বাসে ঈদযাত্রা: সকাল বিকাল ভিন্ন চিত্র

বৃহস্পতিবার সকাল ও বিকালে রাজধানীর গাবতলী, কল্যাণপুর ও টেকনিক্যাল মোড় ঘুরে দৃশ্যপটে এমন পরিবর্তন দেখা যায়। সকালের দিকে পরিবহন কর্মীদের হাঁকডাক কম থাকলেও সময়ের সঙ্গে পাল্টা দিয়ে সেটাও বাড়তে থাকে।যাত্রী ও কাউন্টারের ব্যবস্থাপকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অগ্রিম টিকেটের যাত্রীদের অধিকাংশই বিকাল পর্যন্ত ঠিক সময়ে বাড়ির পথ ধরতে পেরেছেন। যাদের অগ্রিম টিকেট ছিল না তারাও যে যেভাবে পেরেছেন রওনা করেছেন বাড়ির পথে।যাত্রীদের কেউ কেউ বেশি টাকা দিয়ে হলেও টিকেট কিনেছেন; কিংবা দূরপাল্লার লোকাল বাসে চড়ে বসেছেন গন্তব্যের উদ্দেশ্যে।বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে গাবতলীতে কথা হয় একটি বেসরকারি টেলিভিশনের ক্যামেরাপার্সন রুবেলের সঙ্গে; বিকাল ৪টায় সোহাগ পরিবহনের বাসে যশোর যেতে কাউন্টারের সামনে অপেক্ষায় ছিলেন তিনি।রুবেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, অগ্রিম টিকেট কাটা ছিল। ঢাকার যানজটের কথা চিন্তা করে আগেই কাউন্টারে এসেছি। বাস এলেই রওনা করব। বিকালে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে কল্যাণপুরের হানিফ এন্টারপ্রাইজ কাউন্টারে অপেক্ষায় ছিলেন সারওয়ার আলম। চারজনের জন্য আগে থেকে রংপুরের অগ্রিম টিকেট কিনেছিলেন সোনালী ব্যাংকের এই কর্মকর্তা।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, স্ত্রী-সন্তানরা আগেই তৈরি হয়ে ছিল। আমি অফিস শেষ করে দ্রুত চলে এসেছি, সাড়ে ৪টার বাসে যাব। আগে থেকে অগ্রিম টিকেট কাটা ছিল না গাইবান্ধার পলাশবাড়ির পথে রওনা করা নারগিস আক্তারের; অগত্যা টিকেটের জন্য বিভিন্ন কাউন্টার ঘুরতে হয় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের এক কর্মীকে।অবশেষে একটি পরিবহনে টিকেটের ব্যবস্থা হলেও সেখানকার একজন কর্মী ৪০০ টাকার টিকেটের দাম হাঁকাচ্ছিলেন এক হাজার টাকা।সকাল ১১টার দিকে নারগিস বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে টিকেট কিনি নাই, কিন্তু বাড়িতেতো যেতে হবে। এক হাজার টাকা হলেও টিকেটটা নিব, পরিবারের সবাইতো আমার অপেক্ষায় আছে। এসবি লিংক নামের একটি বাসে গাবতলী থেকে পাটুরিয়া ঘাটের দিকে রওনা করার আগে কথা হয় আবদুল খালেকের সঙ্গে। বাসের ভেতরে জায়গা না পেয়ে ছাদে উঠতে হয় পাবনার ঈশ্বরদীর এই যাত্রীকে।তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, আগে ঘাটে যাই, তারপর একটা না একটা ব্যবস্থা হবে। লঞ্চ কিংবা ফেরিতে ওপারে গিয়ে বাড়ির বাস ধরব। এখন পর্যন্ত ভালোভাবে যাত্রীদের বাড়ি পাঠাতে পারলেও সেটা আজকের পর বলবৎ থাকবে কি-না সেটা নিয়ে দুঃশ্চিন্তায় আছেন অনেক পরিবহন ব্যবস্থাপক।হানিফ এন্টারপ্রাইজের কল্যাণপুর কাউন্টারের ব্যবস্থাপক একেএম রইসুল আলম সবুজ বলেন, সকাল থেকে ঠিক সময়ে আমরা আমাদের ট্রিপগুলো ছেড়েছি। বিকালেও ছাড়তে পারব। এখন পর্যন্ত রাস্তায় কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি। মহাসড়কে অতিরিক্ত গাড়ি এবং দুর্ঘটনার কারণে সেই পরিস্থিতি নাও থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। রুটের গাড়ি নয়, এমন অনেক বাস এখন লোক নিয়ে যাচ্ছে। মানুষও উপায় না থাকায় সেগুলোতে যাচ্ছে। মহাসড়কে গাড়ি বাড়লে যানজট বাড়তে পারে এটাই স্বাভাবিক। গাবতলীতে সোনার তরী পরিবহনের কাউন্টার মাস্টার আলী হোসেন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, এখন পর্যন্ত রাস্তায় কোনো সমস্যা মোকাবেলা করতে হয়নি। দেখি, সেটা কতটুকু থাকে।