‘সুমন জাহিদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে’

শহীদ বুদ্ধিজীবী সেলিনা পারভীনের ছেলে সুমন জাহিদকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার।ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে তার বড় ভায়রা এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল বলেছেন, ‘সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কে বা কারা তাকে উত্তর শাজাহানপুরের বাসা থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপরই রেললাইনের পাশে তার লাশ পাওয়ার খবর শোনা যায়। সুতরাং, তাকে সুপরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।’এটিএম এমদাদুল হক বুলবুল বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে বাসা থেকে বেরিয়ে অফিসে চলে যাই। সকাল সাড়ে ৯টা থেকে ১০টার দিকে সুমন জাহিদের স্ত্রী টুইসির ফোন পেয়ে দ্রুত ছুটে যাই তাদের বাসায়। তার পরিবারের কাছ থেকে যতটুকু শুনেছি, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে তাকে ডেকে নিয়ে যাওয়া হয় বাইরে।’নিহত সুমন জাহিদের শ্যালক সরোয়ার আলম বলেন, ‘আমি অফিসে ছিলাম। খবর পেয়ে রেলওয়ে থানায় ছুটে যাই। সেখানে গিয়ে ভগ্নিপতির লাশ দেখতে পাই। তারপর পুলিশের সহায়তায় লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নিয়ে আসি।’সরোয়ার আলম আরও জানান, ট্রেনে কাটা পড়ে লাশ বিকৃত হয়ে গেছে। নিহত সুমন দুই সন্তানের জনক ছিলেন।যদিও পুলিশ ধারণা করছে, ট্রেনে কাটা পড়ে মৃত্যু হয়েছে সুমন জাহিদের।এর আগে বৃহস্পতিবার সকালে এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে নিশ্চিত করেন কমলাপুর রেলওয়ে থানার ওসি ইয়াসিন ফারুক।তিনি জানান, সকাল ১০টার দিকে খিলগাঁওয়ের বাগিচা নামক এলাকায় সুমন জাহিদ ট্রেনে কাটা পড়েন। তার লাশ উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা ধারণা করছি, ট্রেনে কাটা পড়ে তার মৃত্যু হয়েছে।লাশ নিয়ে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে যান রেলওয়ে থানার এসআই আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেন, ‘আনুমানিক সকাল ১০টার দিকে আমরা খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যাই। রেললাইনঘেঁষেই সুমন জাহিদের লাশ পড়ে ছিল। আমরা ধারণা করছি, ট্রেনের চাকা তার গলার ওপর দিয়ে গেছে। তবে কোন ট্রেন তা আমরা এখনও নিশ্চিত হতে পারিনি।’নিহত সুমন জাহিদ ফারমার্স ব্যাংকের শান্তিনগর শাখার সেকেন্ড অফিসার ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি ফেনী।সুমন জাহিদের দুই সন্তান। তাদের মধ্যে স্মরণ টিঅ্যান্ডটি কলেজের এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। আরেক ছেলে সুমন্দ্র আইডিয়াল স্কুলে সপ্তম শ্রেণির ছাত্র।প্রসঙ্গত, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত পলাতক চৌধুরী মাঈনুদ্দিন ও আশরাফুজ্জামান খানের বিরুদ্ধে সাক্ষী ছিলেন সুমন জাহিদ।