‘কয়ছর আহমদের সঙ্গে ভোজনবাড়ি কর্তৃপক্ষের কোনো সম্পর্ক নেই’

মেহেরপুরের গাংনীতে গ্রাম্য ডাক্তারের ভুল অপারেশনে সাইদুল ইসলাম (১৯) নামে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টার সময় আলমপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। সাইদুল ইসলাম গাংনী উপজেলার গাড়াডোব গ্রামের সানোয়ার হোসেনের ছেলে। এ ঘটনার পর থেকে হাতুড়ে ডাক্তার আলমপুর গ্রামের ফকরুজ্জামান ফুকু ও তার পরিবারের সদস্যরা পলাতক রয়েছে। মৃত সাইদুল ইসলামের ফুফু ডলি খাতুন জানান, সাইদুলের নাকে পলিপাস জনিত কারণে প্রতিবেশী হাতুড়ে ডাক্তার ফকরুজ্জামান ফুকু’র কাছে নিয়ে গেলে তাকে (সাইদুলকে) ঘরের মধ্যে নিয়ে অপারেশন করে। এতে জ্ঞান হারিয়ে ফেলে সাইদুল। অবস্থা বেগতিক দেখে ফকরুজ্জামান ফুকু রোগীকে মেহেরপুর সদর হাসপাতালে নিতে বলে। সেখানে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক সাইদুলকে মৃত ঘোষণা করেন। ডাক্তার তাপস সরকার জানান, হাসপাতালে নেয়ার পূর্বেই সাইদুলের মৃত্যু হয়েছে। মেহেরপুর সদর থানার ওসি রবিউল ইসলাম জানান, নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়ের করেছে। লাশ মর্গে নেয়া হয়েছে। ময়না তদন্ত শেষে পরিবারে কাছে লাশ হন্তান্তর করা হবে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তিকারী লন্ডনপ্রবাসী বিএনপি নেতা কয়ছর আহমদের সঙ্গে ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষের ব্যবসায়িক কোনো সম্পর্ক নেই। গত ১৩ই মে রেস্টুরেন্টে কতিপয় দুর্বৃত্তের হামলার কারণ হিসেবে গণমাধ্যমে ওই ব্যক্তির রেস্টুরেন্ট মালিকানায় সম্পৃক্ততার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। বৃহস্পতিবার দুপুরে সংবাদ সম্মেলন করে এ দাবি করেছেন ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) মো. ঝুনু চৌধুরী। রেস্টুরেন্টের তৃতীয় তলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তিনি। ঝুনু চৌধুরী আরো বলেন, ২০১৪ সালে ১২ জন পরিচালকের উদ্যোগে ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে ১০ জন পরিচালক রয়েছেন। এই ১০ জনের নামও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, শুরু থেকে অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে ভোজনবাড়ি কর্তৃপক্ষ। ভোক্তাদের কাছে রেস্টুরেন্টটির জনপ্রিয়তা যখন তুঙ্গে তখন একদল দুর্বৃত্ত পরিকল্পিতভাবে ১৩ই মে রোববার বেলা আনুমানিক দেড়টার দিকে সশস্ত্র হামলা চালায়। হামলায় কারো শারীরিক ক্ষতি না হলেও রেস্টুরেন্টের আর্থিক ব্যাপক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। লিখিত বক্তব্যে তিনি আরো বলেন, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে নানা পেশার, নানা মতের মানুষের সম্মিলন ঘটে। দেশি-বিদেশি পর্যটক সিলেটে আসেন। হামলার সময় রেস্টুরেন্টে থাকা গ্রাহকরা অত্যন্ত ভীত-সন্ত্রস্ত হয়েছেন। এটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক ঘটনা। তিনি বলেন, হামলার ঘটনায় আমরা ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্ট কর্তৃপক্ষ সিলেট মহানগর পুলিশ (এসএমপি)-এর কোতোয়ালি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছি। ভোজনবাড়ি রেস্টুরেন্টের এমডি বলেন, ব্যবসা-বাণিজ্য কোনো রাজনৈতিক মত-পথের নয়। তাই, সূচনালগ্ন থেকে কোনো প্রকার রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতা ব্যতিরেকে প্রতিষ্ঠানটি অত্যন্ত সুনামের সঙ্গে পরিচালিত হয়ে আসছে। তিনি সিলেটের ব্যবসায়িক স্বার্থে সাংবাদিকদের সত্য ঘটনা তুলে ধরার আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের অবগতির স্বার্থে রেস্টুরেন্টের পরিচালকদের নাম ঘোষণা করা হয়। এ সময় পরিচালকদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সিলেট চেম্বারের সাবেক পরিচালক এটিএম শোয়েব, মো. তোরাব আলী, মো. লুৎফুর রহমান চৌধুরী, মো. লিলু মিয়া, শিপন দেব ও শাহ কয়েস আহমদ চৌধুরী।