পক্ষকালব্যাপী বৈশাখী নাট্যোৎসব শুরু

বৈশাখের শুরুতেই পক্ষব্যাপী নাট্যোৎসবে মেতে উঠলো দেশের নাট্যাঙ্গন। নতুন বছরের আবাহনে বৈশাখের তৃতীয় দিনে সোমবার থেকে শুরু হয়েছে পক্ষকালব্যাপী বৈশাখী নাট্যোৎসব। বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টায় মঞ্চস্থ হবে দর্শকনন্দিত ১৫টি নাটক। নববর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশ মহিলা সমিতির আয়োজনে পক্ষকালব্যাপী এ উৎসবে পৃষ্ঠপোষকতা করছে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সহযোগিতা করছে বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশান।সোমবার সন্ধ্যায় প্রদীপ প্রজ্জ্বলনের মাধ্যমে উৎসব উদ্বোধন করেন সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর। এ সময় উপস্থিত ছিলেন নাট্যজন রামেন্দু মজুমদার, মামুনুর রশীদ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশানের চেয়ারম্যান ও শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক লিয়াকত আলী লাকী, সেক্রেটারি জেনারেল আকতারুজ্জামান এবং মহিলা সমিতির নির্বাহী সদস্য নিপা সারোয়ার।আসাদুজ্জামান নূর বলেন, মহিলা সমিতির মঞ্চে বাংলাদেশের গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা শুরু। যখন আমরা শুরু করি, তখন এটিই ছিল একমাত্র মঞ্চ। সংস্কারের কারণে দীর্ঘদিন এই মঞ্চটি বন্ধ ছিল। তাই এর দর্শক হারিয়েছে। এ ধরনের আয়োজন দর্শক ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। সে সঙ্গে এ মঞ্চের ভাড়া রেহাতি হারে দিতে পুনঃরায় সরকার ভর্তুকি দিবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।লিয়াকত আলী লাকী বলেন, মহিলা সমিতি মানেই আমাদের শিহরণ। গ্রুপ থিয়েটারের চর্চা এবং বিকাশে এ মঞ্চের ভূমিকা অপরিসীম।উদ্বোধনী আনুষ্ঠানিকতা শেষে মঞ্চস্থ হবে আরণ্যকের দর্শকসমাদৃত প্রযোজনা রাঢ়াঙ ।  আরণ্যক নাট্যদলের ৪০তম এ প্রযোজনায় রচনা ও নির্দেশনা দিয়েছেন মামুনুর রশীদ। রাঢ়াঙ- যার অর্থ দূরাগত মাদুলের ধ্বনি। যেই ধ্বনির সঙ্গে মিশে আছে শোষিত সাঁওতালদের জেগে ওঠার গল্প। নাটকটিতে ফুটে উঠেছে সাঁওতালদের ঘাত-প্রতিঘাত, হাসি কান্না, জন্মভূমি থেকে উচ্ছেদ ও হত্যার নির্মম চিত্র। নাটকটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, তমালিকা কর্মকার, চঞ্চল চৌধুরী, আ খ ম হাসান, শামীম জামান, জয়রাজ, শামীমা শওকত লাভলী, আমানুল হক হেলাল, হাসিম মাসুদ, আরিফ হোসেন আপেল, সাজ্জাদ সাজু ও রুহুল আমিন প্রমুখ।মঙ্গলবার উৎসবের দ্বিতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে নাট্যদল দেশ নাটকের প্রযোজনা নিত্যপুরাণ । বুধবার তৃতীয় দিনে মঞ্চস্থ হবে ঢাকা থিয়েটার মঞ্চের নাটক ঘর জামাই । বৃহস্পতিবার চতুর্থ দিনে থিয়েটার মঞ্চস্থ করবে মেরাজ ফকিরের মা । এছাড়া উৎসবের বাকি দিনগুলোয় ধারাবাহিকভাবে মঞ্চস্থ হবে ঢাকা থিয়েটারের ধাবমান , লোক নাট্যদলের (সিদ্ধেশ্বরী) কঞ্জুস , পদাতিক নাট্য সংসদের (টিএসসি) গুনজান বিবির পালা , বটতলার নাটক ক্রাচের কর্নেল , আগন্তুক মঞ্চস্থ করবে ধলেশ্বরী অপেরা , থিয়েটার আর্ট ইউনিট মঞ্চস্থ করবে গোলাপজান , ঢাকা পদাতিক মঞ্চস্থ করবে পাইচো চোরের কিচ্ছা , প্রাচ্যনাট পরিবেশন করবে সার্কাস সার্কাস , প্রাঙ্গণেমোর মঞ্চস্থ করবে কনডেম্ড সেল , নাগরিক নাট্যাঙ্গন উপস্থাপন করবে ক্রীতদাসের হাসি এবং ৩০ এপ্রিল সমাপনী দিনে মঞ্চস্থ হবে নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের নতুন নাটক ওপেন কাপল ।