গার্দিওলা ফুটবলের ‘চে গুয়েভারা’

ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলাকে ফুটবলের ‘চে গুয়েভারা’ বলে উল্লেখ করেছেন বিশ্ববিখ্যাত লেখক ও চলচ্চিত্র পরিচালক ডেভিড ট্রুবা।কোচ হিসেবে গার্দিওলার খ্যাতি বিশ্বজোড়া। অর্থ, যশ-খ্যাতি, প্রভাব-প্রতিপত্তি এখন সবই তার পায়ের তলায় লুটোলুটি করছে। তবে সোনার চামচ মুখে নিয়ে জন্মাননি তিনি। বাংলাদেশের ঝঞ্ঝাবিক্ষুব্ধ সময়ে (১৯৭১ সাল) স্পেনের ঘুমন্ত শহর স্যান্টপেডরে এক রাজমিস্ত্রির ঘরে জন্ম নেন গার্দিওলা।ফুটবল ক্যারিয়ারে তার যাত্রাটাও মসৃণ ছিল না। নানা কাঠখড় পোড়াতে হয় তাকে। খেলোয়াড়ি জীবনে ছিলেন ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার। ক্যারিয়ারের অধিকাংশ সময় বার্সেলোনায় কাটিয়েছেন। ছিলেন টোটাল ফুটবলের জনক ইয়োহান ক্রুয়েফের ‘ড্রিম টিমেরও’ অংশ। এ টিমই বার্সার হয়ে প্রথম ইউরোপিয়ান কাপ জেতে।খেলেছেন ইতালির ব্রেস্কিয়া ও রোমা, কাতারের ক্লাব আল আহলি ও মেক্সিকোর ক্লাব দোরাদোসেতে। ইতালিতে খেলার সময় ড্রাগ টেস্টে পজিটিভ হওয়ার কারণে চার মাস নিষিদ্ধ হন। তবে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে পদচারণা স্বপ্নের মতো হয়নি তার। স্পেন জাতীয় দলের হয়ে খেলেছেন কিছু প্রীতি ম্যাচ।কোচ হিসেবে পেশাদার ক্যারিয়ারের শুরুতে লিগ শিরোপা জেতাটাই স্বপ্নের মতো ছিল গার্দিওলার। তবে বার্সার হয়ে ট্রেবলসহ সফল একটি অধ্যায় শেষের পর আর পিছু ফিরে তাকাতে হয়নি তাকে।ফুটবলে নতুন যুগের সূচনা করেন এ স্প্যানিশ মস্তিষ্ক। গত এক দশকে তিনিই বিশ্বের ক্লাব ফুটবলের সেরা কোচ।সফল এ কোচের আত্মজীবনী ‘অ্যানাদার ওয়ে অফ উইনিং’ লিখেছেন ট্রুবা। হাজারও সংগ্রাম-প্রতিকূলতা পেরিয়ে আজকের আসনে অধিষ্ঠিত হওয়ার জন্য এ জীবনীতেই তাকে ‘চে গুয়েভারা’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।ক্যারিয়ারে বার্সা, বায়ার্ন মিউনিখ, ম্যানচেস্টার সিটি-তিন দলের হয়েই লিগসহ ২৩টি শিরোপা জিতে নিজের সেরাটা জানান দিয়েছেন গার্দিওলা। গত এক দশক শিরোপা জয়ে তার আশপাশেও কেউ নেই।চে গুয়েভারা ছিলেন একজন আর্জেন্টেনীয় মার্কসবাদী, বিপ্লবী, চিকিৎসক, লেখক, বুদ্ধিজীবী, গেরিলা নেতা, কূটনীতিবিদ, সামরিক তত্ত্ববিদ ও কিউবার বিপ্লবের প্রধান ব্যক্তিত্ব। তার প্রকৃত নাম আর্নেস্তো গেভারা দে লা সের্না । তবে তিনি সারা বিশ্ব লা চে বা কেবলমাত্র চে নামেই পরিচিত। মৃত্যুর পর তার শৈল্পিক মুখচিত্রটি একটি সর্বজনীন প্রতিসাংস্কৃতিক প্রতীক এবং এক জনপ্রিয় সংস্কৃতির বিশ্বপ্রতীকে পরিণত হয়।