বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী

শফিকুল ইসলাম খানের ‘অচেনা হৃদয়’ ছবির মধ্য দিয়ে প্রসূনের চলচ্চিত্রে অভিষেক হয়। ২০১৪ সালের দিকে ছবিটি মুক্তি পায়। পরে তিনি ‘সর্বনাশা ইয়াবা’ ও ‘মুসাফির’ শীর্ষক ছবিতে অভিনয় করে দারুণ প্রশংশিত হন। বর্তমানে তার হাতে ‘ভোলা’ শীর্ষক একটি চলচ্চিত্রের কাজ রয়েছে। ছবিটি পরিচালনা করছেন শফিকুল ইসলাম সোহেল। দীর্ঘ দিন থেকে এই ছবির কাজ শেষ হবে বলেও হচ্ছে না। এদিকে নতুন কোনো ছবিও প্রসূন হাতে নিচ্ছেন না। ছোট পর্দার কাজ নিয়েই তিনি ব্যস্ত সময় পার করছেন। তবে কি প্রসূন চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়াচ্ছেন? এমন প্রশ্নের উত্তরে প্রসূন বলেন, চলচ্চিত্র থেকে সরে দাঁড়াচ্ছি। তবে এই সময়ে নতুন ছবিতে কাজ করার জন্য আমি প্রস্তুত নই। সত্যি বলতে, আমি কিছুটা মুটিয়ে গেছি। ফিল্মে কাজের জন্য আমাকে তাই কিছু দিন সময় নিতে হবে। এছাড়া আমি এখন ছোট পর্দার কাজ নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমার এখন ছোট পর্দাকে ঘিরেই সব চিন্তা-ভাবনা। প্রসূনের হাতে বর্তমানে দুটি ধারাবাহিক নাটক রয়েছে। এনটিভিতে তার অভিনীত রহমতুল্লাাহ তুহীনের ‘যখন কখনো’ ও আরটিভিতে প্রিতমের ‘সেমি কর্পোরেট’ শীর্ষক ধারাবাহিক দুটি প্রচার হচ্ছে। ধারাবাহিক দুটি প্রসঙ্গে জানতে চাইলে প্রসূন বলেন, দুটি ধারাবাহিক থেকেই দর্শকের বেশ সাড়া পাচ্ছি। ধারাবাহিক দুটির গল্পও চমৎকার। আমি চেষ্টা করছি ভালো গল্প ও চরিত্রের ধারাবাহিকে অভিনয় করতে। এখন ধারাবাহিক নিয়ে নানা রকম অভিযোগ শোনা যায়। আমি চাই আমার অভিনীত ধারাবাহিকগুলো নিয়ে যেন নেতিবাচক আলোচনা না হয়। দর্শকের মনে দাগ কাটার মতো চরিত্র নিয়েই আমি পর্দায় থাকতে চাই। এদিকে প্রসূন এখন ঈদের নাটক-টেলিছবির কাজ নিয়েই বেশি ব্যস্ত রয়েছেন বলে জানান। এরই মধ্যে ঈদের জন্য একাধিক নাটকের শুটিং শেষ করেছেন তিনি। নাটকগুলো হলো ‘কংকাবতীর আংটি’, ‘সেভেনডেস নেপাল’, ‘খুঁজে ফিরি আপনায়’, ‘ওয়াও নেপাল’, ‘লাফিং বুদ্ধ’ ও ‘নেপাল স্ট্রেঞ্জার’ ‘তগদির’ ও ‘ব্ল্যাকমেইল’। চলতি মাসে ঈদের আরো বেশি কিছু নাটক টেলিছবির জন্য শিডিউল দিয়ে রেখেছেন বলে জানান। ঈদে এবার গতানুগতিক ধারার বাইরে বিভিন্ন ডিপারেন্ট গল্পের নাটক নির্মাণ হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন এই গ্ল্যামারকন্যা। তিনি আরো বলেন, ঈদের জন্য কয়েকটি ভিন্ন রকম গল্পের নাটকে অভিনয় করেছি। নির্মাতারা এখন বিভিন্ন ঢঙের গল্প নিয়ে কাজ করতে চান বলে আমি মনে করি। একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য গীতিকার ও সুরকার আহমেদ ইমতিয়াজ বুলবুলের চিকিৎসার দায়িত্ব নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলক বুধবার রাতে গণমাধ্যমকে এ তথ্য দেন। সমপ্রতি ফেসবুকে একটি পোস্টের মাধ্যমে নিজের অসুস্থতার কথা প্রকাশ করেন বুলবুল। তিনি জানান, তার হার্টে ৮টি ব্লক ধরা পড়েছে। শিগগিরই বাইপাস সার্জারি হবে। ওই লেখাটি প্রধানমন্ত্রীর চোখে পড়েছে বলে পলক জানান। এরপর প্রধানমন্ত্রী এ বিষয়ে খোঁজ নিয়ে যথাযথ চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন। মঙ্গলবার রাতে বুলবুল ফেসবুকে লেখেন, সরকারের নির্দেশেই ২০১২তে আমাকে যুদ্ধাপরাধীর ট্রাইব্যুনালের কাঠগড়ায় সাক্ষী হিসেবে দাঁড়াতে হয়েছিল। সাহসিকতার সঙ্গে সাক্ষ্যপ্রমাণ দিতে হয়েছিল ১৯৭১ এ ঘটে যাওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলখানার গণহত্যার সম্পূর্ণ ইতিহাস। আর, ওই গণহত্যা থেকে বেঁচে যাওয়া পাঁচজনের মধ্যে আমিও একজন। হত্যা করা হয়েছিল একসঙ্গে ৪৯ জন মুক্তিযোদ্ধাকে। কিন্তু, এই সাক্ষ্য দেয়ার কারণে আমার নিরপরাধ ছোট ভাই মিরাজ হত্যা হয়ে যাবে এ আমি কখনোই বিশ্বাস করতে পারিনি। সরকারের কাছে বিচার চেয়েছি, বিচার পাইনি। আমি এখন ২৪ ঘণ্টা পুলিশ পাহারায় গৃহবন্দি থাকি, একমাত্র সন্তানকে নিয়ে। এ এক অভূতপূর্ব করুণ অধ্যায়। একটি ঘরে ছয় বছর গৃহবন্দি থাকতে থাকতে আমি আজ উল্লেখযোগ্যভাবে অসুস্থ। আমার হার্টে ৮টা ব্লক ধরা পড়েছে এবং বাইপাস সার্জারি ছাড়া চিকিৎসা সম্ভব না। এরই মাঝে কাউকে না জানিয়ে আমি ইব্রাহিম কার্ডিয়াকে সিসিইউ-তে চারদিন ভর্তি ছিলাম। আগামী ১০ দিনের মধ্যে আমি আমার হার্টের বাইপাস সার্জারি করাতে প্রস্তুত রয়েছি। কোনো সরকারি সাহায্য বা শিল্পী, বন্ধু-বান্ধবের সাহায্য আমার দরকার নাই, আমি একাই যথেষ্ট (শুধু অপারেশনের পূর্বে ১০ সেকেন্ডের জন্য বুকের মাঝে বাংলাদেশের পতাকা এবং কোরআন শরীফ রাখতে চাই)।