অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র

ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএসএইডের প্রশাসক মার্ক গ্রিন বলেছেন, বাংলাদেশে অংশগ্রহণমূলক জাতীয় নির্বাচন দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র।বৃহস্পতিবার আমেরিকান সেন্টারে কয়েকজন সাংবাদিকের সঙ্গে গোলটেবিল আলোচনায় তিনি এ কথা বলেন। যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাট ও ইউএসএইডের ঢাকায় কর্মরত কর্মকর্তারা গোলটেবিল আলোচনায় উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গেও দেখা করেন মার্ক গ্রিন। এ সময় তিনি রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন ত্বরান্বিত করতে যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে বলে পররাষ্ট্র সচিবকে জানান।গোলটেবিল আলোচনায় রোহিঙ্গা সংকট, আগামী জাতীয় নির্বাচন, মানবাধিকার পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক উন্নয়নসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে কথা বলেন মার্ক গ্রিন। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সব সময় গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে বড় করে দেখে। এ দৃষ্টিকোণ থেকেই বাংলাদেশের আগামী জাতীয় নির্বাচন অংশগ্রহণমূলক ও অবাধ দেখতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। যেখানে দীর্ঘমেয়াদি গণতান্ত্রিক রীতি এবং সুশাসন থাকে সেখানে অন্যান্য ক্ষেত্রে যেমন অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও অগ্রগতি হয়, উন্নয়ন প্রক্রিয়া স্থিতিশীল হয়। একটি অর্থবহ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে গণতান্ত্রিক রীতি সমুন্নত হয়।গ্রিন আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি প্রশংসনীয়। তবে মানবাধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন আছে। বিচারবহির্ভূত হয়রানি, সাংবাদিকদের বিতর্কিত আইনে গ্রেপ্তার, বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীদের আইনি হয়রানি— অনেক বিষয়ে অভিযোগ ও প্রশ্ন আছে। মানবাধিকার নিশ্চিত না হলে, বিতর্কিত আইনের প্রয়োগ হলে সুশাসন প্রশ্নের মুখে পড়ে। তিনি বলেন, মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে বাংলাদেশ প্রশংসনীয় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এ সংকটের সমাধান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনেও চ্যালেঞ্জ। দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাষ্ট্র প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখবে। পরে মার্ক গ্রিন রাষ্ট্রদূত মার্শা বার্নিকাটকে নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হকের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। এ সময় তিনি বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের পাশে আছে। তিনি কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের জন্য আরও ৪৪ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থ সহায়তা দেওয়ার কথা জানান। এ নিয়ে এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র রোহিঙ্গাদের ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা দিচ্ছে বলেও জানান তিনি।