বিশেষ দূত হিসেবে এরশাদের নিয়োগ ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন টিআইবির

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দূত ও জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নিয়োগ ও ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। তার পেছনে প্রতি মাসে রাষ্ট্রের পাঁচ লাখ টাকা ব্যয় হচ্ছে জানিয়ে তারা বলেছে, তাকে যে দায়িত্ব পালনের কথা বলা হয়েছে, সে ব্যাপারে তার কোনো ভূমিকাই দেখা যাচ্ছে না।  বৃহস্পতিবার রাজধানীর ধানমণ্ডিতে টিআইবির নিজস্ব গবেষণা 'পার্লামেন্ট ওয়াচ' প্রতিবেদনে এসব প্রশ্ন তোলা হয়। সংগঠনের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিশেষ দূতের জন্য ব্যয় করা টাকা সম্পর্কে বলেন, 'ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়ে থাকলে এটাকে দুর্নীতি বলা যেতে পারে।' প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা প্রতিবেদনের জবাবদিহিতার অংশে বলা হয়েছে, ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি এরশাদকে বিশেষ দূত হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে কোনো গেজেট প্রকাশ হয়নি বা দাপ্তরিক নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। গণমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আধুনিক মুসলিমপ্রধান গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি, দেশের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য বিশ্ব দরবারে পৌঁছে দেওয়া এবং মধ্যপ্রাচ্যে জনশক্তি রফতানি বাজার প্রসারে ভূমিকা পালনে তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু এ সময়ে তিনি চীন, ভারত, মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুর, ভুটানসহ অনেক দেশে ব্যক্তিগত সফর করলেও বিশেষ দূত হিসেবে তার কোনো ভূমিকা দেখা যায়নি। বিশেষ দূতের জন্য সরকারি প্রটোকল, বিশেষ ভাতা ও অন্যান্য খাত বাবদ গড়ে পাঁচ লাখ টাকা সরকারের ব্যয় হচ্ছে। এ ছাড়াও এরশাদ সংসদে একধরনের বক্তব্য দিলেও সংসদের বাইরে দলীয় ফোরামে তিনি সরকারবিরোধী ভূমিকায় অবতীর্ণ হওয়ার চেষ্টা করছেন। সংসদের বৈঠকেও তিনি ৩২৭ কার্যদিবসের মধ্যে মাত্র ৯৭ দিন উপস্থিত ছিলেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।  এ-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে ইফতেখারুজ্জামান বলেন, সরকারি মাধ্যম এবং এরশাদের দলের মাধ্যমে চেষ্টা করা হয়েছিল; কিন্তু তার বিশেষ দূত নিয়োগ-সংক্রান্ত কোনো সরকারি প্রজ্ঞাপন পাওয়া যায়নি।