‘রাজীবের নিথর হাত যেন নাগরিক জীবনের প্রতিচ্ছবি’

স্বজনসহ সবার প্রার্থনাও ছিল তার সুস্থতার জন্য। তবে শেষ পর্যন্ত সবাইকে কাঁদিয়ে না ফেরার দেশেই চলে গেছেন রাজীব হোসেন। তার এমন মর্মান্তিক মৃত্যুতে তার পরিবারের পাশাপাশি শোকার্ত দেশের অনেক মানুষ। তার মৃত্যুতে সমবেদনা জানিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দিয়েছেন অনেকে।সাংবাদিক মুকিমুল আহসান হিমেল লিখেছেন, ‌ দুই বাসের ফাঁকে আটকে থাকা রাজীবের নিথর হাতখানি আমাদের নাগরিক জীবনের প্রতিচ্ছবি। হাতখানি বলে গেলো এ শহর মানবিক না। এ শহর উম্মাদদের নিয়ন্ত্রণে। স্বপ্নীল স্বপন নামে এক শিক্ষার্থী লিখেছেন, গণপরিবহনগুলো চলাচলে মানা হচ্ছে না কোনো নিয়মকানুন। অদক্ষ হাতে বেপোরোয়া গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারাচ্ছে অনেক যাত্রী। মো. আদনান সিকদার নামে আরেকজন লিখেছেন, ‌ বিমান দুর্ঘটনায় স্বজনরা বীমার টাকা পায়, সড়ক দুর্ঘটনা হলে কী পায়? ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী শাওন আজাদ লিখেছেন, রাজিবের মতো মৃত এখন আমাদের দেশও। রাস্তায় বাসগুলো যেভাবে চলে এবং রাস্তার কোন নিয়ম কানুন নাই, কারও কোন ভ্রুক্ষেপও নাই। কলামিস্ট লীনা পারভীন লিখেছেন, রাজীবের মৃত্যুতে কষ্ট পাইনি। হাত হারানোর পর কষ্ট বুকে নিয়ে ধুকে ধুকে বেঁচে থাকার চেয়ে সে রেহাই পেয়েছে এটাই বা কম কী। রাজীবের ঘাতকেরা বেঁচে থাকুক স্বাধীন দেশে উল্লাসের সাথে। বাকিরা অন্ধ হয়ে থাকি। রেজাউল করিম নামে একজন বেসরকারি চাকরিজীবী লিখিছেন, ঢাকা ছেড়ে চলে যাচ্ছেন রাজীব, কোনো দিন আর ফিরবেন না। গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর যাত্রাবাড়ীর বাসা থেকে বিআরটিসির একটি বাসের দরজায় ঝুলে কলেজে যাচ্ছিলেন রাজীব। বাসটি সার্ক ফোয়ারার কাছে সিগন্যালে থেমে যায়। ওই সময় সেখানে স্বজন পরিবহনের একটি বাস বিআরটিসির বাসটিকে দ্রুত অতিক্রম  করার চেষ্টা করে। দুই বাসের রেষারেষিতে রাজীবের ডান হাতটি চাপা পড়ে কনুই থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সেই হাতটি দীর্ঘক্ষণ আটকে থাকে দুই বাসের মাঝে। এমন দৃশ্য গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে তোলপাড় শুরু হয়। পুলিশ ঘটনার পর দুই বাস চালককেও গ্রেফতার করে। সোমবার রাত ১২টা ৪০ মিনিটে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। গত ৩ এপ্রিল দুর্ঘটনার দুই দিন পর থেকে ওই হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। সর্বশেষ ১০ এপ্রিল থেকে ছিলেন লাইফ সাপোর্টে।