এত দহরম মহরম, কিন্তু এক বালতি পানিও আসেনি: রিজভী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শুক্রবারের ভারতের পশ্চিবঙ্গ সফর নিয়ে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব এই মন্তব্য করেন।তিনি বলেন, শেখ হাসিনার এবারের সফরেও বাংলাদেশের মানুষের বহুল প্রত্যাশিত তিস্তা পানি বণ্টন চুক্তির বিষয়ে কোনো এজেন্ডা নেই। পররাষ্ট্রমন্ত্রী গতকাল সংবাদ সম্মেলনে কোনো তথ্য জানাতে পারেননি। গত ৮ বছরে ধরে আওয়ামী লীগ ঘোষণা দিয়ে আসছে যে, তারা ভারতের সঙ্গে তিস্তা চুক্তি করতে যাচ্ছে। বন্ধুত্বের এত দহরম মহরম অথচ শেখ হাসিনা ভারত থেকে এক বালতি পানিও আনতে পারেননি। বছর যায় বছর আসে আর বাংলাদেশ অবৈধ সরকার শুধু একতরফাভাবে ভারতকে সবকিছু দিয়েই যাচ্ছে। কিন্তু বাংলাদেশের মানুষের ন্যায্য পানির হিস্যা বুঝে পাচ্ছে না। এই যে ওয়ান ওয়ে ট্রাফিক প্রেম- এই প্রেম একতরফা, এটা দুই ওয়ে ট্রাফিক নয়। এই একতরফা প্রেম খুবই কঠিন। এরা শুধু দিতেই জানে নিতে জানে না। ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর আমন্ত্রণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা শুক্রবার দুইদিনের সফরে পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাচ্ছেন। ওই দিন তিনি শান্তি নিকেতনে বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ভবন উদ্বোধন করবেন। সেখানে ভারতের প্রধানমন্ত্রী মোদীর পাশাপাশি পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতাও থাকবেন বলে মনে করা হচ্ছে।পরদিন পশ্চিমবঙ্গের আসানসোলে কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ে সমাবর্তন অনুষ্ঠানে যোগ দেনে শেখ হাসিনা। ওই অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সম্মানসূচক ডি লিট ডিগ্রি দেওয়া হবে।রিজভী বলেন, শেখ হাসিনা ক্ষমতায় টিকে থাকতে সার্বভৌমত্বকে ক্ষয়িষ্ণু করে ভারতকে সব কিছু উজাড় করে দিয়ে যাচ্ছেন বিনিময়ে কিছুই পারেননি। পরদেশের কাছে সার্বভৌমত্ব বিকিয়ে দিয়ে পারিশ্রামিক হিসেবে শুধুমাত্র ক্ষমতায় টিকে থেকেছেন। প্রধানমন্ত্রী জনগণকে ধোঁকা দেওয়ার বিদ্যাটাই ভাল করে রপ্ত করেছেন। নয়া পল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এই সংবাদ সম্মেলনে দুই দিন ধরে নিখোঁজ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র দলের সাবেক সভাপতি ও কেন্দ্রীয় সহসভাপতি ফয়সাল আহমেদ সজলের সন্ধান দাবি করেন রিজভী।সারাদেশে যে মাদক অভিযান চলছে তাতে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য রয়েছেন বলেও মন্তব্য করেন এই বিএনপি নেতা।তিনি বলেন, মানুষ হত্যা করে কোনোদিন মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। এর পেছনে সরকারের অসৎ উদ্দেশ্য আছে। প্রকৃত মাদক ব্যবসায়ীদের ধরা হচ্ছে না। আমরা শুরু থেকে বলে আসছি, মাদক নির্মূল সরকারের উদ্দেশ্য নয়, আগামী সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিরোধী দল নিধনের জন্যই মাদক বিরোধী অভিযানের নামে দেশজুড়ে বিচারবর্হিভুত মানুষ খুনের জোরেশোরে ধুমধাম চলছে। দলের ভাইস চেয়ারম্যান নিতাই রায় চৌধুরী, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, যুগ্ম মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, কেন্দ্রীয় নেতা মীর সরফত আলী সপু, এ বি এম মোশাররফ হোসেন, তাইফুল ইসলাম টিপু, মুনির হোসেন ও রফিক শিকদার সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।