স্বাগত বিশ্বকাপ

চার বছর অপেক্ষার পর আবারও হাজির হয়েছে বিশ্বকাপ ফুটবল বা ফিফা ওয়ার্ল্ড কাপ-২০১৮। ক্ষণগণনা শেষে আজ মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে পর্দা উঠছে দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থের।স্বাগতিক রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার উদ্বোধনী ম্যাচ দিয়ে অবসান হচ্ছে খেলোয়াড় ও ভক্তদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার। যদিও আট মহাদেশ থেকে চারটি করে মাত্র ৩২টি দেশের মধ্যে প্রতিযোগিতা; তবে পৃথিবীর কোনো দেশেই বিশ্বকাপ ফুটবল নিয়ে উৎসাহ-উদ্দীপনার কমতি নেই।জাতিসংঘের সদস্য থেকেও ফিফার সদস্য সংখ্যা বেশি হওয়া থেকেই এটা অনুমান করা যায়। এ কারণে বলা চলে, পৃথিবীর সব মানুষকে এক সুতা ও সম্প্রীতির বন্ধনে বাঁধার অন্যতম মাধ্যম ফুটবল। বিশ্বকাপ ফুটবল সবার মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে।উদ্বোধনী অনুষ্ঠান ও ম্যাচ হবে মস্কোতে। রাশিয়ার ১১টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো। এরই মধ্যে অংশগ্রহণকারী দলগুলোর খেলোয়াড়, কর্মকর্তা, ফুটবলপ্রিয় দর্শক ও গণমাধ্যমকর্মীদের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে রাশিয়া।এত বড় একটি আয়োজন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করার পাশাপাশি সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বড় চ্যালেঞ্জ বৈকি। আমরা আশাবাদী, রাশিয়া সুন্দর ও সুষ্ঠুভাবে বিশ্বকাপ আয়োজনে সমর্থ হবে এবং বিশ্ববাসী মনোরম একটি প্রতিযোগিতা উপভোগ করবে।এবারের ও ২০২২ সালের বিশ্বকাপ ফুটবলের আয়োজক দেশ বাছাই নিয়ে অনেক জলঘোলা হয়েছে, বড় ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতির খবর সামনে এসেছে। ফলে রাশিয়ার জন্য যেমন নিজেদের সামর্থ্যরে প্রমাণ দেয়ার, তেমনি ফিফার জন্যও অনেক কলঙ্কমোচনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে এ বিশ্বকাপে। আয়োজনটিকে সাফল্যমণ্ডিত করে তুলতে সংশ্লিষ্ট সবাই সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলে আমাদের বিশ্বাস।বিশ্ব ফুটবল র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান অনেক পেছনে হলেও বিশ্বকাপ নিয়ে দেশে উত্তেজনা-উন্মাদনার শেষ নেই। অতীতে প্রিয় দলের সমর্থন নিয়ে বচসা-বিতর্ক, পতাকা ওড়ানো, অন্যের পতাকা ঢেকে দেয়া নিয়ে মারামারি, এমনকি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।মোটা দাগে এখানে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা বেশি হলেও অন্যান্য দলের সমর্থক শ্রেণীও তৈরি হচ্ছে। আমরা মনে করি, ফুটবল নিয়ে আনন্দ-উদযাপনে দোষের কিছু নেই।তবে একে কেন্দ্র করে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার জন্ম যেন না হয়, সে ব্যাপারে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে। বিশ্বকাপ ফুটবলের সুষ্ঠু ও সুন্দর আয়োজনের প্রত্যাশায় রইলাম আমরা।