বরিশালে কমেছে পাসের হার, বেড়েছে জিপিএ-৫

বরিশাল শিক্ষা বোর্ডে ২০১৫ সালের পর থেকে প্রতিবছরই কমছে পাসের হার। সেই ধারা বজায় রয়েছে এবারও। চলতি বছর এই বোর্ডে পাশের হার ৭৭ দশমিক ১১, যা গত বছর ছিল ৭৭ দশমিক ২৪। তবে পাসের হার সামান্য কমলেও এ বছর জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ১৭৪ জন বেড়েছে। এই বোর্ডে এ বছর জিপিএ-৫ পেয়েছে ৩ হাজার ৪৬২ জন। গতবছর সর্বোচ্চ জিপিএ পেয়েছিল ২ হাজার ২৮৮ জন শিক্ষার্থী। রোববার সকাল ১১টায় চলতি বছরের এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণার সময় এ সব তথ্য তুলে ধরেন বরিশাল বোর্ডের পরীক্ষা নিয়šúক প্রফেসর মো. আনোয়ারুল আজিম।গত চার বছর ধরে পাসের হার ক্রমশ নিম্নমুখী হওয়ার কারণ সম্পর্কে তিনি বলেন, গত কয়েক বছর যাবৎ নিয়ম মেনে উত্তরপত্র মূল্যায়ন করার জন্য পরীক্ষকদের ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে। ফলে আগের মতো উত্তরপত্রে কম লিখে পরীক্ষায় পাসের সুযোগ নেই। স্কুলের টেস্ট পরীক্ষায় ফল খারাপ হলে তাদেরকে ফরম পূরণের সুযোগ দেওয়া হয় না। এছাড়া এ বছরের পরীক্ষায় প্রশ্নপত্র ফাঁসের গুজবে পরীক্ষার্থীরা মানসিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব কারণে পাসের হার কমতে পারে।পরীক্ষা নিয়šúক বলেন, এ বছর ইংরেজি ও অংক বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হওয়ায় মোট পাশের হারে এর প্রভাব পড়েছে। গ্রামাঞ্চলের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দক্ষ শিক্ষকের অভাবে শ্রেণিকক্ষে পাঠদানে ঘাটতি থাকায় এ দু'টি বিষয়ে অনেক শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে বলে অভিমত ব্যক্ত করেন তিনি।বরিশাল বোর্ডের ফলাফল থেকে জানা গেছে, উত্তীর্ণ পরীক্ষর্থীদের মধ্যে জিপিএ ৪-৫ পেয়েছে ১৬ হাজার ৯৫৬ জন, জিপিএ ৩.৫-৪ পেয়েছে ১৬ হাজার ৯৪১ জন, জিপিএ ৩-৩.৫ পেয়েছে ২০ হাজার ৯৯১ জন, জিপিএ-২-৩ পেয়েছে ২০ হাজার ৮০৯ জন এবং জিপিএ ১-২ পেয়েছে ৩৬১ জন।এই বোর্ডে বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরাই পাসের হারে এগিয়ে রয়েছে। এ বিভাগে ২৭ হাজার ৪১ জনের মধ্যে পাস করেছে ২৪ হাজার ২৫৫ জন। পাশের হার ৮৯ দশমিক ৭০। মানবিক বিভাগে ৪৭ হাজার ৩৭৪ জনের মধ্যে পাস করেছে ৩২ হাজার ৫৪১ জন। পাশের হার ৬৮ দশমিক ৬৯। ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ২৮ হাজার ৭০৯ জনের মধ্যে পাস করেছে ২২ হাজার ৭২৪ জন। পাশের হার ৭৯ দশমিক ১৫।প্রসঙ্গত, চলতি বছর অনুষ্ঠিত এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল রোববার প্রকাশ করা হয়েছে। এ বছর দেশের ১০ শিক্ষ বোর্ডে গড় পাসের হার ৭৭ দশমিক ৭৭ শতাংশ। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ১০ হাজার ৬২৯ জন শিক্ষার্থী।