সিএমএইচেও যেতে নারাজ খালেদা জিয়া

চিকিৎসা নিতে ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালেও (সিএমএইচ) যেতে রাজি নন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া। বৃহস্পতিবার তিনি কারা কর্তৃপক্ষকে তার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছেন। বিএনপি চেয়ারপারসন চিকিৎসা নিতে ইউনাইটেড হাসপাতালে যেতে আগ্রহ দেখিয়েছেন।এর আগে সরকারের পক্ষ থেকে তাকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) নেওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হলেও সেটা প্রত্যাখ্যান করেন দুর্নীতির মামলায় দণ্ডাদেশপ্রাপ্ত কারাবন্দি খালেদা জিয়া। এদিকে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, বিএনপি আন্দোলনের সব ইস্যুতে ব্যর্থ হয়ে এখন খালেদা জিয়ার চিকিৎসাকে ইস্যু করছে। তার প্রশ্ন, সেনা পরিবারের সদস্য হয়েও কেন সিএমএইচে আস্থা নেই? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল বৃহস্পতিবার সচিবালয়ে নিজ দফতরে সাংবাদিকদের বলেন, খালেদা জিয়া একজন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক দলের প্রধান। তাই সরকার তার চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রথমে তাকে বিএসএমএমইউতে চিকিৎসা সেবার জন্য বলা হয়। এতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। পরে কারা কর্তৃপক্ষ তাকে সিএমএইচে চিকিৎসা নিতে প্রস্তাব দেয়। দেশের সব হাসপাতালের চেয়ে চিকিৎসা ব্যবস্থা সমৃদ্ধশালী সিএমএইচেও তিনি চিকিৎসা নিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। এখন তার চিকিৎসা কোথায় করানো হবে? এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এখন চিকিৎসকরাই তার পরবর্তী চিকিৎসার করণীয় নির্ধারণ করবেন। চিকিৎসকরা যে পরামর্শ দেন, তাই অনুসরণ করা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, খালেদা জিয়া চাইলে এখনও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে পারেন। এখানে দেশের বিশেষজ্ঞ ও খ্যাতিমান চিকিৎসকরা রয়েছেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার সময় প্রয়োজনে তার ব্যক্তিগত চিকিৎসকরাও থাকতে পারবেন। তাতে কোনো বাধা নেই। বিএনপির দাবি ও খালেদা জিয়ার পরিবারের আবেদন অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল ইউনাইটেডে চিকিৎসা দিতে অসুবিধা কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, জেলকোডের বিধান অনুযায়ী একজন কারাবন্দির পছন্দ অনুযায়ী যে কোনো হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়ার বিষয়ে কিছু বিধিনিষেধ রয়েছে। কারও পক্ষে চিকিৎসা নিতে অনিচ্ছা জানানোরও সুযোগ নেই। প্রয়োজনে খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসকদের উপস্থিতিতেই তাকে চিকিৎসা দেওয়া হবে। তিনি যেহেতু সরকারি ব্যবস্থাপনায় কোথাও চিকিৎসা সেবা নিতে চাচ্ছেন না, তাই চিকিৎসকদের নিয়ে বসে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি বারবার খালেদা জিয়ার চিকিৎসার জন্য ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়ার দাবি করে আসছে। এর পেছনে কোনো রাজনীতি রয়েছে কি-না, তাও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। পারিবারিক খরচে রাজধানীর ইউনাইটেড হাসপাতালে খালেদা জিয়াকে ভর্তি করিয়ে চিকিৎসার সুযোগ দেওয়ার জন্য গত মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বরাবর আবেদন করেছিলেন খালেদা জিয়ার ছোট ভাই শামীম এস্কান্দার। আবেদনের বিষয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা বিজন কান্তি সরকার সাংবাদিকদের বলেন, 'আগে খালেদা জিয়া ইউনাইটেড হাসপাতালেই নিয়মিত চিকিৎসা করাতেন। তার রোগ সম্পর্কে এখানকার চিকিৎসক ওয়াকিবহাল। শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি থাকছে না : খালেদা জিয়া কারাবন্দি থাকায় এবার ঈদের দিন ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় কর্মসূচি করছে না দলটি। তবে এদিন বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবর জিয়ারত করবেন দলটির সিনিয়র নেতারা। একই দিন কারাবন্দি খালেদা জিয়ার সঙ্গেও দেখা করবেন তারা। তার সঙ্গে দেখা করার জন্য এরই মধ্যে জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করেছেন। তারা ঈদের দিন সকালে জেল গেটে যাবেন। ঈদের দিন খালেদা জিয়ার আত্মীয়স্বজনরা কারাবিধি অনুযায়ীই সাক্ষাতের সুযোগ পাবেন। ঈদের দিন দলের কেন্দ্রীয় কোনো কর্মসূচি না থাকায় প্রত্যেক নেতাকে নিজ নিজ এলাকায় যাওয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন দলটির হাইকমান্ড। সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, দলের প্রত্যেকে বেদনার্ত। খালেদা জিয়াকে কেন্দ্র করে প্রতি বছর ঈদে সর্বস্তরের মানুষ ও বিদেশি কূটনীতিকদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠান হতো। এবার তা হবে না।