বাংলাদেশের ব্যাংক খাতে দুর্দশার প্রভাব বৈশ্বিক পোশাক শিল্পে?

১৯৯৩ সালের কথা। যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে তখন চুটিয়ে প্রেম করছেন মারলা ম্যাপলস। একই সঙ্গে তিনি যৌন সম্পর্ক গড়ে তোলেন প্লেবয় ম্যাগাজিনের সাবেক তারকা বারবারা মুর (৪৯)-এর সঙ্গে। পরে মারলা ম্যাপলকে দ্বিতীয় স্ত্রী হিসেবে বিয়ে করেন ট্রাম্প। ওই বছর মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বারাবারা ও ডনাল্ড ট্রাম্প একাধিকবার বিছানায় গিয়েছেন। নিজে এসব কথা সাক্ষাতকারে বলেছেন বারবারা। লন্ডনের ডেইলি মেইলকে দেয়া এক সাক্ষাতকারে এসব তথ্য ফাঁস করেছেন তিনি। প্লেবয়ের সাবেক তারাকা ক্যারেন ম্যাকডুগাল প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। তাতে তিনি বারবারার নাম উল্লেখ করেছেন। এর প্রেক্ষিতেই মিডিয়ার চাপাচাপিতে মুখ খুললেন বারবারা। তিনি বলেছেন, ওই সময় ট্রাম্পকে থামানো যায় নি। বারবারার বন্ধুবান্ধবীদের সামনে ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। তিনি বলেছেন, ১৯৯২ সালের ডিসেম্বরে বারবারা মুরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় প্লেবয় ম্যাগাজিনের একটি ফ্যাশন শো করার জন্য। স্থানটি ঠিল ট্রাম্পের ক্যাসেল ক্যাসিনো হোটেল। বর্তমানে সেটি নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে গোল্ডেন নাগেট হোটেল নামে পরিচিত। বারবারা মুর বলেছেন, সেখানে যাওয়ার পর পরই তখনকার ধনকুবের ট্রাম্প তাকে চমকে দেয়ার চেষ্টা করেন। তিনি বলেন, আপনাকে খুবই সুন্দরী দেখাচ্ছে। আপনি ‘ক্লাসি’। এ সময় বারবারা মুরের ক্যারিয়ারের প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেন ট্রাম্প। ওই রাতেই তারা একসঙ্গে সময় কাটান। তখন বারবারা মুরের বয়স ২৪ বছর। কয়েক সপ্তাহ পরে ট্রাম্প উড়ে গেলেন তার কাছে মার এ লাগোতে। সেখানে রমণীয় সঙ্গ ভোগ করেন পাঁচ রাত। এরপর বারবারা মুরকে আমন্ত্রণ জানানো হয় ট্রাম্প টাওয়ারে। বারবারার দাবি, সেখানেও ট্রাম্প তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেন, যা তার এক বন্ধু দাঁড়িয়ে প্রত্যক্ষ করে। ওই সময় ট্রাম্পের প্রেমিকা মারিয়া ম্যাপল যে অন্তঃসত্ত্বা ছিলেন তা জানতেন না বারবারা। সেই মারলা ম্যাপলের সঙ্গে প্রতারণা করে ট্রাম্প যৌন সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন বারবারার সঙ্গে। তবুও ট্রাম্পকে একজন মহৎ প্রেমিক, বড় মাপের একজন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দেখেন তিনি। তিনি স্মরণ করেন কিভাবে ট্রাম্পের দ্বিতীয় স্ত্রী মারলা ম্যাপলের চোখ ফাঁকি দিয়ে মার এ লাগো ও ট্রাম্প টাওয়ারে শরীরের রঙ্গলীলায় মেতে উঠেছিলেন। বারবারা ডেইলি মেইলকে বেশ কিছু ছবি সরবরাহ করেছেন। তাতে তাকে বিকিনি পরা অবস্থায় দেখা যায়। তাকে দেখা যায় প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেসরকারি বাসভবন মার এ লাগোতে। সেখানে সুইমিংপুলে মাংসপেশীর ব্যায়াম করছেন প্রেসিডেন্ট সে ছবিও রয়েছে বারবারার ঝুলিতে। তিনি ডেইলি মেইলকে বলেছেন, ১৯৯৩ সালের মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চয় মাস আমি চুটিয়ে প্রেম করেছি ডনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে। এটা ছিল এক অবাধ সম্পর্ক। তিনি ছিলেন তখন এক মহান প্রেমিক এবং ভদ্রলোক। তখনও ইম জানতে পারি নি যে, তিনি মারলা ম্যাপলের সঙ্গে এনগেজড। আমি সম্প্রতি জানতে পারি ওই সময় মারলা ছিলেন অন্তঃসত্ত্বা। বিষয়টা আমার কাছে হতাশার মনে হয়েছে। এ জন্য আমি ট্রাম্পকে দোষ দিতে পারি না। বারবারার এ সব অভিযোগের জবাব পেতে যুক্তরাষ্ট্রে হোয়াইট হাউজের সঙ্গে যোগাযোগ করে ডেইলি মেইল। সেখান থেকে একটি সূত্র বলেছেন, প্রেসিডেন্ট জানিয়েছেন এসব মিথ্য অভিযোগ। উল্লেখ্য, পর্নো তারকা স্টর্মি ডানিয়েল ও সাবেক প্লেবয় মডেল ক্যারেন ম্যাকডুগাগ সম্প্রতি ট্রাম্পের বিরুদ্ধে যে ভয়াবহ যৌনতার অভিযোগ এনেছেন, তাতে মার্কিন মুলুকে তোলপাড় চলছে। বলা হচ্ছে, ঘরে তখন স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প পর্নো তারকার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করেছেন। এ জন্য স্টর্মি ডানিয়েলস ও ম্যাকডুগাল প্রকাশ্যে প্রেসিডেন্টের সমালোচনা করেছেন। কিন্তু তাদের থেকে একটু অন্যরকম বারবারা। তিনি প্রেসিডেন্টকে তো প্রশংসাই করেছেন। বিলিয়নিয়ার ট্রাম্পের সঙ্গে নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে ট্রাম্পের ক্যাসেল ক্যাসিনো হোটেলে প্রথম সাক্ষাত হয় তার। সেখানে পার্টি শেষে সবাই একটি রুমে গিয়ে হাজির হলেন। সেটা ছিল ককটেল পার্টি। সেকানে পিয়ানিস্ট ছিলেন। ওই রুমের ভিতরে আমরা যা খুশি তাই করছিলাম। তবে ডনাল্ডের চোখে চোখ পড়ার কথা আমি স্মরণ করতে পারি। আমার মনে হলো বিদ্যুতস্ফুলিঙ্গ আমাকে স্পর্শ করলো। তাৎক্ষণিকভাবে আমি তার প্রেম পড়ে যাই। মার্চ মাসে ব্যাংক থেকে গণহারে অর্থ উত্তোলন করেছেন আমানতকারীরা। এছাড়া খেলাপী ঋণের মাত্রা উর্ধ্বমুখী। ফলস্বরূপ, তারল্য সংকটের সম্মুখীন বাংলাদেশের আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো। অবস্থা এমন দাঁড়াতে পারে যে, ঋণ দেওয়ার মতো অর্থই থাকবে না ব্যাংকের। বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীরা আশঙ্কা করছেন, বড় ধরণের সংকট তৈরি হলে তার প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের টেক্সটাইল উৎপাদন ও তৈরি পোশাক খাতেও। বিলম্বিত হতে পারে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের পোশাক সরবরাহ। ফলে বাংলাদেশের ব্যাংকিং খাতে সংকটের আঁচ পড়তে পারে বৈশ্বিক পোশাক খাতেও। এ খবর দিয়েছে বৃটিশ পত্রিকা ফিন্যান্সিয়াল টাইমস। খবরে বলা হয়, বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় হাল ফ্যাশন কোম্পানি ও খুচরা বিক্রেতা এইচঅ্যান্ডএম, আমেরিকান ইগল, জারা, ওয়ালমার্ট ও টার্গেটের মতো প্রতিষ্ঠানের পোশাক তৈরি হয় বাংলাদেশে। আর এই খাতই বৈশ্বিক অর্থনীতির সঙ্গে বাংলাদেশের সবচেয়ে শক্তিশালী সংযোগ। তাই ব্যাংকিং খাতে সৃষ্ট সংকট পোশাক খাতেও হানা দিতে পারে।বিশ্বের শীর্ষ তিন ক্রেডিট রেটিং কোম্পানির অন্যতম ফিচ গ্রুপের ইউনিট বিএমআই রিসার্চের দেশ-ভিত্তিক ঝুঁকির বিশ্লেষক জ্যাসন ইয়েক বলেন, ‘বাংলাদেশের বাণিজ্যিক ব্যাংকের শিল্পখাত ভিত্তিক ঋণে ভালোই তারতম্য দেখা যায়। তবে অন্য শিল্পখাতের তুলনায়, ঋণের উল্লেখযোগ্য অংশ যায় টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক শিল্প ও নির্মাণ খাতে।’ তিনি আরও বলেন, ‘ব্যাংকিং খাতে সংকটের কারণে গার্মেন্ট শিল্প যদি ঋণ না পায়, তাহলে বৈশ্বিক খুচরা পোশাক কোম্পানিগুলোতে পোশাক সরবরাহে বিলম্ব ঘটতে পারে।’খবরে বলা হয়, চীনের পর বাংলাদেশই তৈরি পোশাক খাতের সর্বোচ্চ রপ্তানিকারক দেশ। বাংলাদেশে উৎপাদিত পণ্য টোকিও থেকে লস অ্যানজেলেসে শোভা পায়। গত জুলাই থেকে এ বছরের জানুয়ারি নাগাদ বাংলাদেশ ১৭৭০ কোটি ডলারের নিটওয়্যার ও ওভেন গার্মেন্ট রপ্তানি করেছে, যা দেশটির মোট রপ্তানির ৮৩ শতাংশ। বাংলাদেশের হাজার হাজার গার্মেন্ট কারখানার অনেকগুলোর পুঁজি হলো স্থানীয় বাণিজ্যিক ব্যাংক থেকে নেওয়া ঋণ।খবরে বলা হয়, ব্যাংক খাতের সম্ভাব্য এই ঝুঁকি নিয়ে মন্তব্য করেনি শীর্ষ কোনো খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। বাংলাদেশের বড় কারখানাগুলোও ইমেইলের জবাব দেয়নি। বিএমআই গত মাসে বলেছে যে, বছরের পর বছর ধরে চলা দুর্নীতি ও ঋণ দেওয়ার নি¤œমানের চর্চার কারণে কিছু কিছু ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পরিমাণ ২০ শতাংশেরও বেশি।মার্কেট ইনভেস্টমেন্ট ব্যাংক এক্সোটিক্স ক্যাপিটালের গবেষক ওয়াসিম খান বলেন, বাংলাদেশে ব্যাংকিং খাতের সংকট বৈশ্বিক পোশাক সরবরাহের চেইনে অবধারিতভাবে পরোক্ষ প্রভাব ফেলবে। তিনি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত আমি মনে করি না যে, আমরা এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছি যে সংকট অত্যাসন্ন। আমার কাছে যেটা আরও বেশি উদ্বেগজনক বলে মনে হয় সেটা হলো, পরিচালনা ঝুঁকি বা প্রণোদনা পরিবর্তনে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। এর মানে হলো, আমরা এখনও ওই পর্যায়ে না পৌঁছালেও, সেদিকেই ধীরে ধীরে যাচ্ছি।’