শ্রোতাপ্রিয় ইসলামী গান

রমজান এলেই বেতার, টেলিভিশনে ইসলামী সঙ্গীত প্রচার বেড়ে যায়। কিন্তু অডিও বাজারে এর কোনো নমুনা খুঁজে পাওয়া যায় না। অডিও কোম্পানিগুলো এ ব্যাপারে খুবই উদাসীন। একটা সময় অবশ্য এ ব্যাপারে কয়েকটি কোম্পানি বেশ সজাগ ছিল।ইসলামী গজল ও আধ্যাত্মিক সঙ্গীত প্রকাশ করা হতো ক্যাসেট আকারে। সাউন্ডটেক, সঙ্গীতা, বিউটি কর্নার, সুর মেলা, চেনা সুর, বেতার জগৎ, টোনাটুনি প্রভৃতি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান থেকে বের হতো এসব ক্যাসেট।আধ্যাত্মিক সঙ্গীত প্রচারের অংশ হিসেবে তারা প্রকাশ করতেন বিভিন্ন বয়াতির গাওয়া ভাব ও দেহতত্ত্বের গানও। আবার বিশেষ কিছু দোয়া ও জিকিরকেও সুরের মধ্যে ফেলে গজলে রূপ দিয়েছেন কোনো কোনো শিল্পী। এগুলোর মধ্যেও বেশ কিছু গজল শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে।এ প্রসঙ্গে সাউন্ডটেক ইলেকট্রনিক্সের কর্ণধার সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘ক্যাসেটের যুগে আমরা ইসলামী সঙ্গীতের ক্যাসেট প্রকাশ করেছিলাম অলাভজনক কর্মকাণ্ডের অংশ হিসেবে। ব্যাপক সাড়াও পেয়েছিলাম। সে কথা মাথায় রেখেই আমরা আমাদের পুরনো সেসব অ্যালবামের গান একে একে আমাদের ইউটিউব চ্যানেলে যুক্ত করার পরিকল্পনা করেছি। আশা করছি শ্রোতারা শিগগিরই সেসব গানের লিংক পেয়ে যাবেন।’এখন ক্যাসেটের যুগ নেই। ডিজিটাল পদ্ধতিতে হাম্দ, নাতসহ বিভিন্ন শিল্পীর গাওয়া ইসলামী সঙ্গীত বিভিন্ন অপারেটরের মাধ্যমে এখন পৌঁছে যায় শ্রোতার মোবাইলে। এর মধ্যে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা বেশকিছু গানসহ ইসলামী সঙ্গীত পাওয়া যায় রিং টোন ও ওয়েলকাম টিউন হিসেবে। সে কারণে এগুলো টিকে থাকে বছরজুড়েই।ইসলামী সঙ্গীত বা গজল গেয়ে একটা সময়ে শ্রোতার হৃদয় জয় করেছিলেন আবদুল আলীম। গেয়েছেন তার ছেলে জহীর আলীম ও নূরজাহান আলীমও। একই ধারায় আমরা আরও ইসলামী গান ও গজল শুনেছি ফেরদৌসী রহমান, শাহীন সামাদ, ফাতেমা তুজ জোহরা, বশীর আহমেদ, মোস্তফা জামান আব্বাসী, আঞ্জুমান আরা বেগম, নীলুফার ইয়াসমীন, ফেরদৌস আরা, খালিদ হোসেন প্রমুখের কণ্ঠে। বর্তমান সময়ের জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী আসিফ আকবরও গেয়েছিলেন ইসলামী সঙ্গীত। ইসলামী গজল নিয়ে অ্যালবাম বের করেছিলেন আধ্যাত্মিক ধারার কণ্ঠশিল্পী আরিফ দেওয়ান। টোনাটুনির প্রযোজনায় প্রকাশিত হয়েছিল এটি।এখন অনেক জনপ্রিয় ইসলামী গজলের বেশ কিছু লিংক ইউটিউবে পাওয়া যায় খুদে শিল্পীদের কণ্ঠেও। পাওয়া যায় সাইমুম শিল্পী গোষ্ঠীর বেশকিছু শ্রোতাপ্রিয় গান। ইসলামী গানের এ দলটি বেশকিছু অ্যালবামও বের করেছিল।কাজী নজরুল ইসলামের গান ছাড়াও তারা গেয়েছেন নতুন গীতিকবিদের লেখা গজল এবং সেগুলো শ্রোতাপ্রিয়ও হয়েছিল। বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ মাওলানা তারেক মনোয়ার তার ক্যারিয়ারের শুরুর দিকে অনেক ইসলামী সঙ্গীত গেয়ে জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।সাইফুল্লাহ মানছুরের গাওয়া ইসলামী সঙ্গীতও শ্রোতাপ্রিয়তা পেয়েছে। তার গাওয়া একটি গান সরাসরি ইসলামী সঙ্গীত না হলেও তার অন্তর্নিহিত ভাব পরোক্ষভাবে সৃষ্টির গুণগানই। গানটির কথা এমন- হিজল বনে পালিয়ে গেছে পাখি/ যতই তারে করুণ কেঁদে ডাকি/ দেয়না সাড়া নীরব গহীন বন/ বাতাসে তার ব্যথার গুঞ্জরণ।কাজী নজরুল ইসলাম থেকে শুরু করে যারাই ইসলামী সঙ্গীত রচনা করেছেন- প্রত্যেকেরই গানের বাণীতে রয়েছে মহান আল্লাহতায়ালা ও তার সৃষ্টি অথবা আমাদের প্রিয় নবী হজরত মোহাম্মদ (সা.)-এর গুণগান। কিছুকিছু গজলে বা সঙ্গীতে রয়েছে ইসলাম ধর্মকে শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের কথা কিংবা মানুষকে ভালো পথে আনার চেষ্টা।রমজানে ইফতাবির আগে-পরে, রাতে অফপিক আওয়ারে এবং ভোররাতে সাহরির শেষ সময়ের আগে আগে বেতার টেলিভিশনে প্রচার হয় ইসলামী সঙ্গীত। প্রায় সব চ্যানেলই এ ব্যাপারে বেশ সজাগ থাকে।তারপরও বিপুল জনপ্রিয় বা বহুল প্রচারিত ইসলামী গান বা গজলের সংখ্যা খুব বেশি নয়। এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ত্রিভুবনের প্রিয় মোহাম্মদ এলোরে দুনিয়ায়, নবী মোর পরশমণি নবী মোর সোনার খনি, আল্লাহু আল্লাহু তুমি জাল্লে জালালুহু, আমি যদি আরব হতাম মদিনারই পথ, বাজিছে দামামা বাঁধোরে আমামা, মসজিদেরই পাশে আমার কবর দিও ভাই, এই সুন্দর ফুল সুন্দর ফল মিঠা নদীর পানি খোদা তোমার মেহেরবাণী, তাওহিদেরই মুর্শিদ আমার মোহাম্মদের নাম, আল্লাহকে যে পাইতে চায় হজরতকে ভালোবেসে, শোনো শোনো ইয়া এলাহি আমার মোনাজাত, আল্লাহতে যার পূর্ণ ঈমান কোথা সে মুসলমান, সাহারাতে ফুটলরে রঙিন গুলে লা লা, তোরা দেখে যা আমেনা মায়ের কোলে, রাসূল নামের ফুলের ঘ্রাণে, মনে বড় আশা ছিল যাব মদিনায়, আল্লাহ তুমি দেখাও সরল পথ, ধর্মের পথে শহীদ যাহারা, সাগর নদী আর পাহাড় বনে প্রভৃতি। তবে একটি নতুন গান সাম্প্রতিককালে বিশেষভাবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে রিংটোন বা কলারটোন হিসেবে। খুদে শিল্পীর গাওয়া গানটি স্থায়ী অংশ উল্লেখ না করলেই নয়- দুনিয়া সুন্দর মানুষ সুন্দর/ আসমান সুন্দর জমিন সুন্দর/ সুন্দরে সুন্দরে পাল্লা/ জানি না কত সুন্দর তুমি আল্লাহ।