ওদের ঈদ আনন্দ ভেসে গেছে মনু নদীর স্রোতে

মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ভাঙনে কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলার পাঁচ সহস্রাধিক পরিবার খোলা আকাশের নিচে। কেউ কেউ খেয়ে আবার কেউ কেউ না খেয়ে বৃহস্পতিবার রোজা রেখেছেন। ওদের ঈদ আনন্দ ভেসে গেছে মনু নদীর স্রোতে।প্রতিরক্ষা বাঁধে ছয়টি ভাঙনের পর আরও দুটি নতুন ভাঙন সৃষ্টি হয়েছে। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি লোকালয়ে প্রবেশ অব্যাহত রয়েছে।কিছু শুকনো খাবার বানভাসি মানুষের জন্য সরবরাহ করা হলেও তা মানুষের কাছে পৌঁছানো দুষ্কর বলে সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যানরা জানান।কুলাউড়ার টিলাগাঁও ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আবদুল মালিক জানান, ভাঙনের ফলে দেড় হাজারের বেশি পরিবার রয়েছে খোলা আকাশের নিচে। এর মধ্যে পাঁচ শতাধিক পরিবার আশ্রয় নিয়ে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে। বিভিন্ন স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন অনেকেই। এসব পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবার ও পানি বিতরণ করা হয়েছে। তবে পানির মধ্যেও বেশির ভাগ মানুষ নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে যাননি। এসব মানুষ বেশির ভাগ না খেয়ে রোজা রেখেছেন।শরীফপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, মনু প্রতিরক্ষা বাঁধে সবচেয়ে বেশি অর্থাৎ চারটি ভাঙন দেখা দিয়েছে শরীফপুর ইউনিয়নে। প্রায় দুই হাজার পরিবার খোলা আকাশের নিচে মনু নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধে ও বিভিন্ন বিদ্যালয়ে আশ্রয় নিয়েছে। তবে অনেক মানুষ বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে যাননি। এরা অত্যন্ত কষ্টে রয়েছেন। এদের কোনো প্রকার সাহায্যও করা সম্ভব হচ্ছে না। ভাঙন দিয়ে প্রবল বেগে পানি বেরিয়ে যাওয়ায় আটকেপড়া মানুষকে উদ্ধার করাও সম্ভব হচ্ছে না।এছাড়া উপজেলা পৃথিমপাশা ও হাজিপুর ইউনিয়নে এবং রাজনগর উপজেলার কামারচাক ইউনিয়নে হাজার হাজার মানুষ পানিবন্দি। গত দুদিন থেকে মানুষ চরম দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।এদিকে ঈদের আগ মুহূর্তে কুলাউড়ার চারটি ইউনিয়ন এবং রাজনগরের কামারচাক ইউনিয়ন মুন নদীর ভাঙনে পাঁচ ইউনিয়নের জনপদ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ভাঙনকবলিত এই পাঁচটি ইউনিয়নকে দুর্গত এলাকা হিসেবে ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় চেয়ারম্যানরা।কুলাউড়ার উপজেলা চেয়ারম্যান আ স ম কামরুল ইসলাম ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌ. মো. গোলাম রাব্বি জানান, প্রথম দিন কুলাউড়ার ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিয়নগুলোতে শুকনো খাবার ও পানি সরবরাহ করা হয়েছে। এসব দুর্গত মানুষের জন্য ৫০ টন চাল ও নগদ ৬০ হাজার টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে। অনুদানগুলো পাওয়া মাত্রই দুর্গত মানুষের মাঝে বিতরণ করা হবে।