বাকী ও শাকিলকে নিয়ে বিজয় র‌্যালি আজ

অনেক নাটকের পর গেল বছর অস্ট্রেলিয়া দল এসেছিল বাংলাদেশ সফরে। কিন্তু মাত্র দুটি টেস্ট খেলেই ফিরে যায় তারা। এরপর কথা ছিল বাংলাদেশ দল যাবে অস্ট্রেলিয়াতে একটি পূর্ণাঙ্গ সফরে। এ বছর আগস্টে দুই টেস্ট ও ৩ ওয়ানডের একটি দ্বিপাক্ষিক সিরিজ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু বছরের শুরুতেই ক্রিকেট অস্ট্রেলিয়ার (সিএ) পক্ষ থেকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডকে (বিসিবি)কে জানানো হয় টাইগারদের আতিথেয়তা দিতে তারা অপারগ। অবশ্য এ নিয়ে বিসিবির পক্ষ থেকে চিঠি দেয়া হয়েছে। সফরটি আয়োজনের জন্য নানা প্রস্তাবও পাঠানো হয়েছে। এমনকি  টেস্টের পরিবর্তে ওয়ানডে সিরিজ আয়োজনের প্রস্তাবও দেয়া হয় বলে জানা গেছে। কিন্তু মন গলেনি তাদের। সহসা যে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়া হচ্ছে না বাংলাদেশ দলের তা অনেকটাই স্পষ্ট বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান আকরাম খানের কথাতে। গতকাল তিনি সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘এ সময় ওরা খেলবে না। এটা অনেক আগেই ওরা জানিয়ে দিয়েছে। এ বছর সম্ভাবনা খুবই কম। শিডিউলটা ওরা পরের বছর জানাবে।’ বাংলাদেশ দল ২০০৩-এ অস্ট্রেলিয়া  সফরে যায়। তার তিন বছর পর অস্ট্রেলিয়া দলও প্রথম দ্বিপক্ষীয় সিরিজ খেলতে এসেছিল। এরপর শুরু হয় তাদের নাটক। বিশেষ করে  ২০১১ তে সফরে এসে খেলে গেছে মাত্র ৩ ওয়ানডে। সেই সফরে ২ টেস্টের সিরিজ খেলার কথা থাকলেও তা না খেলেই চলে যায়। এরপর ২০১৫-তে নিরাপত্তার অজুহাতে ফের সফর বাতিল করে। সর্বশেষ ২০১৭-তে এসে দুই ম্যাচের টেস্টে একটিতে হেরে আরেকটি জয় নিয়ে দেশ ছাড়ে। বাংলাদেশ দল শেষ অস্ট্রেলিয়া সফরে যায় ২০০৮ সালে। সেই সিরিজে শুধু ওয়ানডেই খেলেছিল। অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে বাংলাদেশ দলের শেষ পূর্ণাঙ্গ দ্বিপক্ষীয় সিরিজ সেই ২০০৩-এ। আকরাম খান বলেন, ‘বাংলাদেশ দল এ বছর অনেক ব্যস্ত সময় কাটাবে। জুনে আফগানিস্তান সিরিজ, জুলাইয়ে বাংলাদেশ ওয়েস্ট ইন্ডিজে যাবে, সেখান থেকে ফ্লোরিডায় যাবে টি-টোয়েন্টি খেলতে। এরপর সেপ্টেম্বরে দুবাইয়ে এশিয়া কাপ, ফিরেই বিপিএল খেলবে। বিপিএলের পর বাংলাদেশ সফরে আসবে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও জিম্বাবুয়ে।’ এ বছর অস্ট্রেলিয়া আগস্ট-সেপ্টেম্বরে সিরিজ খেলতে রাজি না হলে টাইগারদেরও সময় নেই। এছাড়াও জুনে আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ খেলার কথা থাকলেও তা নিয়ে রয়েছে ধোঁয়াশা। কোন ফরমেটে খেলা হবে বা কবে তা মাঠে গড়াবে তা নিয়ে তিনি পরিষ্কার কোনো ধারণা দিতে পারেননি। প্রাথমিক আলোচনায় তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজটি ভারতের নয়ডাতে হওয়ায় কথা থাকলেও ভেন্যু বদলে বিসিসিআইকে ব্যাঙ্গালুরু কিংবা কলকাতায় আয়োজনের অনুরোধ করেছে বিসিবি। তবে এ বিষয়ে কিছুই জানেন না আকরাম খান। তিনি বলেন, ‘এখনও কথাবার্তা চলছে ওয়ানডে খেলবো নাকি টি-টোয়েন্টি খেলবো। দিন তারিখ ঠিক হয়নি। সিরিজটি দেরাদুনে হবে বলেও জানা গেছে। মূলত জঙ্গি হামলার ভয়ে আফগানিস্তানে কোনো আন্তর্জাতিক ম্যাচ আয়োজন সম্ভব নয়। যে কারণে আফগানিস্তান হোম ভেন্যু হিসেবে ব্যবহার করে ভারতের নয়ডাকে। এছাড়াও আফগানদের অন্য কোনো ভেন্যুতে খেলার সুযোগ ভারত দিবে কিনা তা নিয়েও রয়েছে যথেষ্ট সন্দেহ।’ গত রোববার পর্দা নামছে গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসের। আসরটিতে ৮০টি স্বর্ণ ৫৯টি রৌপ্য সমান সংখ্যক ব্রোঞ্জ জিতে পদক তালিকার শীর্ষস্থান দখল করেছে স্বাগতিক অস্ট্রেলিয়া। ৪৫টি স্বর্ণসহ ১৩৬টি পদক জিতে তালিকার দুই নম্বরে ইংল্যান্ড ও ২৬ স্বর্ণ ২০ রৌপ্য ও ২০ ব্রোঞ্জ জিতে তালিকার তিন নম্বরে রয়েছে ভারত। দুটি রৌপ্য জেতা বাংলাদেশ রয়েছে পদক তালিকার ৩০ নম্বরে। যাদের কল্যাণে পদক তালিকায় স্থান পেয়েছে বাংলাদেশ, সেই রৌপ্য জয়ী দুই শুটার আবদুল্লাহ হেল বাকী ও শাকিল আহমেদকে নিয়ে বিজয় র‌্যালি করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন। রৌপ্যজয়ী বাকী ও শাকিলরা ফিরেছেন গতকাল রাতে। আজই তাদের নিয়ে বিজয় র‌্যালি করবে ফেডারেশন। বিকালে বাকী-শাকিলদের নিয়ে বিজয় র‌্যালি শুরু হবে গুলশান-১ এর বাংলাদেশ শুটিং স্পোর্টস ফেডারেশন কার্যালয় থেকে। হাতিরঝিল হয়ে গুলশান-১ দিয়ে র‌্যালি যাবে গুলশান-২ এ। তারপর শুটিং ফেডারেশনের সামনে এসে শেষ হবে বিজয় র‌্যালি। ফেডারেশন সূত্রে জানা গেছে, রৌপ্যজয়ী দুই শুটারের জন্য বড় সংবর্ধনা আয়োজন করবে তারা। এ র‌্যালিটি আসলে তাদের দেশে ফেরার পর তাৎক্ষণিক আনন্দ হিসেবে।সংবর্ধনা অনুষ্ঠানেই বাকী-শাকিলদের হাতে তুলে দেয়া হবে ফেডারেশন ঘোষিত ৭ লাখ টাকা করে পুরস্কার। এর বাইরে বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনও তাদের ঘোষণা অনুযায়ী ৫ লাখ টাকা করে পুরস্কার দেবেন দুই শুটারকে। বাকী ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে ও শাকিল ৫০ মিটার পিস্তলে রৌপ্য জিতেছেন গোল্ড কোস্ট কমনওয়েলথ গেমসে। ৬ ডিসিপ্লিনে দল পাঠালেও অংশ নিতে পারেননি দুই বক্সার। বক্সিং কোচের ব্যর্থতায় না খেলেই গোল্ড কোস্ট থেকে ফেরত আসতে হয়েছে বক্সারদের। এছাড়া ৫০ ও ১০০ মিটার বাটারফ্লাইতে অংশ নিয়েছেন মাহামুদুর নবী।  দুটি ইভেন্টেই হিটে বিদায় নিয়েছেন এই সাঁতারু। ১০০ মিটার ব্রেস্টস্টোকে সাঁতারু আরিফুল ইসলাম নিজের সেরা টাইমিং করে ২৯ জন সাঁতারুর মধ্যে ২০তম হয়েছেন। হতাশ করেছেন আরেক সাঁতারু নাজমা খাতুন। অ্যাথলেটিক্সে বলার মতো টাইমিং করতে পারেননি দেশ সেরা দুই স্প্রিন্টার মেজবাহ ও শিরিন। ১০০ মিটার স্প্রিন্টে মেজবাহ ৫৩তম ও শিরিন হয়েছেন ৩৮তম। ২০০ মিটার স্প্রিন্টে সবার শেষে দৌড় শেষ করেছেন শিরিন। ভারোত্তোলনে দেশকে লজ্জায় ফেলেছেন শিমুল কান্তি সিংহ। হতাশ করেছেন ফুলমতি চাকমা ও জহুরা আকতার রেশমাও। এসএ গেমসে স্বর্ণ জয়ী ভারোত্তোলক মাবিয়া আক্তার সীমান্ত ৬৩ কেজি ওজন শ্রেণিতে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়েছেন। এই ইভেন্টে ব্যক্তিগত রেকর্ড গড়ে ১৩ জনের মধ্যে ১৮০ কেজি উঠিয়ে ষষ্ঠ হয়েছেন তিনি। এর মধ্যে স্ন্যাচে ৭৮ কেজি আর ক্লিন এন্ড জার্কে ১০২ কেজি। এর আগে আজারবাইজানে ইসলামিক সলিডারিটি গেমসে ১৭৯ কেজি ওজন তুলেছিলেন এই ভারোত্তোলক। ওটাই ছিল মাবিয়ার ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ। শুটিংয়ে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে আবদুল্লাহ হেল বাকী ও ৫০ মিটার পিস্তলে শাকিল আহমেদের হাত দিয়ে পদক এসেছে। এর বাইরে ১০ মিটার এয়ার রাইফেলে উম্মে জাকিয়া সুলতানা পদকের আশা দেখিয়েছিলেন। ১০ মিটার পিস্তলে ফাইনালে উঠেছিলেন শাকিল। বাকীদের স্কোরও খারাপ ছিলো না। কুস্তিতেও আশা দেখিয়েছেন শিরিন সুলতানা ও আমজাদ হোসেন। দুইজনই বিদায় নিয়েছেন ব্রোঞ্জের লড়াই থেকে।