আর্জেন্টিনাকেও হারিয়েছিল বাংলাদেশ!

মস্কোর লুঝনিকি স্টেডিয়ামে রাশিয়া ও সৌদি আরবের মধ্যকার ম্যাচ দিয়ে পর্দা উঠছে ২১তম ফুটবল বিশ্বকাপের। আজ বাংলাদেশ সময় রাত ৯টায় খেলা শুরু হবে। উদ্বোধনী দিনে একটি ম্যাচই মাঠে গড়াবে। তার আগে থাকছে জমকালো অনুষ্ঠান। গতকাল ম্যাচ পূর্ববর্তী সংবাদ সম্মেলনে ফুরফুরে মেজাজে ছিলেন রাশিয়ান কোচ স্টানিসলাভ চেরচেসভ। উদ্বোধনী ম্যাচ নিয়ে স্টানিসলাভ বলেন, ‘আমরা প্রথম দিন থেকে প্রতিপক্ষকে নিয়ে পর্যালোচনা করেছি। কোনো গ্রুপেই সহজ প্রতিপক্ষ নেই। প্রথম ম্যাচটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এটিই লক্ষ্য ঠিক করে দেবে। নিজেদের সেরা পারফরম্যান্সে চোখ রাখছি। আমরা মাঠে নামতে প্রস্তুত।’ আক্রমণাত্মক কৌশলে চোখ রাখছেন সৌদি আরবের কোচ হুয়ান আন্তোইনি পিজ্জি। চিলিকে ২০১৬ কোপা আমেরিকা জেতানো আর্জেন্টাইন বংশোদ্ভুত এই স্প্যানিয়ার্ড বলেন, ‘প্রেসিং ফুটবল খেলে প্রতিপক্ষকে চাপের মধ্যে রাখতে চাই। যতটা সম্ভব গোলের সুযোগ তৈরি করতে হবে। এটাই আমাদের লক্ষ্য।’ এ নিয়ে পাঁচবার বিশ্বকাপ খেলতে নামছে সৌদি আরব। গত দুই আসরে উত্তীর্ণ হতে পারেনি তারা। বিশ্বকাপে সৌদির সেরা সাফল্য ১৯৯৪ বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব (শেষ ষোলো)। বিশ্বকাপে একটা সময় রাশিয়ার (তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন) দাপট ছিল। সর্বোচ্চ অর্জন ১৯৬৬ বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল। তিনবার কোয়ার্টার ফাইনাল (১৯৫৮, ১৯৬২, ১৯৭০) খেলার ইতিহাস রয়েছে রাশিয়ানদের। গত বিশ্বকাপে গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায় নেয় তারা। তার আগের দুই আসরে বাছাইপর্ব পেরোতে পারেনি রাশিয়া। অতীতে একবারই মুখোমুখি হয় রাশিয়া ও সৌদি আরব। ১৯৯৩ সালের প্রীতি ম্যাচটিতে ৪-২ গোলে হার মানে রাশিয়া। বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলে জয় পায়নি রাশিয়া। অস্ট্রিয়ার বিপক্ষে ১-০ গোলে হারের পর তুরস্কের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে স্টানিসলাভের শিষ্যরা। অন্যদিকে গত মাস থেকে বেশ কয়েকটি প্রস্তুতি ম্যাচে নিজেদের ঝালিয়ে নেয় সৌদি আরব। পাঁচ ম্যাচের দুটিতে জয় পায় তারা। সবশেষ খেলায় সৌদির বিপক্ষে জয় (২-১) পেতে ঘাম ঝরাতে হয় বর্তমান চ্যাম্পিয়ন জার্মানিকে। ২৪শে মার্চ ১৯৯৭, কুয়ালালামপুরে আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ দল। সেদিন দাপুটে জয়ই পায় টাইগাররা। বিষয়টি অনেকে জানেন না। যারা জানেন না তাদের কাছে আর্জেন্টিনাকে হারানোর দাবি করলে নির্ঘাত পাগলই ভাববে। তবে বিষয়টি মিথ্যে নয়, একেবারেই সত্যি সেই জয়টি ছিল বাংলাদেশ ক্রিকেটের ঐতিহাসিক অর্জনের শুরু। হ্যাঁ পাঠক, আইসিসি’র চ্যাম্পিয়ান ট্রফিতে সে আসরে বাংলাদেশ ওয়ানডে বিশ্বকাপ খেলা নিশ্চিত করেছিল প্রথমবারের মত। সেই আসরে প্রথম ম্যাচটিই ছিল আর্জেন্টিনা জাতীয় দলের বিপক্ষে। টসে জিতে আকরাম খানের দল ফিল্ডিংয়ে পাঠিয়েছিল আর্জেন্টিনার অধিনায়ক গিলার্মো কিরস্কবাম। তারা আগে ব্যাট করতে নেমে ১৩৮ রানেই গুটিয়ে গিয়েছিল। জবাব দিতে নেমে পাঁচ উইকেটে জয় তুলে নেয় বাংলাদেশ। আজ থেকে শুরু হচ্ছে গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ ‘ফুটবল বিশ্বকাপ’। যেখানে অন্যতম ফেবারিট দল আর্জেন্টিনা । আর আসর সামনে রেখে সেদিনের স্মৃতিচারণ করেছেন মিনহাজুল আবেদিন নান্নু, আতাহার আলী খানরা। তাদের কথকোপকথনের মূল অংশ তুলে ধরা হলো-ক্রিকেট বলেই হারিয়েছিলাম আর্জেন্টিনাকে- আকরাম খানবিশ্বকাপ এলেই আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই ম্যাচের কথা দারুণ মনে পড়ে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক আকরাম খানের। ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে মনে মনে ভীষণ আনন্দও লাগে কারণ তারা সেই দিন হারিয়েছিলেন ফুটবলের পরাশক্তি আর্জেন্টিনাকে। সেই ম্যাচের স্মৃতি নিয়ে আকরাম খান বলেন, ‘আমার মনে আছে সেটি ছিল আইসিসি ট্রফিতে আমাদের প্রথম ম্যাচ। আগেই শুনেছিলাম আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলা। তাই একটু অদ্ভুত লাগছিল। কারণ ওরা ফুটবলেতো বিশ্বসেরা। ক্রিকেটে কেমন হবে তা নিয়ে একটু দ্বিধা ছিল। ওরা সেই সময় মাঠে ওয়ার্মআপ করতো ফুটবল খেলে। ম্যাচের আগে নিজেদের মধ্যে ওদের ক্রিকেটাররা যে ফুটবল খেলছিল তা দেখেই আমরা মুগ্ধ। ম্যাচটি আমরা জিতেছি। ম্যাচ শেষে বলেছিলাম ‘আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ক্রিকেট ম্যাচ বলেই জিততে পেরেছি। ওদের ক্রিকেটাররাই যে সুন্দর ফুটবল খেলে জাতীয় দলতো পরের বিষয় ওদের সঙ্গেই জিততে পারতাম না।’ ব্রাজিলের দারুণ ভক্ত আকরাম খান এবার মাঠে বসেই দেখবেন রাশিয়া বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ও ফাইনাল ম্যাচ। তিনি বলেন, ‘আমি তো ফুটবলের দারুণ ভক্ত। এবার রাশিয়াতে বসেই দুটি ম্যাচ দেখবো। আশা করি প্রিয় দল ব্রাজিলই বিশ্বকাপ জিতবে।’ভীষণ অদ্ভুত লেগেছিল- নাঈমুর রহমান দুর্জয়বাংলাদেশের প্রথম টেস্ট অধিনায়ক নাঈমুর রহমান দুর্জয় বুঝতেন আর্জেন্টিনা মানেই ফুটবল দল। তাই তিনি যখন আর্জেন্টির বিপক্ষে খেলার কথা শুনলেন নিজের কাছেই একটু অদ্ভুত মনে হয়েছে। তবে ক্রিকেটে নিজেদেরই এগিয়ে রেখেছিলেন। ব্রাজিল সমর্থক বলে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সেই জিততে পেরে দারুণ ভাল লেগেছিল তার। তিনি বলেন, ‘এটিতো সত্যি যে আর্জেন্টি ফুটবলে অন্যতম সেরা দল। তাই ওরা ক্রিকেট খেলছে ভেবে তেমন কোন ভয়ের চিন্তা আসেনি। বরং একটু অদ্ভুত লেগেছিল। আমরা জানতাম জিতবো তাই হয়েছে। আমার কাছে এখানো ভালো লাগেই ম্যাচে আমি ম্যাচসেরা হয়েছিলাম। ওরা ক্রিকেটও খেলে, ভাবতেই ভালো  লাগে- আতহার আলী খানএকবার নয় দুইবার ক্রিকেটে আার্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়েছিলেন জাতীয় দলের অন্যতম ব্যাটসটম্যান আতহার আলী খান। বর্তমানে তিনি ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হিসেবেই বেশি পরিচিত। ফুটবলেরও দারুণ ভক্ত তিনি। তাই আজ থেকে শুরু হওয়া বিশ্বকাপে চোখ। তার আগে আর্জেন্টিনার সেই ম্যাচের স্মৃতি স্মরণ করে বলেন, ‘আমি ১৯৯৬ ও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে খেলেছিলাম। এরপর ১৯৯৭ এ খেলি। আর্জেন্টিনা ক্রিকেট খেলে এটা অবশ্য আমরা খুব কম লোকই জানতাম। কিন্তু খেলতে গিয়ে ভালোই লেগেছে। ওদের প্রতি দারুণ সম্মান এসেছে যে এত বড় ফুটবল জাতি হয়েও ক্রিকেটে মনোযোগ আছে। আর আইসিসি’র চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে খেলাতো এত সহজ নয়। যদিও আমি ব্রাজিলের সবসময়ের সমর্থক তবে ক্রিকেট খেলে বলে আর্জেন্টিনাকেও ভালো লেগেছিল সেই সময়। আর্জেন্টিনা ক্রিকেট খেলে জানতামই না- হাসিবুল হোসেন শান্তফুটবলে ব্রাজিলের দারুণ ভক্ত জাতীয় দলের সাবেক পেসার হাসিবুল হোসেন শান্ত। তাই আর্জেন্টিনা নিয়ে খুব একটা খোঁজ খবর রাখেন না। তাদের চিনেন চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেও। কিন্তু ক্রিকেটে শান্ত আর্জেন্টিনাকেও পেয়েছিলেন প্রতিপক্ষ হিসেবে। সেই স্মৃতি নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমিতো জানতামই না যে আর্জেন্টিনা ক্রিকেট খেলে। সেটি ছিল আইসিসিতে আমাদের আসরে প্রথম ম্যাচ। যখন শুনলাম আর্জেন্টিনা ধরেই নিয়েছিলাম জিতবো, তাই হয়েছে।’ অন্যদিকে জাতীয় দলের এ পেসারের প্রিয় দল ব্রাজিল হলেও তিনি আর্জেন্টাইন ফরোয়ার্ড লিওনেল মেসির দারুণ ভক্ত।