উদ্বোধনী ম্যাচ এমন গ্ল্যামারবিহীন

১৯৩০ সালে ফুটবল বিশ্বকাপের প্রথম আসর বসেছিল উরুগুয়েতে। সেবার স্বাগতিকদের হাতেই উঠেছিল শিরোপা। স্বাগতিক দলের বিশ্বকাপ জয়ের সর্বশেষ কীর্তিটা ফ্রান্সের। ১৯৯৮ বিশ্বকাপে।নিজেদের আঙিনায় চেনা কন্ডিশনে খেলার বাড়তি সুবিধার কারণে বিশ্বকাপে স্বাগতিক দলগুলোর সার্বিক রেকর্ড যথেষ্ট ভালো। আগের ২০ আসরে দক্ষিণ আফ্রিকা (২০১০) ছাড়া কোনো স্বাগতিক দলই গ্রুপপর্ব থেকে বিদায় নেয়নি। বিশ্বকাপ ইতিহাসে স্বাগতিক দলগুলোর এমন গৌরবগাথা কিন্তু এতটুকু সাহস জোগাতে পারছে না রাশিয়াকে। উল্টো অনাকাক্সিক্ষত রেকর্ডে দক্ষিণ আফ্রিকার সঙ্গী হওয়ার শঙ্কা চেপে ধরেছে তাদের।সেই শঙ্কা নিয়েই আজ মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে ২০১৮ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে সৌদি আরবের মুখোমুখি হচ্ছে স্বাগতিক রাশিয়া। তর্কসাপেক্ষে যা বিশ্বকাপ ইতিহাসের সবচেয়ে গ্ল্যামারহীন উদ্বোধনী ম্যাচ র‌্যাংকিং অনুযায়ী টুর্নামেন্টের সবচেয়ে দুর্বল দু’দলের দেখা হচ্ছে প্রথম ম্যাচে। সর্বশেষ ফিফা র‌্যাংকিংয়ে রাশিয়া রয়েছে ৭০ নম্বরে। আর সৌদি আরব ৬৭তম। কার্যত দুই সর্বহারার লড়াইয়ে চাপটা বেশি রাশিয়ার ওপরই।দ্বিতীয় রাউন্ডের আশা বাঁচিয়ে রাখতে উদ্বোধনী ম্যাচে জয়ের কোনো বিকল্প নেই স্বাগতিকদের সামনে। ‘এ’ গ্রুপ থেকে নকআউট পর্বে ওঠার লড়াইয়ে ফুটবলবোদ্ধারা এগিয়ে রাখছেন উরুগুয়ে ও মিসরকে। সেটা ভুল প্রমাণ করতে আত্মবিশ্বাসের রসদ বাড়ানোর সেরা সুযোগ প্রথম ম্যাচেই পাচ্ছে রাশিয়া। সৌদি আরবের চেয়ে ঢের শক্ত প্রতিপক্ষ উরুগুয়ে ও মিসর।১২ বছর পর বিশ্বকাপ মঞ্চে ফেরা সৌদি দলে সেই অর্থে বিশ্বমানের কোনো খেলোয়াড় নেই। বাছাইপর্বে সর্বোচ্চ ১৬ গোল করা মোহাম্মদ আল-সালাউয়ি টানা নয় ম্যাচের গোলখরা নিয়ে রাশিয়ায় এসেছেন। পারফরম্যান্সের অধারাবাহিকতার কারণে বিশ্বকাপের টিকিট কাটার পর তিনবার কোচ বদলেছে সৌদি।তবে শেষ প্রস্তুতি ম্যাচে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন জার্মানির কাছে ২-১ গোলে হারলেও সৌদি আরবের লড়াকু পারফরম্যান্সের প্রশংসা করেছে সবাই। অন্যদিকে রাশিয়ার পাতে জুটছে শুধুই সমালোচনা টানা আট মাস ও সাত ম্যাচের জয়খরা নিয়ে বিশ্বকাপ মঞ্চে নামছে স্বাগতিকরা।গোলকিপার ও অধিনায়ক ইগর আকিনফিভ ছাড়া তেমন কোনো চেনা মুখ নেই রাশিয়া দলে। পোস্টের নিচে আকিনফিভের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সও তেমন আশাজাগানিয়া নয়। এই দল নিয়ে খোদ রুশরাই খুব বেশি আশাবাদী নয়।তবে দর্শক সমর্থন সব সমীকরণ পাল্টে দিতে পারে। সে আশাতেই বুক বেঁধেছেন রাশিয়ার কোচ চেরচেশভ। এর আগে একবারই দেখা হয়েছিল দু’দলের। ১৯৯৩ সালের সেই প্রীতি ম্যাচে সৌদি জিতেছিল ৪-২ গোলে।বিশ্বকাপ মঞ্চে অবশ্য এক জায়গায় দারুণ সমতা দু’দলের। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে যাওয়ার পর তিনটি বিশ্বকাপে সব মিলিয়ে নয়টি ম্যাচ খেলেছে রাশিয়া। অন্যদিকে চার আসরে সৌদি খেলেছে ১৩টি ম্যাচ। দু’দলেরই জয় ও ড্র সমান দুটি করে।