মায়ের কবরের পাশেই শায়িত হবেন রাজীব

দুর্ঘটনায় হাত হারানো তিতুমীর কলেজছাত্র রাজীব হোসেনের মৃত্যুতে পটুয়াখালীর বাউফলে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। মা ও নানা-নানীর কবরের পাশেই দাফন করা হবে রাজীবকে। সোমবার রাতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান রাজীব। এ খবর তার বাড়িতে শোনার পর থেকে বাউফলের দাসপাড়া ইউনিয়নে তার গ্রামের বাড়িতে চলছে শোকের মাতম। বাড়িতে আত্মীয়-স্বজন ও পাড়া প্রতিবেশিদের কান্নায় আকাশ ভারি হয়ে ওঠেছে।রাজীবের মামা জাহিদ চৌকিদার ও মিরাজ চৌকিদার বলেন, রাজীব ২০০৫ সালে তার মা নাসিমা বেগমকে এবং ২০১১ সালে বাবা হেলাল উদ্দিনকে হারায়। তিন ভাইয়ের মধ্যে রাজীব ছিল বড়। মেঝ ভাই মেহেদি হাসান (১৩) এবং ছোট ভাই আবদুল্লাহ (১০) কে নিয়ে ঢাকায় মেঝখালার রাজারবাগের টিএনটি কলোনিতে বসবাস করত। রাজীব শান্ত প্রকৃতির ও মেধাবী ছিল। খালা-খালু ও মামাদের সাহায্যেই চলতো তাদের শিক্ষাজীবন। রাজীবের এই ছোট দুই অবুঝ ভাইদের এখন কে দেখবে? কি দিয়ে বুঝাবো ওদের ভাইয়ের অভাব? এই বলে কান্নায় ভেঙে পড়েন তারা।গত ৩ এপ্রিল রাজধানীর কারওয়ান বাজারের সার্ক ফোয়ারার কাছে বিআরটিসি ও স্বজন পরিবহনের দুই বাসের রেষারেষিতে হাত হারান ছাত্র রাজীব। দুই বাসের চাপায় তার ডান হাত কনুইয়ের ওপর থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। দুর্ঘটনার পরপরই তাকে পান্থপথের শমরিতা হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে পরে ঢামেক হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে রাজীবের শারীরিক অবস্থার ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছিল। কিন্তু পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়।রাজীবের খালা জাহানারা বেগম সোমবার রাতে সাংবাদিকদের বলেন, রাত পৌনে ১টায় ডাক্তাররা রাজীবের মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন।