অংশগ্রহণই বড় প্রাপ্তি সৌদি আরবের

স্পেন দলের খেলোয়াড় যোগান দেয় কোন কোন ক্লাব? চোখ বন্ধ করে উত্তর হবে রিয়াল মাদ্রিদ এবং বার্সেলোনা। স্পেনের সেরা দুই ক্লাবের সেরা ফুটবলার নিয়ে স্পেন দল। পক্ষে বিপক্ষে খেলার দরুণ তারা এক অপরকে ভালে বোঝে। সৌদির ক্ষেত্রেও ব্যাপারটা ঠিক একই রকম। দেশের সেরা দু্ই ক্লাব আল আহলি এবং আল হিলালে খেলে দেশের সেরা ফুটবলাররা। এই দুই দল থেকে ১৮ জন আছেন সৌদি আরবের ২৩ সদস্যের দলে। আশা বলতে গেলে সৌদির এইটুকুই। না হলে, ফুটবল ইতিহাস সমৃদ্ধ নয় দেশটির। বিশ্ব ফুটবলে বড় কোনো সাফল্য নেই। তবে ফুটবল মহাযজ্ঞে খেলতে পারাটাই সৌদি আরবের জন্য বড় প্রাপ্তি। ইতিহাস ঘাটলেই স্পষ্টভাবে ফুটে উঠবে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটির অবস্থা। ১৯৯৪ বিশ্বকাপে প্রথম অংশগ্রহণ করেই দ্বিতীয় রাউন্ডের টিকিট কেটেছিল দ্য গ্রিন ফ্যালকন্সরা। এরপর টানা তিনটি বিশ্বকাপ খেলে এশিয়ার অন্যতম সেরা একটি দলের তকমা লেগে যায় সৌদির গায়ে। তবে প্রথম রাউন্ডের গণ্ডিতেই থেমে গিয়েছিল সৌদির যাত্রা। ২০০৬ সালের পর হারিয়ে যায় তারা। পরের দুই বিশ্বকাপের টিকিটই কাটতে পারেনি আরব এ রাষ্ট্রটি। দেশটির ফুটবলে নেমে আসে অশনিসংকেত। ১২ বছর পর আবারও বিশ্বকাপে সৌদি। অনভিজ্ঞ দল, প্রত্যাশাও বেশি নেই। তাদের নিয়ে কেউ ভবিষ্যদ্বাণী করেননি। প্রাপ্তি শুধু এটুকু, ১৪ জুন বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে রাশিয়ার বিপক্ষে খেলবে তারা।এশিয়ার অন্যতম সেরা দলের একটি ধরা হয় সৌদি আরবকে। টানা চারবার এশিয়ান কাপের ফাইনালে ওঠা সৌদি চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ১৯৮৮ ও ১৯৯৬ সালে। ২০০৭ সর্বশেষ এই আসরে রানার্সআপ হওয়ার পর হারিয়ে যায় তারা। জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে টক্কর দিকে ব্যর্থ মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। রাশিয়া বিশ্বকাপ বাছাইপর্বেও কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়তে হয়েছিল সৌদি আরবকে। এশিয়ান অঞ্চলে গ্রুপ 'বি' থেকে জাপানের পর দ্বিতীয় স্থান অর্জন করে তারা। অস্ট্রেলিয়ার সঙ্গে সমান ১৯ পয়েন্ট হলেও গোল গড়ে এগিয়ে থাকায় সরাসরি বিশ্বকাপের টিকিট কাটে হুয়ান অ্যান্তোনিও পিজির দল। শেষ ম্যাচে জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়েই স্বপ্নের বিশ্বকাপে জায়গা করে নেয়।কিন্তু বিশ্বকাপে এই সৌদি আরবকে নিয়ে বড় কোনো স্বপ্ন দেখছেন না সমর্থকরা। এক বছরের মধ্যে তিনবার কোচ বদল করেছে সৌদি। তবে খেলোয়াড়দের মধ্যে বোঝাপড়াটা আছে, কারণ বেশিরভাগই ঘরোয়া লীগের সেরা দুটি দলের। কিন্তু বড় দুর্বলতা হলো দলটা অনভিজ্ঞ। কারোরই বিশ্বকাপ খেলার অভিজ্ঞতা নেই এবং নতুন কোচ পিজিও ফুটবলারদের নিয়ে একসঙ্গে বেশিদিন কাজ করতে পারেননি। গত নভেম্বরে সৌদি আরবের দায়িত্ব পান তিনি। সৌদি আরব (ডাক নাম দ্য গ্রিন ফ্যালকন্স)র‌্যাংকিং: ৬৭গ্রুপ পর্বের ফিকশ্চারসৌদি আরব-রাশিয়া, ১৪ জুন, রাত ৯টাসৌদি আরব-উরুগুয়ে, ২০ জুন, রাত ৯টসৌদি আরব-মিসর, ২৫ জুন, রাত ৮টাইতিহাসবিশ্বকাপে অংশগ্রহণ (৫)চ্যাম্পিয়ন: নেই,           রানার্সআপ: নেই,          সেমিফাইনাল: নেই,          কোয়ার্টার ফাইনাল :নেইদ্বিতীয় রাউন্ড :১৯৯৪ (১২তম),     প্রথম রাউন্ড: ১৯৯৮ (২৮তম),      ২০০২ (৩২তম),      ২০০৬ (২৮তম)বিশ্বকাপে সৌদি আরবম্যাচ-১৩      জয়-২        ড্র-২         হার-৯গোল (পক্ষে) ৯      গোল (বিপক্ষে) ৩২