এবার গ্রেফতার দুই পুলিশ সদস্য

মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেফতার হলেন এবার দুই পুলিশ সদস্য।তারা হলেন রাজবাড়ী হাইওয়ে পুলিশের উপপরিদর্শক বিল্লাল হোসেন ও নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানাধীন মদনগঞ্জ পুলিশ ফাঁড়ির কনস্টেবল আসাদ।পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ সিআইডি বুধবার নারায়ণগঞ্জের একটি মাদক মামলায় গ্রেফতার দেখায় তাদের।১০ দিনের হেফাজতে নেওয়ার আবেদন জানিয়ে বিল্লালকে নারায়ণগঞ্জের আদালতে পাঠানো হলে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়। এ ছাড়া কনস্টেবল আসাদ আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন।দুই পুলিশ সদস্যকে গ্রেফতারের পর জিজ্ঞাসাবাদের মধ্য দিয়ে মাদক ব্যবসায় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর আরও কয়েকজনের সংশ্নিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে। একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এ তথ্য জানা যায়।হাইওয়ে পুলিশের ডিআইজি আতিকুল ইসলাম বলেন, 'সিআইডির তদন্তাধীন একটি মামলায় মাদকের সঙ্গে সংশ্নিষ্ট থাকার তথ্য পাওয়ায় বিল্লালকে গ্রেফতার করা হয়েছে। একজন অপরাধীকে 'অপরাধী' হিসেবেই দেখা হবে। নিয়ম অনুযায়ী গ্রেফতারের পরপরই সাসপেন্ড করা হয়েছে তাকে।এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মোল্যা নজরুল ইসলাম বলেন, 'অপরাধ করলে কারও পরিচয় মুখ্য নয়। তাকে আইনের আওতায় এনে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব আমরা।'জানা গেছে, গত ৮ মার্চ রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার রূপালী আবাসিক এলাকার প্রবাসী কামরুল ইসলামের বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে ৪৯ হাজার পিস ইয়াবা এবং ইয়াবা বিক্রির ৪ লাখ ৯৫ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতার করা হয় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানার এএসআই আলম সরোয়ার্দী রুবেল ও সাবিনা আক্তার রুনুকে।এ ঘটনায় দায়ের করা মামলাটি এখন তদন্ত করছে সিআইডি। ওই মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মাদক ব্যবসায় বিল্লাল, আসাদসহ আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্যের নাম বেরিয়ে এসেছে।সূত্র জানায়, সাবিনা আক্তার রুনুর স্বামী সাইফুল ইসলাম আরিফ ওরফে বাবা আরিফ চলতি বছরের ২৬ এপ্রিল মুন্সীগঞ্জ জেলা পুলিশের সঙ্গে 'বন্দুকযুদ্ধে' নিহত হন। আরিফ সেখানকার একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ছিলেন। পুলিশের এসআই বিল্লাল, এএসআই রুবেলের মুন্সীগঞ্জে কর্মরত থাকা অবস্থায় আরিফ ও তার স্ত্রী রুনুর সঙ্গে সখ্য তৈরি হয়। সেখানে তারা প্রথমে ইয়াবা সেবন করতেন, ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েন পরে।২০১৭ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর অস্ত্র মামলায় গ্রেফতার হন আরিফ। এরপর কারা হেফাজতে দীর্ঘদিন চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি। ওই সময় প্রায়ই হাসপাতালে দেখতে যেতেন বিল্লাল। সর্বশেষ গত ৭ মার্চ বিল্লাল রুনুকে জানান, ইয়াবার বড় পার্টি আছে। ৫ লাখ টাকা জোগাড় করলেই কাজ নেওয়া সম্ভব। রুনুকে তিনি আরও জানান, ওই দিন মদনপুর বাসস্ট্যান্ডে একটি পার্টি ইয়াবা নিয়ে আসবে। সাইনবোর্ড এলাকায় রুনুর জন্য অপেক্ষা করবেন তিনি।ওই দিন বিকেলে রুনুকে একটি মোবাইল নম্বর দিয়ে সেখানে যোগাযোগ করে ইয়াবা সংগ্রহ করতে বলেন এসআই বিল্লাল। এ মামলার তদন্তে বেরিয়ে আসে টেকনাফের ইয়াবা ব্যবসায়ী শফি ইসলাম ওরফে শফিকের সঙ্গে বিল্লালের যোগাযোগ রয়েছে। তারা ঢাকা, নারায়ণঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জের বিভিন্ন এলাকায় ৮-১০ জন চালকের মাধ্যমে নিয়মিত ইয়াবার ব্যবসা চালিয়ে আসছিলেন।এসব চালকের মধ্যে রয়েছেন- লোকমান, রহিম, মান্নান, সিদ্দিক, রাজ্জাক, হুমায়ুন ও সোহাগ। এই গ্রুপের প্রধানের নাম ইলিয়াছ। ৬ মার্চ ইলিয়াস তার বিশ্বস্ত সহযোগী ছোটনকে ৫০ হাজার পিস ইয়াবা নেওয়ার জন্য চকরিয়ায় নিউমার্কেটের সামনে আসতে বলেন। ওই দিন রাত ৯টার দিকে ইলিয়াছসহ চারজন মাইক্রোবাসে নিউমার্কেটে আসেন। তাদের মধ্যে তিনজন মুখোশ পরা ছিলেন। এরপর ছোটনের কাছে ইয়াবার একটি ব্যাগ দেন ইলিয়াছ। ওই সময় তাকে জানানো হয়, রুনু নামে একজন তার সঙ্গে ইয়াবার জন্য যোগাযোগ করবেন। পরে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, এ চক্রের সঙ্গে এসআই বিল্লাল ও কনস্টেবল আসাদের ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে।জানা গেছে, ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও মুন্সীগঞ্জকেন্দ্রিক ইয়াবা ব্যবসায় পরিদর্শক ও এসআই পদমর্যাদার আরও কয়েকজন কর্মকর্তার নাম উঠে এসেছে। যারা বিভিন্ন সময় মোটা অঙ্কের টাকা নিয়ে ইয়াবা ব্যবসায়ীদের ছেড়ে দিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।