নব্য জেএমবির ‘নারী শাখার প্রধান’ জামিনে মুক্ত

ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালত থেকে মঙ্গলবার জামিন পেয়ে বুধবার কাশিমপুর কারাগার থেকে তিনি মুক্তি পেয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আদালতে রাষ্ট্রপক্ষের অন্যতম অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস পাল জানিয়েছেন।বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রশ্নের জবাবে সরকারি এই কৌঁসুলি জানান,  নাবিলার পক্ষে আইনজীবী ছিলেন অ্যাডভোকেট মানিক ঘোষ। তার সঙ্গে শুনানিতে অংশ নিয়েছিলেন ঢাকা আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মিজানুর রহমান মামুন।সন্দেহভাজন এই জঙ্গির জামিন আবেদনের বিরোধিতা করে বক্তব্য রাখেন পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী কমিশনার মো. ফরিদ।উভয়পক্ষের শুনানি নিয়ে ভারপ্রাপ্ত মহানগর দায়রা জজ নুরুল আমিন বিপ্লব তার জামিন মঞ্জুর করেন বলে অতিরিক্ত পিপি তাপস জানান।  গত বছরের ১৫ অগাস্ট ধানমন্ডির ৩২ নম্বরে বোমা হামলা চালিয়ে মন্ত্রী-এমপিসহ শতাধিক মানুষকে হত্যার পরিকল্পনা নস্যাৎ করার কথা জানিয়েছিল পুলিশ। নাবিলা ও তার স্বামী তানভীর ইয়াসিন করিম ওই ঘটনায় অর্থের জোগান দিয়েছিলেন বলে অভিযোগ পুলিশের।জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার অভিযোগে গত বছরের নভেম্বরে করিমকে গ্রেপ্তার করা হয়। তার স্বীকারোক্তির ভিত্তিতে গত  ৫ এপ্রিল সিদ্ধেশ্বরী এলাকা থেকে নাবিলাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।পুলিশের কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্স ন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিটের উপ কমিশনার মহিবুল ইসলাম খান সে সময় বলেছিলেন, হোমায়ারা ওরফে নাবিলা নব্য জেএমবির নারী শাখার প্রধান। তাকে তার সংগঠনে ব্যাট ওমেন বলে ডাকা হয়।সিটিটিসি কর্মকর্তারা বলেন, গত বছরে অগাস্টে পান্থপথের হোটেল ওলিওতে বিস্ফোরণে এক জঙ্গির মৃত্যুর তদন্তে গিয়ে প্রকাশনা সংস্থার মালিক করিমের সম্পৃক্ততা পাওয়ার পর তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে স্ত্রী হোমায়ারও জঙ্গিবাদে জড়িত থাকার প্রমাণ মেলে। তারা আর্থিকভাবে বেশ স্বচ্ছল।করিম ইন্টারন্যাশনাল ও দারুস সালাম পাবলিকেশন্স নামের প্রকাশনা সংস্থার মালিক করিমদের বাড়ি গুলশানে। মনিপুরিপাড়ায় তাদের বইয়ের দোকান রয়েছে। করিম ইন্টারন্যাশনাল বই প্রকাশের পাশাপাশি বিদেশি বিভিন্ন লেখকের বই বিদেশ থেকে এনে সরবরাহ করে থাকে।মামলার নথি সূত্রে জানা যায়, গ্রেপ্তারের পর কয়েক দফা রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল হুমায়ারা ওরফে নাবিলাকে। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সব কিছু স্বীকার করলেও আদালতে গিয়ে বিচারকের সামনে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হননি।তবে সাক্ষী হিসেবে তার এক খালাত ভাই আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।