শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি বিজিএমইএর

এবারের ঈদে শতভাগ পোশাক কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধ করা হয়েছে বলে দাবি করেছে বিজিএমইএ।বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেন বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান।তিনি জানান, ৩৫টি কারখানায় বেতন-বোনাস নিয়ে কিছু সমস্যা ছিল। তবে বিজিএমইএর সহযোগিতায় এসব কারখানার শ্রমিকরাও শেষ পর্যন্ত বেতন-বোনাস পেয়েছেন। এ মুহূর্তে বেতন-ভাতা সমস্যার সমাধান হয়নি এ রকম কোনো কারখানা নেই। বেতন-বোনাস পরিশোধের পর বৃহস্পতিবারই কারখানাগুলোতে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে বলেও জানান সিদ্দিকুর।তবে শতভাগ কারখানায় বেতন-বোনাস পরিশোধের দাবি অস্বীকার করেছেন গার্মেন্টস শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়ন কেন্দ্রের সাধারণ সম্পাদক জলি তালুকদার। সমকালকে তিনি বলেন, বিজিএমইএর দাবি সঠিক নয়। বৃহস্পতিবার বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত বেশ কয়েকটি কারখানায় বকেয়া বেতন, নিয়মিত বেতন ও বোনাস বাকি ছিল। তবে পরিশোধের এখনও সময় আছে। সন্ধ্যা নাগাদ সঠিকভাবে বলা যাবে আসলে কত কারখানায় এখনও বেতন-বোনাস পরিশোধ বাকি আছে অথবা পরিশোধ করা হয়েছে।সংবাদ সম্মেলনে বিজিএমইএ সভাপতি অভিযোগ করেন, ঘোষিত মজুরি বোর্ডের ইস্যুকে সামনে রেখে বেতন-বোনাস নিয়ে শ্রমিকদের উস্কানি দিয়ে অসন্তোষের চেষ্টা করা হয়েছে। মাসের মধ্যভাগে ঈদ হওয়ায় আগের মাসের বেতন এবং বোনাস প্রায় একসঙ্গে পরিশোধ করা হয়েছে। তার পরও বেআইনিভাবে চলতি মাসের ১৪ দিনের বেতন পরিশোধের দাবি তুলেছেন শ্রমিকদের কেউ কেউ। আবার অতিরিক্ত ছুটির দাবিকে ইস্যু করেও অসন্তোষের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে অত্যন্ত কষ্ট করে হলেও উদ্যোক্তারা শেষ পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বেতন-বোনাস পরিশোধ করেছেন।ঈদে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ-সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্য এবং পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরতে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। রাজধানীর কারওয়ান বাজারে বিজিএমইএর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের সহসভাপতি মোহাম্মদ নাছির, পরিচালক মুনির হোসেন ও আনোয়ার হোসেন উপস্থিত ছিলেন। সিদ্দিকুর রহমান বলেন, সরকারি বিভিন্ন সংস্থার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, এক হাজার ২০০ কারখানা এ বছর বেতন-বোনাস পরিশোধ নিয়ে ঝুঁকিতে ছিল। এসব সংস্থার সহযোগিতায় বিজিএমইএর ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট সেলের মাধ্যমে এ কারখানাগুলোকে ক্লোজ মনিটরিংয়ের আওতায় আনা হয়। সমস্যার ধরন বুঝে কারখানাভিত্তিক সমাধান নেওয়া হয়েছে। বিজিএমইএ, মালিক, শ্রমিক, ফেডারেশনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা এবং ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে যাতে কারখানা মালিকরা শ্রমিকদের বেতন-বোনাস পরিশোধ করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।