আমদানি করা হাতঘড়ির ওজন ৩ কেজি!

শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিট (সিভিএ)-এর একটি দল একজন আমদানিকারকের নথি অডিট করে অবিশ্বাস্য অনিয়ম খুঁজে পেয়েছে। ওই আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের নাম মেসার্স এএসএফ সিন্ডিকেট। প্রতিষ্ঠানটির অফিস উত্তরার আশকোনায়।উত্তরা ব্যাংকের ইংলিশ রোড শাখার মাধ্যমে ‘অ্যাসোর্টেড গুডস’ হিসেবে এলসি খোলেন এর আমদানিকারক। সিভিএ সূত্র জানায়, চায়না থেকে আনা ৩ হাজার ১১৫ কেজি নিট ওজনের হাতঘড়ির সংখ্যা দেখানো হয়েছে ১০০০ পিস।ওই হিসাবে প্রতি পিস ঘড়ির ওজন পড়েছে প্রায় ৩ কেজি। ঘড়ির দাম ঘোষণা দেয়া হয়েছে প্রতি পিস ৬০ টাকা। এ পণ্যের আড়ালে আসলে কী আমদানি হয়েছে তা ভাবিয়ে তুুলেছে অডিট দলকে। বিষয়টি নিশ্চিত করে শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিট কমিশনার ড. মইনুল হক যুগান্তরকে বলেন, অডিটে প্রাপ্ত অনিয়মের সূত্র ধরে অধিকতর অনুসন্ধান চলছে।ড. মইনুল হক জানান, আমদানিকারক ঢাকা কাস্টম হাউসে বিল অব এন্ট্রি সি ৪৮৯৪৯৭, ৩১/০৫/২০১৭-এর মাধ্যমে পণ্য চালানটি শুল্কায়নপূর্বক খালাস করেন। এই বিল অব এন্ট্রিতে ৪৪টি আইটেমে মোট ৮৮৬৯ কেজি ওজন ঘোষণা দেয়া হয়।অডিটে দেখা যায়, কাস্টম হাউসের অনলাইন সিস্টেমে ১০০০ পিস ঘড়ি খালাসের শুল্কায়ন হলেও ব্যাংকের মূল দলিলে ঘড়ির বর্ণনা নেই। এতে আসলে কী পণ্য খালাস হয়েছে তা নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়েছে। শুল্কায়ন আইটেমে টেলিভিশনের ‘লোডেড পিসিবি’র মূল্য ধরা হয়েছে প্রতি পিস দুই দশমিক ৯৮ মার্কিন ডলার।অথচ কাস্টমস ডাটাবেসে এ পণ্যের প্রকৃত মূল্য আছে ১১ দশমিক ২৫ মার্কিন ডলার। এই মূল্য পার্থক্যজনিত কারণে রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে। শুল্ক মূল্যায়ন ও অডিট সূত্র জানায়, ১৯ নম্বর শুল্কায়ন আইটেমে ‘টেবিল’ হিসেবে মোট ৫০০ কেজির মূল্য ধরা হয়েছে দশমিক ৩২ মার্কিন ডলার প্রতি কেজি।অথচ এসআরও অনুসারে এই মূল্য নির্ধারিত আছে দুই দশমিক ৫০ ডলার। এখানেও মূল্যের পার্থক্যজনিত কারণে ব্যাপক রাজস্ব ফাঁকি হয়েছে। ২৫ নম্বর আইটেমে ১০৭ কেজি ইমিটেশন জুয়েলারির পাঁচ দশমিক ৭৫ ডলার প্রতি কেজি মূল্যে শুল্কায়ন করা হয়।প্রকৃতপক্ষে এর মূল্য প্রতি কেজি ৮ ডলার। আমদানিকারক পণ্যের মূল্য হিসাবে এলসির মাধ্যমে ২৪ হাজার মার্কিন ডলার বিদেশে পাঠিয়েছেন। কিন্তু কাস্টম হাউসের সিস্টেমে পণ্যের মূল্য দেখানো হয়েছে মাত্র ৪ হাজার ২৪ মার্কিন ডলার।