৫৭ ধারার মামলায় দুই ব্লগারের বিচার শুরু

বৃহস্পতিবার তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে সাক্ষ্যগ্রহণ শুরুর জন্য ১৪ অগাস্ট দিন ঠিক করে দিয়েছেন বাংলাদেশ সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক জগলুল কবির।বড়গুনার আমতলী উপজেলার ইসলামিক আন্দোলনের সভাপতি মুফতি ওমর ফারুকের দায়ের করা এ মামলায় ফেইসবুকে ইসলাম ধর্ম নিয়ে অশ্লীল ও মানহানিকর তথ্য প্রকাশের অভিযোগ আনা হয়েছে দুই আসামির বিরুদ্ধে।অভিযোগ গঠনের শুনানিতে আদালতে উপস্থিত লিমন ফকির ও আসাদুজ্জামান নূর কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে নিজেদের নিদোর্ষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।লিমনকে এ মামলার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দিতে আবেদন করা হলে শুনানি করে তা নাকচ করে দেন বিচারক।তার আইনজীবী জীবনানন্দ চন্দ জয়ন্ত শুনানিতে বলেন, ফেইসবুকে কথিত সেই পোস্ট নিয়ে কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) ফরেনসিক প্রতিবেদনে। তারপরও মামলায় অভিযোগপত্র দেওয়া হয়েছে।ফেইসবুকে তথ্যগুলো প্রচার করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হলেও লিমন ফকিরের আইডি থেকে কী ধরনের তথ্য প্রচার করা হয়েছে তা নির্দিষ্ট নয়। আর তা ছাড়া বাদী কেন কীভাবে সংক্ষুব্ধ হলেন তাও স্পষ্ট নয় বলে যুক্তি দেন এই আইনজীবী।তিনি বলেন, লিমন ফকির ১৬৪ ধারায় যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছিলেন, মামলার আগের তারিখে তা প্রত্যাহার করার আবেদন করা হয়েছিল।আসাদুজ্জামান নূরের অব্যাহতি চেয়ে তার আইনজীবী এ সময় কোনো আবেদন করেননি।২০১৭ সনের ৯ জানুয়ারি বড়গুনার মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭(১)/(২) ধারায় অভিযোগ দায়ের করেন মুফতি ওমর ফারুক।সেখানে লিমন ফকিরকে ১ নম্বর এবং আসাদুজ্জামান নূরকে ২ নম্বর আসামি করা হয়।বড়গুনার জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম বৈজয়ন্ত বিশ্বাস বিষয়টি তদন্ত করে আমতলী থানা পুলিশকে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন। পুলিশ ওই আরজি এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে নথিপত্র বড়গুনার আদালতে পাঠিয়ে দেয়।মামলা হওয়ার পর গত বছর ১৮ এপ্রিল লিমন ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের পর আদালতে হাজির করা হলে গতবছরের ২ মে লিমন বড়গুনার হাকিম আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।পরে  গত বছরের ১২ অগাস্ট দুইজনের  বিরুদ্ধে  তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি আইনের ৫৭ ধারায় অভিযোগপত্র দেন আমতলী থানার ওসি মো. সহিদউল্যাহ। মামলাটির নথি তখন বিচারের জন্য ঢাকায় দেশের একমাত্র সাইবার ট্রাইবুনালে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।সাইবার ট্রাইবুনালের বিচারক গত বছরের ২৯ নভেম্বর পলাতক আসামি আসাদুজ্জামান নূরের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন। এরপর ২৫ ডিসেম্বর নেপালে যাওয়ার পথে ঢাকার শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।  দুই আসামির জামিন আবেদন ট্রাইবুনালে নাকচ হওয়ার পর গত ৪ এপ্রিল হাইকোর্টেও উপস্থাপিত হয়নি মর্মে খারিজ হয়ে যায়।২০০৬ সালের আইনের ৫৭ ধারায় বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি যদি ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবসাইটে বা অন্য কোনো ইলেকট্রনিক বিন্যাসে এমন কিছু প্রকাশ বা সম্প্রচার করেন, যা মিথ্যা ও অশ্লীল বা সংশ্লিষ্ট অবস্থা বিবেচনায় কেউ পড়লে, দেখলে বা শুনলে নীতিভ্রষ্ট বা অসৎ হতে উদ্বুদ্ধ হতে পারেন অথবা যার দ্বারা মানহানি ঘটে, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটে বা ঘটার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়, রাষ্ট্র ও ব্যক্তির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় বা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত করে বা করতে পারে বা এ ধরনের তথ্যাদির মাধ্যমে কোনো ব্যক্তি বা সংগঠনের বিরুদ্ধে উসকানি প্রদান করা হয়, তাহলে এ কাজ অপরাধ বলে গণ্য হবে।এই অপরাধে সর্বোচ্চ ১৪ বছর ও সর্বনিম্ন সাত বছর কারাদণ্ড এবং সর্বোচ্চ এক কোটি টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রয়েছে বিদ্যমান আইনে।ওই ধারাকে স্বাধীন সাংবাদিকতার পরিপন্থি দাবি করে সেটি বাতিলের দাবি জানিয়ে আসছিলেন গণমাধ্যম ও মানবাধিকার কর্মীরা। এই প্রেক্ষাপটে সরকার সমালোচিত ৫৭ ধারাসহ কয়েকটি ধারা তথ্য প্রযুক্তি আইন থেকে সরিয়ে সেগুলো আরও বিশদ আকারে যুক্ত করে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন প্রণয়নের প্রস্তাব ইতোমধ্যে সংসদে তুলেছে।তবে ৫৭ ধারায় হওয়া আগের মামলাগুলো কার্যক্রম চলবে বলে ইতোমধ্যে সরকারের তরফ থেকে জানানো হয়েছে।