বছরে পরিশোধ করতে হবে এ ঋণ। গ্রেস পিরিয়ড় মানে প্রথম ১০ বছর সুদ ছাড়াই মূল ঋণের অংশ দিতে হবে।যোগাযোগ করা হলে ইআরডির সচিব কাজী শফিকুল আযম সমকালকে বলেন, জাপান হচ্ছে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী। এই চুক্তির মধ্য দিয়ে দু দেশের সর্ম্পক নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে। বৃহস্পতিবার সই হওয়া চুক্তির অর্থ শিগগিরই ছাড় হবে।জানা যায়, স্বাধীনতা পরবর্তী সময় থেকে এ পর্যন্ত বিদ্যুৎ, সড়ক, ব্রিজ কালভার্টসহ অবকাঠামো খাতে ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার বা দেড় লাখ কোটি টাকা সহায়তা দিয়েছে জাপান। এর মধ্যে ছাড় হয়েছে ১ হাজার ১০০ কোটি ডলার। এক সময় জাপানের দেওয়া বেশির ভাগ ঋণ অনুদান হিসেবে দেওয়া হতো। তবে সম্প্রতি সময়ে সুদে ঋণ দিচ্ছে দেশটি। গত বছর পর্যন্ত জাপানের দেওয়া ঋণের সুদ হার ছিল দশমিক ৭ শতাংশ।ইআরডির এক কর্মকর্তা জানান, উন্নয়নশীল দেশের কাতারে নাম ওঠায় বাংলাদেশের মর্যাদা বেড়েছে। ফলে ঋণের সুদ হার সামান্য বাড়িয়েছে জাপান।তিনি আরও জানান, এ নিয়ম শুধু বাংলাদেশের ক্ষেত্রে নয়, বাংলাদেশের মতো একই কাতারে থাকা দেশগুলোকেও উল্লেখিত হারে ঋণ দিচ্ছে জাপান সরকারের উন্নয়ন সংস্থা জাইকা।জানা যায়, মেট্রোরেল নির্মাণের অংশ হিসেবে দুটি নতুন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে একটি হচ্ছে লাইন পাঁচ। প্রথম প্রকল্পের আওতায় সাভারের হেমায়েতপুর-আমিনবাজার-গাবতলী-মিরপুর-কচুক্ষেত-ক্যান্টনমেন্ট-বনানী-গুলশান নতুন বাজার পর্যন্ত ১৩ কিলোমিটার রেল পথ তৈরি করা হবে। এ প্রকল্পের পরামর্শক সেবায় সহায়তা করবে জাপান। এতে ব্যয় হবে আনুমানিক ৫৬২ কোটি টাকা। অপরদিকে, রাজধানী ঢাকার উত্তরা, পল্লবী-মিরপুর-খামার বাড়ী-ফার্মগেইট-সোনারগাঁও হোটেল, শাহবাগ-দোয়েল চত্বর-তোপখানা হয়ে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত বিশ কিলোমিটার রেল লাইন নির্মাণ করা হবে,যা মেট্রোরেল লাইন ছয় নামে পরিচিত। এ প্রকল্পের প্রথম প্যাকেজে ঋণ দিয়েছে জাইকা। এখন দ্বিতীয় প্যাকেজে ছয় হাজার ৬৩ কোটি টাকা ঋণ দেবে সংস্থাটি। মেট্রোরেল নির্মাণে মোট ব্যয় ধরা হয় প্রায় ২২ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাইকা দেবে ৭৫ শতাংশ। বাকি টাকা জোগান দেবে বাংলাদেশ সরকার তার নিজস্ব তহবিল থেকে। জাপানের দেওয়া সেই প্রতিশ্রুত ঋণ চুক্তি সই হলো বৃহস্পতিবার। এরইমধ্যে মেট্রোরেলের কাজ শুরু হয়েছে। এটি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মেগা বা ফাস্ট ট্র্যাক প্রকল্পগুলোর একটি। আগামী ২০২২ সালের মধ্যে মেট্রোরেল প্রকল্পের কাজ শেষ হওয়ার কথা।কক্সবাজারের মাতারবাড়িতে একটি বাণিজ্যিক বন্দর তৈরির পরিকল্পনা নিয়েছে বর্তমান সরকার। এতে ব্যয় হবে ২০৩ কোটি টাকা। বঙ্গবন্ধু সেতুর সমান্তরালে একটি স্বতন্ত্র রেলওয়ে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এই সেতুর ব্যয় ধরা হয় ৯ হাজার ৭৩৪ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাপান দেবে সাত হাজার ৭২৪ কোটি টাকা। বন্দরের পাশাপাশি বর্তমান সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার আরেকটি বড় প্রকল্প মাতারবাড়িতে কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচ হাজার ১৪১ কোটি টাকা ঋণ দেওয়া হবে। এ ছাড়া স্বাস্থ্য সেবা উন্নয়নে হেলথ সার্ভিস স্ট্রেনথেনিং প্রকল্পে ৫০১ কোটি টাকা দেবে জাইকা।