‘টাইগারদের সমস্যাটা মানসিক’

বিরল এক রেকর্ড গড়লেন বাংলাদেশের অধিনায়ক সাকিব আল হাসান। তৃতীয় ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৫০০ উইকেট ও ১০০০০ রানের ‘ডাবল’ মাইলফলক স্পর্শ করলেন বিশ্বসেরা এই অলরাউন্ডার। ব্যাটে-বলে এমন কীর্তি রয়েছে কেবল দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস ও পাকিস্তানি অলরাউন্ডার শহীদ আফ্রিদির। তবে এমন কীর্তিতে অন্য এক পরিসংখ্যানে শহীদ আফ্রিদি ও জ্যাক ক্যালিসকে ছাড়িয়ে গেলেন সাকিব। আফ্রিদি-ক্যালিস এমন ‘ডাবল’ কীর্তি পূর্ণ করতে খেলেছেন ৫০০-উর্ধ্ব ম্যাচ। তবে সাকিব এমন অর্জন পূরণ করলেন নিজের ৩০২তম ম্যাচেই। বৃহস্পতিবার ভারতের দেরাদুনে আফগান ব্যাটসম্যান নাজিবুল্লাহ জাদরানকে আউট করে আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ৫০০তম শিকার পূর্ণ করেন ৩১ বছর বয়সী সাকিব। আর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে তিন ফরম্যাট মিলে সাকিবের দশ হাজার রান আগেই পূর্ণ হয়েছে। তিন ফরম্যাট মিলিয়ে এখন পর্যন্ত ৩০২ ম্যাচ খেলেছেন সাকিব আল। তার সংগ্রহ ১০১০২ (টেস্ট ৩৫৯৪, ওয়ানডে ৫২৪৩ ও টি-টোয়েন্টি ১২৬৫) রান। আর বল হাতে শিকার ৫০০ উইকেট (টেস্ট ১৮৮, ওয়ানডে ২৩৫, টি-টোয়েন্টি ৭৭)। বৃহস্পতিবার দেরাদুনের রাজীব গান্ধী আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বল হাতে ৪ ওভারের স্পেলে মাত্র ১৬ রানে এক উইকেট নেন সাকিব। শেষ পর্যন্ত আফগানিস্তানের বিপক্ষে হোয়াইটওয়াশের লজ্জায় ডুবলো বাংলাদেশ। বৃহস্পতিবার তিন ম্যাচ সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে আফগানদের কাছে ১ রানে হেরে যায় টাইগাররা। তীরে এসে তরী ডোবার কারণ কী? অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, সমস্যাটা মানসিক। টানা দুই ম্যাচে হার নিয়ে সিরিজ হাতছাড়া হয়েছিল আগেই। তবে, বৃহস্পতিবার হোয়াইটওয়াশ এড়ানোর লক্ষ্যে টাইগারদের নৈপুণ্যটা ছিল চোখে পড়ার মতোই। ম্যাচের প্রথম ভাগে ইনিংসের একবারে শেষ দুই ওভারে বল হাতে তুলে নেন স্পিনাররা। এতে দুই ওভারে স্পিনাররা দেন ১০ রান। শুরুর দিকে দুই রানআউটের ধাক্কায় চাপে পড়লেও তা সামলে ওঠেন দলের অভিজ্ঞ দুই ব্যাটসম্যান মুশফিকুর রহীম ও মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। সিরিজে দু’দলে সেরা ৮২ রানের জুটি গড়েন তারা। অযথা বড় শটে উইকেট না খুইয়ে তারা ইনিংস টেনে নিয়ে যান শেষের দিকে। আর আফগান তরুণ পেসার করিম জানাতকে টার্গেট করে ১৯তম ওভারে মুশফিক তুলে নেন ২১ রান। এতে ওভারের শুরুর পাঁচ বলে বাউন্ডারি হাঁকান মুশফিক। তবে আবারো সাফল্যের সঙ্গে ম্যাচ শেষ করতে ব্যর্থ হলেন টাইগাররা। আরো একবার নাগালে পৌঁছে জয় হাতছাড়া হলো বাংলাদেশের। ২০১৬’র টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের কাছে ১ রানে হার দেখে বাংলাদেশ। গত মার্চে শ্রীলঙ্কার মাটিতে নিদাহাস ট্রফির ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের শেষ বলে হার দেখে টাইগাররা। আর বৃহস্পতিবার দেরাদুনে ম্যাচ শেষে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান বলেন, আমার এমন প্রশ্নের জবাব দেয়া কঠিন। ব্যাট বা বল হাতে আমি কখনো এমন পরিস্থিতির মুখে পড়িনি। আমার মনে হয় ব্যাটসম্যান বা বোলাররা এর ভালো ব্যাখ্যা দিতে পারবে। আমার মনে হয় এটা মানসিক প্রতিবন্ধকতা। যা আমরা কাটিয়ে উঠতে পারিনি। সাকিব বলেন, সিরিজে ক্রিকেটের তিন বিভাগেই (ব্যাটিং-বোলিং-ফিল্ডিং) ভালো করতে পারিনি আমরা। আমরা আমাদের সামর্থ্য অনুযায়ী ব্যাট করতে পারিনি। শুরুর দুই ম্যাচে বোলিং ভালো হয়নি। আমাদের শরীরি ভাষা ও ফিল্ডিংয়ে ক্ষিপ্রতা ছিল না। এক ওভারে দুই রানআউট প্রসঙ্গে সাকিব বলেন, ইনিংসকে লক্ষ্যচ্যুত করতে কখনো একটা রানআউটই যথেষ্ট আর আমরা ৩ বলের ব্যবধানে দুই রানআউটের ঘটনা বিরাট ব্যাপার। মুশফিক ভাই ও রিয়াদ ভাইকে কৃতিত্ব দিতে হবে। ম্যাচটা জিতলে ভালো লাগতো। এমন কাছাকাছি পৌঁছে ম্যাচ হাতছাড়া হওয়াটা হতাশার। তবে পুরো সিরিজে আমরা ভালো খেলতে পারিনি। দেরাদুনে সিরিজের তৃতীয় টি-টোয়েন্টিতে আগে ব্যাটিং শেষে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৬ উইকেটে ১৪৬ রান করে আফগানিস্তান। জবাবে ২০ ওভারে ৬ উইকেট হারিয়ে ১৪৪ রানে শেষ হয় বাংলাদেশের ইনিংস। লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে দলীয় ১৬ রানের মাথায় মুজিব উর রহমানের বলে আউট হয়ে সাজঘরে ফিরে যান তামিম ইকবাল। ১৩ বলে ১৫ রান করে রান আউট হয়ে যান সৌম্য সরকার। একই ওভারে লিটন দাসও ফেরেন রান আউট হয়ে। দলীয় ৫৩ রানের মাথায় চতুর্থ ব্যাটসম্যান হিসেবে অধিনায়ক সাকিব আল হাসান ফিরে যান সাজঘরে। পরে ৬৪ বলে ৮৪ রানের জুটি গড়ে বাংলাদেশকে জয়ের স্বপ্ন দেখান মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ ও মুশফিুকর রহীম। শেষ ২ ওভারে বাংলাদেশের প্রয়োজন ছিল ৩০ রান। ১৯তম ওভার করতে আসেন পেসার করিম জানাত। তার ওভারে পরপর ৫টি চার মারেন মুশফিক। শেষ ওভারে টাইগারদের প্রয়োজন ছিল ৯ রান। কিন্তু ভুল করে বসলেন মুশফিক। শেষ ওভারের প্রথম বলেই উইকেট খোয়ান তিনি। মিডল স্টাম্পে রশিদ খানের ফুলার ডেলিভারি স্লগ সুইপে তুলে মারতে গিয়ে ডিপ স্কয়ার লেগে নাজিবুল্লাহ জাদরানের তালুবন্দি হয়ে মাঠ ছাড়েন মুশফিক। ৩৭ বলে ৪৬ রান করেন তিনি। শেষ বলে চার রানের প্রয়োজন ছিল বাংলাদেশের। রশিদকে লং অনে তুলেও মেরেছিলেন আরিফ। কিন্তু শফিকুল্লাহর দুর্দান্ত ফিল্ডিংয়ে বাউন্ডারির সীমানা পার হতে পারেনি বল। তিন রান নিতে গিয়ে রান আউটের শিকার হন মাহমুদউল্লাহ। ৩৮ বলে মাহমুদুল্লাহ করেন ৪৫ রান। এর আগে আফগানিস্তানের ইনিংসে সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন সামিউল্লাহ শেনওয়ারি। এ ছাড়া ২৭ রান করেন অধিনায়ক আজগর স্তানিজকাই। বাংলাদেশের হয়ে দুটি করে উইকেট নেন নাজমুল ইসলাম অপু ও আবু জায়েদ রাহী। ৪ ওভারের স্পেলে নাজমুল ১৮ ও আবু জায়েদ দেন ২৭ রান। এ ছাড়া সাকিব ও আরিফুল একটি করে উইকেট নেন। ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন মুশফিকুর রহীম। আর সিরিজ সেরার পুরস্কার জেতেন আফগান স্পিনার রশিদ খান।