মৌসুমীকে দেখে…

ভারতের মুম্বই শহরের ওরলিতে বহুতল একটি আবাসিক ভবনে আগুন   লেগেছে। এই ভবনেরই ২৭ তলায় বাস করেন বলিউডের জনপ্রিয় অভিনেত্রী দীপিকা পাড়ুকোন। ভবনটিতে তার অফিসও রয়েছে। এনডিটিভি ও ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস সূত্রে জানা গেছে এ সংবাদ। সেখানে আরো বলা হয়েছে, আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৬টি ইঞ্জিন ও ৫টি ট্যাঙ্কার কাজ করছে। এদিকে শুধু দীপিকা নন, আরও অনেক সেলিব্রিটি ওই আবাসনে থাকেন বলে জানা গেছে। মুম্বই পুলিশ জানায়, অগ্নিকা-ের ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কেউ হতাহত হননি। আগুন নেভানোর জন্য কর্তৃপক্ষ সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে। পুলিশ আরও জানায়, স্থানীয় সময় দুপুর ২টার দিকে ভবনটির ৩৩ তলা থেকে আগুনের সূত্রপাত ঘটে। এ ঘটনায় উপরের দু’টি তলা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। আগুন লাগার পর ৯০ জনেরও বেশি বাসিন্দাকে নিরাপদে ভবন থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। সেদিন ছিলো ১১ই জুন সোমবার। বাংলাদেশ কালচারাল রিপোর্টার্স ইউনিটির আয়োজনে রাজধানীর মগবাজারের একটি রেস্টুরেন্টে অনুষ্ঠিত হয় দোয়া ও ইফতার মাহফিল। দেশের অন্য অনেক তারকার মতো প্রিয়দর্শিনী মৌসুমী ও তার স্বামী চিত্রনায়ক ওমরসানীও এই আয়োজনে অংশ নিয়েছিলেন। ইফতার শেষে ওমরসানী ও মৌসুমী বাসায় চলে যাওয়ার জন্য যখন নীচে নেমে আসেন তখন সেখানে হুইল চেয়ারে বসা একটি মেয়ে মায়ের সহযোগিতায় মৌসুমীর দিকে এগিয়ে আসেন। পাশে থেকে চিত্রনায়ক কায়েস আরজু তখন মৌসুমীকে বলছিলেন, আপু আপনাকে দেখার জন্য এই পথশিশু অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছে। আরজুর কথা শুনে মৌসুমী  ও ওমরসানী দু’জনেই মুক্তার কাছে যান। মুক্তা তার মা মমতাকে সঙ্গে নিয়ে এই রাজধানী শহরে ভিক্ষা করে জন্মের পর থেকেই। মৌসুমীও সে কথা জেনে আর্থিতভাবে সহযোগিতা করার জন্য যখন মুক্তার দিকে এগিয়ে গেলেন তখন মুক্তা শুধু বারবার বলছিল, ‘আমার কিছুই লাগবো না আপা, কিছুই লাগবো না। আল্লাহর কাছে দোয়া করছিলাম, আমি যেন আপনারে একদিন একনজর দেখতে পারি। আল্লাহ আমার মনের আশা পূরণ করেছেন। আমি আর কিছু চাই না। আল্লাহ আপনারে ভালো রাখুন এই দোয়া করি আপা। আপনারা দু’জন সুখে থাকেন, ভালো থাকেন দোয়া করি।’ মুক্তা যখন এই কথাগুলো বলছিলেন তখন মৌসুমীকে দেখতে পারার কারণে তার চোখে-মুখে দারুণ উচ্ছ্বাস আর আনন্দ ফুটে উঠেছিল। মৌসুমী চলে যাওয়ার পর মুক্তা তার মা মমতাকে সঙ্গে নিয়ে চলে যায় নিজের আগামী দিনের জন্য অর্থ সংগ্রহ করতে। মৌসুমী বলেন, সত্যিই এক অন্যরকম মুহুর্তের মুখোমুখি হয়েছিলাম সেদিন। বারবার মুক্তার সেই হাস্যোজ্জ্বল মুখটির দিকে তাকিয়ে ছিলাম আমি। মানুষ আমাকে ভালোবাসে জানি, কিন্তু মুক্তার এই ভালোবাসার তুলনা হয় না কোনকিছুতেই। শুধুমাত্র আমাকে অল্প সময়ের জন্য দেখেই সে যে পরিমাণ খুশি হয়েছিলো তার সেই উৎফুল্ল মুখখানি এখনো চোখে ভাসছে। ওমরসানী বলেন, মৌসুমীর প্রতি মুক্তার ভালোবাসা দেখে আমি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েছিলাম। এই ভালোবাসা কোনকিছুর বিনিময়ে পাওয়া যায় না। মুক্তার নিষ্পাপ মনের ভালোবাসার কাছে আমরা ঋণী হয়ে রইলাম।