ফ্ল্যাট লিখে না দেয়ায় স্ত্রীকে ‘ঘরছাড়া করলেন’ ইউএনও

আগামী অক্টোবরে জাতীয় নির্বাচনের শিডিউল ঘোষণা হবে। বিএনপি যদি নির্বাচনে আসতে না চায়, জোর করে কাউকে টেনে আনার দায়িত্ব আমাদের নেই। ঐতিহাসিক মে দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার শ্রমিক লীগ আয়োজিত শোভাযাত্রাপূর্ব সমাবেশে একথা বলেন জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি আরো বলেন, নির্বাচনে অংশগ্রহণ যেকোনো নিবন্ধিত দলের অধিকার। সে অধিকার যদি তারা প্রয়োগ না করে আমাদের কোনো গরজ নেই বিএনপিকে নির্বাচনে নিয়ে আসার জন্য চেষ্টা-তদবির করা। রাজধানীর বঙ্গবন্ধু এভিনিউ থেকে শোভাযাত্রা বের করে শ্রমিক লীগ। এর আগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন ওবায়দুল কাদের। তিনি দুর্ঘটনা এড়াতে পরিবহন শ্রমিকদের আরো বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন, এখন ক্ষমতায় আছি, আরও ৫০ বছর ক্ষমতায় থাকবো- এমন অহেতুক অহঙ্কার করা উচিত নয়। এরকম কথা বলে কর্মীদের মাঝে তরঙ্গ সৃষ্টি করা যায়। কিন্তু বাস্তবতায় এ ধরনের কথার কোনও ভিত্তি নেই। এসব বলে অহেতুক অহঙ্কার করা উচিত নয়। কে ক্ষমতায় কতদিন থাকবে তা জনগনই নির্ধারণ করবে। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. সরোয়ার হোসেন যৌতুক এবং বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে নানা কার্যক্রম চালান। কিন্তু তিনি নিজেই বিয়ের সময় যৌতুক নিয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। যৌতুক নেয়ার প্রমাণও (ব্যাংকে টাকা জমা দেয়ার রসিদ) রয়েছে। ইউএনওর শ্বশুরবাড়ির অভিযোগ, বিয়ের পর সরোয়ার হোসেন ধাপে ধাপে যৌতুক নিয়েছেন। এখন আরও ৫০ লাখ টাকার জন্য চাপ দিচ্ছেন শ্বশুর-শ্বাশুড়িকে। টাকার জন্য স্ত্রীকে নির্যাতনও করছেন। এসব অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলায় ইউএনও সরোয়ারের সঙ্গে তার মা জান্নাতুল ফেরদৌসকেও আসামি করা হয়েছে। গত ১৭ই এপ্রিল রাজধানীর চিফ মেট্রোপলিটন আদালতে মামলা করেন সরোয়ারের স্ত্রী রুকসানা আক্তার। আদালত আগামী ২৭শে মে সরোয়ার ও তার মাকে হাজির হতে সমন জারি করেছেন।আমতলীর ইউএনও সরোয়ারের শ্বশুর মুহাম্মদ সাদেক জানান, মেয়ে রুকসানা আক্তারকে সরোয়ারের সঙ্গে বিয়ে দেয়ার সময় নগদ এক লাখ টাকা ও বিভিন্ন ইলেকট্রনিক্স সামগ্রী দেই। পরে ছয় দফায় আইএফআইসি ব্যাংক লিমিটেড শরীয়তপুর শাখার হিসাব নং-১০৯২৪৮৪৫৫৫০৩১ এর বিপরীতে ওই ব্যাংকের ঢাকার ধানম-ি শাখার মাধ্যমে যৌতুক বাবদ চার লাখ টাকা দেই। এছাড়া সরোয়ারের বড় ভাই মো. তরিকুল ইসলামের নামে ভোলা পৌরসভার মার্কেটে দোকান বরাদ্দ নেয়ার জন্য ভোলার ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের অ্যাকাউন্টের বিপরীতে ওই ব্যাংকের ঢাকার ধানমণ্ডি শাখার মাধ্যমে এক লাখ টাকা দেই।মুহাম্মদ সাদেক আরও জানান, যৌতুকের টাকার জন্য বিয়ের পর থেকেই সরোয়ার ও তার পরিবারের সদস্যরা রুকসানা আক্তারকে মানসিক নির্যাতন করতে থাকেন। নতুন চাকরি এবং বেতন কমের অজুহাতে বিয়ের পর দীর্ঘ চার বছর সরোয়ার তার স্ত্রী রুকসানা আক্তারকে সঙ্গে রাখেননি। স্বামীর সঙ্গে থাকতে রুকসানা আক্তার চাকরি ছেড়ে গত বছরের ৪ঠা আগস্ট স্বামীর কর্মস্থল ফরিদপুরের সদরপুরে যান। কিন্তু সরোয়ার ও তার মা জান্নাতুল ফেরদৌস বিষয়টি স্বাভাবিকভাবে নেননি। এরপরই তারা যৌতুক হিসেবে আরও ৫০ লাখ টাকা অথবা ঢাকায় ফ্ল্যাট বা প্লট কিনে দেয়ার দাবি জানান। পাশাপাশি ঢাকায় তার (রুকসানার বাবা) বর্তমান ফ্ল্যাটটির অর্ধেক সরোয়ারের নামে লিখে দেয়ার জন্য চাপ দিতে থাকেন।রুকসানার পরিবার সূত্র জানায়, সরোয়ারের নামে ফ্ল্যাট লিখে দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ৮ই জানুয়ারি রাতে বাবার (মুহাম্মদ সাদেক) সামনেই রুকসানাকে তার শাশুড়ি ধাক্কা মেরে ফেলে দেন। এরপর থেকে রুকসানা আক্তার নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।গত ৯ই জানুয়ারি আমতলীর ইউএনও সরোয়ার হোসেন বাসার পিয়নের মাধ্যমে স্ত্রী রুকসানার ব্যবহারের কিছু মালামালসহ তাকে (রুকসানা) ইউএনওর গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশে বরিশাল পৌঁছে দেন। আমতলী থেকে স্ত্রীকে ঢাকায় পাঠিয়ে দেয়ার পর গত তিন মাস তিনি স্ত্রীর কোনো খোঁজ নেননি।এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও সরোয়ার হোসেন বলেন, বিষয়টি একান্তই আমার পারিবারিক বিষয়। আমার স্ত্রী রুকসানা মামলা দায়েরের পর আমার মা (জান্নাতুল ফেরদৌস) আমতলী সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি চুরির মামলা করেছেন। ওই মামলায় আমার স্ত্রী, শ্বশুর মুহাম্মদ সাদেক, শ্বাশুড়ি শিরিন আকতার ও শ্যালক ইমতিয়াজ বেল্লাল জিসানকে আসামি করা হয়েছে। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে। আশা করছি, সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।