বার কাউন্সিলে পুনর্নির্বাচন দাবি বিএনপি সমর্থকদের

একই সঙ্গে অভিযোগের দায় নিয়ে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ও রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ আইন কর্মকর্তা মাহবুবে আলমের পদত্যাগও দাবি করেছেন সংগঠনটির নেতারা।  অন্যদিকে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের এ দাবিকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেছেন বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান শ ম রেজাউল করিম।বৃহস্পতিবার সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির মিলনায়তনে এক সংবাদ সম্মেলনে আইনজীবী ফোরামের মহাসচিব মাহবুব উদ্দিন খোকন বলেন, বার কাউন্সিল নির্বাচনে অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে।তিনি বলেন, সুপ্রিম কোর্ট বারের বর্তমান সদস্য ৯ হাজার ৯২ জন। কিন্তু বার কাউন্সিল নির্বাচনে সুপ্রিম কোর্ট বার থেকে ভোটার করা হয়েছে মাত্র ৮৫৩ জনকে। বিগত নির্বাচনে শত শত আইনজীবী সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির ভোট কেন্দ্রে ভোট দিলেও এবার ভোটার আইনজীবীদের অনুমতি-অনুরোধ ছাড়াই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন ভোট কেন্দ্রে ভোটাধিকার স্থানান্তর করা হয়েছে। এমনকি নির্বাচনের দিনও ৮৮ জনকে ভোট কেন্দ্র পরিবর্তন করার অনুমতি দিয়েছে।এ বিষয়ে সুপ্রিম কোর্ট আইনজীবী সমিতির পক্ষ থেকে বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেলকে চিঠি দিলেও তিনি কোনো নেননি বলে দাবি খোকনের।তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ভোটারদের জাতীয় পরিচয়পত্র বা পাসপোর্ট বা সংশ্লিষ্ট বারের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করে ভোটাধিকার প্রয়োগের সিদ্ধান্ত থাকলেও অ্যাটর্নি জেনারেল সংশ্লিষ্ট বারের ভোটারদের এ ধরনের কোনো নির্দেশ দেননি। এর ফলে আইনজীবী নন, এমন অনেকে ভোট দিয়েছেন। খোকন আরও বলেন, বার কাউন্সিলের বিধান থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনের দিন প্রত্যেক প্রার্থীর নির্বাচনী এজেন্টকে ফলাফল শিট দেওয়া হয়নি। এটা অত্যন্ত দুঃখজনক ও বেআইনি। সংবাদ সম্মেলনে খোকন নির্বাচনে অনিয়ম-দুর্নীতি সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি নজিরবিহীন দুর্নীতির অভিযোগের দায় নিয়ে মাহবুবে আলমের পদত্যাগ দাবি করেন।আইনজীবী ফোরামের সংবাদ সম্মেলনের পর একই স্থানে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেন বার কাউন্সিলের ফিন্যান্স কমিটির বর্তমান চেয়ারম্যান, আওয়ামী লীগ সমর্থক আইনজীবীদের নেতা শ ম রেজাউল করিম।তিনি বলেন, বার কাউন্সিলের নির্বাচনে ভয়াবহ পরাজয়ের গ্লানি থেকে বাঁচতেই ধূম্রজাল সৃষ্টি করার জন্য অসত্য বক্তব্য দিয়ে যাচ্ছে। তাছাড়া ফলাফল ঘোষণার আগেই এধরনের বক্তব্য অযাচিত। ভোট কেন্দ্র পরিবর্তনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, একাধিকবার ভোট দেওয়ার প্রবণতা রোধ করার জন্য বার কাউন্সিল এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এমনকি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দেশের সকল বারকে নোটিস দিয়ে বলা হয়েছে, কে কোন বারে ভোটাধিকার প্রয়োগ করবে সে বিষয়ে পছন্দ ঠিক করে দিতে। ভুয়া ভোট দেওয়ার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে রেজাউল করিম বলেন, এ নির্বাচনে প্রিজাইডিং অফিসার ছিলেন সকল জুডিশিয়াল অফিসাররা। বিচারকদরে বিরুদ্ধে এ জাতীয় গণঅভিযোগ আনা দুঃখজনক ও দুর্ভাগ্যজনক। গত সোমবার সারা দেশে বার কাউন্সিলের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনের অনানুষ্ঠানিক ফলাফলে সরকার সমর্থক সম্মিলিত আইনজীবী সমন্বয় পরিষদ ১৪টি আসনের মধ্যে ১২টি আসনে জয়লাভ করেছে। আর বিএনপি সমর্থক প্যানেল পেয়েছে দুটি পদ।বার কাউন্সিলের সচিব রফিকুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, সারা দেশের সব কেন্দ্রের রেজাল্ট শিট এখনও এসে পৌঁছায়নি। সব রেজাল্ট শিট আসার পরই তারিখ নির্ধারণ করে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণা করবেন বার কাউন্সিলের চেয়ারম্যান অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।